আওয়ামী লীগের শমী কায়সারের প্রতিষ্ঠান ধানসিঁড়িকে মাত্র ৬০ লাখ টাকায় শাহজালাল বিমানবন্দরে একটি লাউঞ্জ ভাড়া দেওয়া হয়েছে। শমী কায়সার সেটি ২ কোটি ৬০ লাখ টাকায় একটি ব্যাংককে ভাড়া দিয়েছেন। মাসে তার নিট ইনকাম হচ্ছে ২ কোটি টাকা। এই বরাদ্দ বাতিল না করে আগস্ট মাসের ১৪ তারিখে পুনরায় নবায়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া দোকান, লাউঞ্জ, পার্কিং, বিলবোর্ডসহ বিভিন্ন সেক্টরে বরাদ্দ দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েও কাজ না করার অভিযোগ এনে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) উপ পরিচালক (এয়ারড্রোম) সাধন কুমার মহন্তকে অবরুদ্ধ করে তার অপসারণ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা। গত ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে বেবিচকের সদস্য, অপারেশনের দপ্তরে এ ঘটনা ঘটে। সেদিন কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে বিক্ষোভকারীরা ফিরে গেলেও গতকাল পর্যন্ত ঘুষের টাকা ফেরত পাননি ভুক্তভোগীরা।
জানা গেছে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কুরিয়ার সার্ভিসের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বেবিচকের ভাড়া উঠানোর নামে লাখ লাখ টাকা আদায় করে আত্মসাৎ করায় ৩০-৩৫ জন কুরিয়ার সার্ভিসের ব্যবসায়ীর তোপের মুখে পড়েন সম্পত্তি বিভাগের উপপরিচালক (এয়ারড্রোম) সাধন কুমার মহন্ত। গত ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে ব্যবসায়ীরা বেবিচকের সদস্য, অপারেশনের পক্ষে তাদের কাছ থেকে ভাড়া বাবদ টাকা আদায় করে ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করায় মহন্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এ সময় বেবিচকের সদস্য, অপারেশন মহন্তকে ডেকে পাঠান। তাকে দেখে ব্যবসায়ীরা উত্তেজিত হয়ে গালাগাল করতে থাকেন, একপর্যায়ে মারতে উদ্যত হন।
কুরিয়ার সার্ভিসের ব্যবসায়ীরা বেবিচকের সদস্য, অপারেশনকে জানান, আমাদের থেকে প্রতিষ্ঠানের ভাড়া বাবদ লাখ লাখ টাকা নিয়ে মহন্ত মেরে দিয়েছেন। আমরা তার বিচার দাবি করছি। ডিডি মহন্তর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে ব্যবসায়ীরা শান্ত হন। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, গত ১০ বছর ধরে একই দায়িত্বে আছেন মহন্ত। তার সিন্ডিকেটে আরও কয়েকজন আছেন। তারা বিমানবন্দরের বিলবোর্ড, লাউঞ্জ, দোকান, কার পার্কিং বরাদ্দে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। আওয়ামী সরকারের সময়ে অল্প টাকা ইজারা নেওয়া ব্যক্তিদের ইজারা পুনঃনবায়ন করা হচ্ছে। গত সরকারের আমলে ই-ক্যাব থেকে পদত্যাগী শমী কায়সারের প্রতিষ্ঠান ধানসিঁড়িকে মাত্র ৬০ লাখ টাকায় শাহজালালে একটি লাউঞ্জ ভাড়া দেওয়া হয়েছে। শমী কায়সার সেটি ২ কোটি ৬০ লাখ টাকায় একটি ব্যাংককে ভাড়া দিয়েছেন। মাসে তার নিট ইনকাম হচ্ছে ২ কোটি টাকা। এই বরাদ্দ বাতিল না করে আগস্ট মাসের ১৪ তারিখে পুনরায় নবায়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের মেয়ের জামাই নায়ক মাহফুজের প্রতিষ্ঠান নকশিকাঁথা এবং সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের ভাতিজা আওরঙ্গের ইননোভা প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর কোনোটারই বরাদ্দ বাতিল না করে একটার পর একটা নবায়ন করা হচ্ছে। এ ছাড়া থার্ড টার্মিনালেও দোকান বরাদ্দের নামে দোকান প্রত্যাশীদের কাছ থেকে দোকান প্রতি অগ্রিম ৩ লাখ টাকা করে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মহন্ত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে সাধন কুমার মহন্ত বলেন, একটি মহল অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার জন্য আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

