ঢাকাWednesday , 11 September 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু: পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা

Link Copied!

রাজধানীতে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার উৎপাত বেড়েই চলছে। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো কিছু চোখে পড়ছে না। ওষুধ ছিটানো এবং জনগনের মধ্যে দিকনির্দেশনার প্রচার এক প্রকার বন্ধই বলা চলে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে পাচঁ জনের, হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৩৪ জন। এর আগের দিন ১ জনের মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬২৫ জন। এরই সারা দেশে এবছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে একশ’র বেশী মানুষ। যা চলতি বছরের একদিনে সবচেয়ে বেশী আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা। এ মাসে ১০ দিনে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের এবং আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৪ হাজার। এ হিসাবে গড়ে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ৪০০। আক্রান্তদের মধ্যে রাজধানীর দুই সিটি কপোর্রেশন এলাকায় ১৯৯, ঢাকা বিভাগে ৯০, চট্টগ্রাম বিভাগে ১১৩, খুলনায় ৫৯, ময়মনসিংহে ১৭ ও বরিশালে ৩৭ জন। চলতি বছর জানুয়ারি থেকে এখ নপর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১৭ হাজারের মতো। এদের মধ্যে ৬৬ দশমিক ১ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৩ দশমিক ৯ শতাংশ নারী।
যদিও গতবারের মেয়ররা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ বা মশকনিধনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেননি। বছরের পর বছর কোটি কোটি টাকা খরচ দেখালেও মশার কামড় থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে পারেননি। সাধারণত জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বর—এই কয়েক মাস ডেঙ্গুর জন্য উচ্চঝুঁকি থাকে। এই সময়ে বৃষ্টি হয়, মশার প্রজননের জন্যও উপযুক্ত তাপমাত্রা থাকে। সাধারণত মশা প্রজননের জন্য উপযুক্ত তাপমাত্রা হচ্ছে ২৫ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।আমাদের দেশে এর প্রতিরোধে প্রতি মহল্লায় সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধির মাধ্যমে ফগার মেশিনে ওষুধ ছিটানো হয়ে থাকে। এতে এর বিস্তার কিছুটা হলেও কমে। কিন্তু এবার সিটি কপোর্রেশন কাদের মাধ্যমে একাজগুলো সম্পন্ন করবে তা জানা নেই। কারণ পতিত সরকারের নিয়োগকৃত জনপ্রতিনিধিরা নানা অপরাধের সাথে জড়িত থাকায় ইতোধ্যে এরা সবাই পগার পাড়। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এব্যাপারে কতটুকু মনোযোগি তা পরিস্কার নয়। যদিও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ওষুধ ছিটানো এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মত নানা পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। কিন্তু সেসবের কার্যকারিতা নিয়ে যেমন প্রশ্ন রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে মশা মারার ওষুধ আনা এবং বিতরণ নিয়ে নানা রকম সমালোচনাও রয়েছে। এ মৌসুমে ডেঙগু প্রতিরোধে সরকারের পক্ষ থেকে কি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে তা দৃশ্যমান নয়। পাড়া মহল্লায় এখনও সচেতনামূলক প্রচার বা দেয়া হচ্ছে না কীটনাশকও। সরকারের উচিৎ এখনই রোগ প্রতিরোধে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া। এ বিষয়ে জরুরী পদক্ষেপ গ্রহন না করলে অন্তর্বর্তি সরকারের প্রতি জনগণের আস্থার ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান মশাবাহিত অন্য রোগ নিরাময়ে সক্ষম হলেও প্রাণঘাতী ডেঙ্গু নিরাময়ে অক্ষম। কোন শিশু ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে তার যন্ত্রণা দেখে পিতা-মাতা কতটা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন একমাত্র ভুক্তভোগী ছাড়া কারও তা উপলব্ধি করার উপায় নেই। তাই ডেঙ্গুতে ভয় খুব বেশিই হয়। ডেঙ্গু মশা বা এডিস মশা খালি চোখে দেখা অতি কষ্টকর ব্যাপার। ডেঙ্গু মশা এতোটাই ভয়ঙ্কর যে, এর দংশনে প্রচন্ড কম্প দিয়ে জ্বর উঠে। সহসা জ্বর ছাড়তে চায় না। ক্রমান্বয়ে মানুষ মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়। মনে হতে পারে যে, ডেঙ্গু মশার মধ্যে জীবাণু রয়েছে। যেমন বিষধর সাপে রয়েছে বিষ। কিন্তু প্রকৃত ঘটনা কিন্তু তা নয়। মশার নিজের মধ্যে কোন জীবাণু নেই। এটা বাহক মাত্র। রোগাক্রান্ত ব্যক্তির দেহে দংশন করে জীবাণু সংগ্রহ করে এবং তা অন্যের দেহে ছড়ায়।
