দুর্নীতির বরপুত্র তিন ভাই এখনও বহাল তবিয়তে। স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার আস্থাভাজন সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী ফারুক খানের দাপট দেখিয়ে ৩ ভাই সিভিল এভিয়েশনে রাম রাজত্ব কায়েম করেন। তাদের প্রভাব ও ক্ষমতার কাছে অনেকেই ছিলেন অসহায়। ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাননি। তবে গত ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার গণ অভুত্থানে স্বৈরশাসক হাসিনা সরকারের পতনের পর এখন অনেকেই তাদের দুর্নীতির ব্যাপারে মুখ খুলছেন। আলোচিত ৩ ভাইয়ের মধ্যে বড় ভাই হারুন অর রশীদ-সহকারি পরিচালক (স্টোর), মেঝো ভাই শাহিন আহমেদ, সহকারি পরিচালক-(এয়ার ট্রান্সপোর্ট ম্যানেজমেন্ট) এবং ছোট ভাই স্বপন-ফায়ার অপারেটর (এফওডি) ফায়ার শাখায় কর্মরত। সূত্র জানায়, নিয়োগ বিধি অনুযায়ী তাদের যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে চাকরি নামক সোনার হরিণ বাগিয়ে নেন তারা। যে কারণে তাদের আর পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি। দুর্নীতির মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক এখন ৩ ভাই। সূত্র জানায়, ৩ ভাই সমান তালে দুর্নীতিতে সিদ্ধহস্ত। বড় ভাই হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে রয়েছে অভিযোগের পাহাড়। তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে স্টোর শাখার একই চেয়ারে ১৭ বছর কর্মরত ছিলেন। এ কারণে তিনি নানা অনিয়ম এবং দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। হারুন অর রশীদের দুর্নীতির তথ্য কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে তাকে সিলেট বিমান বন্দরে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়। কিন্তু সাবেক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী কর্ণেল (অবঃ) ফারুক খানের নির্দেশে বিশাল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তাকে ঢাকাস্থ সিভিল এভিয়েশনের সদর দপ্তরে বদলি করে আনা হয়। এখানে বদলি হয়ে আসার পর দুর্নীতিবাজ সহকারি পরিচালক হারুন অর রশীদের ক্ষমতার দাপট আরও বেড়ে গেছে। তিনি এখন প্রতিবাদকারীদের বৃদ্ধাঙ্গলি দেখাচ্ছেন। অন্যদিকে দুর্নীতিবাজ সহকারি পরিচালক হারুন অর রশীদের মেঝো ভাই শাহিন আহমেদও এক্ষেত্রে কম এগিয়ে নন। তিনি বিমান বন্দর ব্যবস্থাপক হিসেবে সৈয়দপুর বিমান বন্দরে দায়িত্বকালীন সময় ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিমান বন্দর এলাকায় প্রায় ৫০টি দোকান বরাদ্দ দেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রত্যেকটি দোকান থেকে ৩ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতীত তিনি নিজে দোকান বরাদ্দ পত্র জারি করেন এবং নিজেই চুক্তিনামায় স্বাক্ষর করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসীর মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হলে তারা বিক্ষোভ করেন দুর্নীতিবাজ ব্যবস্থাপক শাহিন আহমেদের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। অভিযোগের সত্যতাও পান তদন্তকারী দল। আটকে দেওয়া হয় তার ইনক্রিমেন্ট। শাস্তিমূলক বদলি করা হয় সিলেট বিমান বন্দরে। এছাড়াও বিমান বন্দরে থাকাকালীন ব্যবস্থাপকের কোডে আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল ক্রয়ের যে অর্থ আসতো সেই মালামাল ক্রয় না করে তিনি সমুদয় অর্থ আত্মসাৎ করেন। নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সত্যতা মিললেও দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা এখনও নেয়নি সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ (সিএএবি)। যে কারণে সচেতন মহলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে ধুরন্ধর ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা শাহিন আহমেদ তার সহযোগিদের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের ফাইল এবং তদন্তের ফাইল গায়েব করে দিয়েছেন।এ নিয়ে বিপাকে পড়েছে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ (সিএএবি)। অন্যদিকে ছোট ভাই স্বপন ফায়ার অপারেটর হিসেবে সিভিল এভিয়েশনের ফায়ার শাখায় কর্মরত। তিনিও দুর্নীতিতে বেশ হাত পাকিয়েছেন। তার বিরুদ্ধেও নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সূত্র জানায়, তারা ৩ ভাই এখন শতকোটি টাকার মালিক। রাজধানীর কাওলা এলাকায় বেশ কয়েকটি আলিসান ও বিশাল বহুল ফ্ল্যাট রয়েছে তাদের। এছাড়া নামে বেনামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদও অর্জন করেছেন তারা। সিভিল এভিয়েশনে ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কয়েকজন ব্যবসায়ী এবং সিএএবি’র কর্মকর্তা ও কর্মচারিগণ নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, তারা ৩ ভাই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। যে কারণে কাউকে পাত্তা দেন না তারা। অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে তাদের মোবাইল ফোনে যােগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি।

