বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানী ভাটারায় সোহাগ মিয়া (১৬) নামের এক কিশোরকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক হুইপ আ স ম ফিরোজকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেরা মাহবুব এই আদেশ দিয়েছেন। এদিন দ্বিতীয় দফা রিমান্ড শেষে ফিরোজকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। অন্যদিকে তার আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেরা মাহবুবের আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে গত ২৩শে আগস্ট রাতে ঢাকার বনানী এলাকা থেকে ফিরোজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ২৪শে আগস্ট আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে আদালত তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর সাত দিনের রিমান্ড শেষে গত ৩১শে আগস্ট তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার রহস্য উদঘাটনে একই মামলায় তার ফের ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মাসুদুর রহমান। এসময় আসামিপক্ষ রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তার ফের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলা সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গত ১৯শে জুলাই বিকালে ভাটারা থানাস্থ ফরাজী হাসপাতালের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সোহাগ মিয়া। এ ঘটনায় ২০শে আগস্ট তার বাবা শাফায়েত হোসেন ভাটারা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৯১ জনকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় আ স ম ফিরোজকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে নামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এ আন্দোলন নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার’ সম্বোধন করলে প্রতিবাদে দেশব্যাপী আন্দোলনের ডাক দেন শিক্ষার্থীরা। ওই আন্দোলন প্রতিহত করতে শিক্ষার্থীদের দমন করার ঘোষণা দেন আসামিরা। ফলে গত ১৯শে জুলাই বিকেলে ভাটারা থানার ১০০ ফিট রোডের ফরাজী হাসপাতালের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ মিছিলে সরকারি নির্দেশনায় গুলিবর্ষণ করলে সোহাগ মিয়ার বাম কানের মধ্যে লেগে মাথার পেছন দিয়ে গুলিটি বের হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।