শরীর বিজ্ঞানীদের মতে, ডেঙ্গু জ্বর একটা ভাইরাসজনিত রোগ। ভাইরাসের নাম গ্রুপ ‘বি’ আরবো ভাইরাস। এই ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপ রয়েছে। আরবো ভাইরাস বহনকারী মশার নাম এডিস মশা। এই মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়। এই ভাইরাস বহনকারী স্ত্রী জাতীয় এডিস মশা যখন কোন সুস্থ ব্যক্তিকে কামড়ায় তখন তার দেহে এই ভাইরাস প্রবেশ করে এবং ওই ব্যক্তি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন। সাধারণত মশা কামড়ানোর ৫ থেকে ৬ দিনের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ প্রকাশ পায়। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীকে কামড়ানোর ৮ থেকে ১২ দিন পর এডিস মশা এই রোগ ছড়াতে পারে এবং এই মশা তার জীবনকালের বাকী সময়ের জন্যও এই ভাইরাস ছড়াতে পারে।
শরীরে লালচে আভা ও ফুসফুড়ি বা র‌্যাশ দেখা যায়। চোখেও লালচে হয়ে যায়। কখনও কখনও শরীরের অভ্যন্তরে অত্যধিক রক্তরণ হয় এবং রোগীর অবস্থা দ্রুত অবনতির দিকে যেতে থাকে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এ অবস্থাকে ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার বলে। তখন ব্লাড প্রেসার অনেক কমে যায়। রক্ত পরীক্ষায় দেখা যায় শ্বেতকণিকা অনেক কমে গেছে। রক্তের অণুচক্রিকা বা প্লাটিলেটও অনেক কমে যায়। সাধারণ টিসি, ডিসি পরীক্ষায় এগুলো বোঝা যায়। প্লাটিলেট দেখার সর্বোত্তম পন্থা হলো প্রথমে সেল কাউন্টিং মেশিনে এবং পরে মাইক্রোস্কোপে দেখার ফলাফল তুলনা করা। রক্তে এই ভাইরাস সনাক্ত করার জন্য ইমিউনোলজিক্যাল পরীক্ষা করা যায়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এই পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না। অনেক রোগী না বুঝে ব্যয়বহুল ইমিউনোলজিক্যাল পরীক্ষা নিজেরাই করেন। যা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া করা উচিত নয়।
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে শরীর অনেকটাই দুর্বল হয়ে যেতে পারে। ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ দেখা দিলে বা ডেঙ্গু ধরা পড়লে দিনে অন্তত তিন লিটার পানি পান করতে হবে। সেইসঙ্গে খেতে হবে তাজা ফলের রস, ডাবের পানি, আখের রস ইত্যাদি। সেই সঙ্গে খেতে হবে মাছ ও ডিম, মুরগির মাংস, শাকসবজি। খাবার স্যালাইন পান করুন একটু পরপর। ডেঙ্গু জ্বর হলে প্যারাসিটামল খাওয়া যাবে। স্বাভাবিক ওজনের একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রতিদিন সর্বোচ্চ আটটি প্যারাসিটামল খেতে পারবে। কিন্তু কোনো ব্যক্তির যদি লিভার, হার্ট এবং কিডনি–সংক্রান্ত জটিলতা থাকে, তাহলে প্যারাসিটামল সেবনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে গায়ে ব্যথার জন্য অ্যাসপিরিন, ক্লোফেনাক, আইবুপ্রোফেন–জাতীয় ওষুধ খাওয়া যাবে না। ডেঙ্গুর সময় এ–জাতীয় ওষুধ গ্রহণ করলে রক্তক্ষরণ হতে পারে।
শর্করা, প্রোটিন ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ সাধারণ খাবার বন্ধ করা যাবে না। স্বাস্থ্যসম্মতভাবে ঘরে বানানো খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন। প্রচুর পরিমাণে তরল জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে।
শরীরের পানির ঘাটতি পূরণ করতে হবে। ডেঙ্গু হলে অনেক সময় শরীরে প্রচুর পানির ঘাটতি তৈরি হয়। ডাবের পানি এক্ষেত্রে অনেক উপকারী হতে পারে। ডাবের পানিতে প্রচুর পরিমাণে ইলেক্ট্রোলাইট ও পুষ্টি থাকে। লেবুর পানি ভিটামিন সির খুব ভালো উৎস। এটি শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদান বের করে দিতে সাহায্য করে। অনেক ক্ষেত্রে আদা পানি গ্রহণেরও পরামর্শ দেওয়া হয়। কারণ এটি অনেক ডেঙ্গু রোগীর বমি বমি ভাব মোকাবিলায় সহায়তা করে। কখনও কখনও শরীরের পানিশূন্যতা পূরণে ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন (ওআরএস) গ্রহণের পরামর্শ দেন ডাক্তাররা। এটি শরীরে অত্যাবশ্যক পটাসিয়াম সরবরাহ করে।