ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গণপিটুনিতে দুই ব্যক্তির নিহত হওয়ার ঘটনাকে পুরনো ফ্যাসিবাদী কায়দায় বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্যাতনের সঙ্গে তুলনা করে জাতীয় নাগরিক কমিটি বলছে, প্রক্টোরিয়াল বডি কোনোভাবে এর দায় এড়াতে পারেন না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপস্থিতিতেই পুরনো ফ্যাসিবাদী কায়দায় নির্যাতন করে প্রক্টোরিয়াল বডির কাছে হস্তান্তর এবং পরবর্তীতে থানায় পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে। ৫ই আগস্টের পরও এমন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে ফ্যাসিবাদী হাসিনার পতন হলেও ফ্যাসিবাদী কাঠামো ও ব্যবস্থা এখনও বহাল তবিয়তে আছে। বৃহস্পতিবার কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে হত্যাকাণ্ডের সময় এই দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন নীরব ও নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালনের নিন্দা করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, জাতীয় নাগরিক কমিটি মনে করে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও ‘মব-ভায়োলেন্সে’র মত সব ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা ও উপাদানের শিগগরিই বিলোপ করতে হবে এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের সূচনা করতে হবে। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয় এবং সব অপরাধের বিচারের দায়িত্ব আদালতের। যারা আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে তারা অপরাধ করছে এবং দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। দেশজুড়ে লিঞ্চিং, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মাজার ও মন্দিরে হামলা-ভাঙচুর জনমনে আতঙ্ক তৈরি করছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জানান দিচ্ছে বলেও মনে করে জাতীয় নাগরিক কমিটি। সংগঠনটি বলেছে, জাতীয় নাগরিক কমিটি আত্মপ্রকাশের দিন থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদাসীনতা এবং বিভিন্ন হামলার পরেও যথাযথ আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে এ ধরনের মব-ভায়োলেন্সের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম গণপিটুনিতে জড়িতদের চিহ্নিত করেছে এবং নেতৃত্বে ছাত্রলীগের সাবেক পদধারী নেতাদের দেখা যাচ্ছে। এই দুই হত্যাকাণ্ডে যে ব্যক্তিরাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদেরকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি তুলেছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল প্রশাসনের অকার্যকর, নিষ্ক্রিয় ভূমিকার জবাবদিহি চেয়েছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। নতুবা অচিরেই গণঅভ্যুত্থানের শক্তি দেশের আপামর জনতার স্বার্থকে সুরক্ষিত করতে রাজপথে সক্রিয় কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

