নিজস্ব প্রতিবেদক : হরতাল-অবরোধের বিষয়ে আইনগত বিধি-নিষেধ চেয়ে এফবিসিসিআইসহ চারটি ব্যবসায়ী সংগঠনের করা রিটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাইকোর্ট। এ রিটটিকে রিটকারী আইনজীবী জনস্বার্থে দায়ের করা রিট বললেও আদালত বলছেন রিটটি আদৌ জনস্বার্থে নয়।
রোববার ব্যবসায়ীদের সংগঠন এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিটিএমইএ এবং বিকেএমইএ হরতাল-অবরোধের ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ এবং ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিটটি দায়ের করেন।
রিটের বিষয়ে ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘হরতাল গণতান্ত্রিক অধিকার, কিন্তু অবরোধকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, সে মর্মে রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে রিটে। একইসঙ্গে হরতালের ওপর আইনগত বিধি-নিষেধ আরোপ করার ক্ষেত্রে সরকারের নিষ্ক্রীয়তাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, আগাম নোটিশ না দিয়ে হরতাল আহ্বান করাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, ক্রেডিট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর (সিআইবি) তালিকা স্থগিত করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, হরতাল-অবরোধে ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারের ফান্ড থেকে ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, ব্যাংক সুদ মওকুফ করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না এবং ১২ বছরের জন্য সব ঋণ পুণঃতফসিল করার নির্দেশ কেন দেয়া হবে না মর্মে রিটে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে।’
সরকার, স্বরাষ্ট্র সচিব, অর্থ সচিব, বাংলাদেশ ব্যংকের গভর্নর এবং প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলকে বিবাদী করা হয়েছে রিটে।
রিট দায়েরের পর প্রাথমিক শুনানিতে রিটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। কোনো সংগঠন আলাদাভাবে সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে রিট করতে পারে কিনা সে বিষয়েও জানতে চেয়েছেন আদালত। প্রাথমিক শুনানি শেষে রিটের ওপর পরবর্তী শুনানির জন্য সোমবার দিন ধার্য করেছেন আদালত।
প্রাথমিক শুনানিতে চারটি সংগঠনের পক্ষে রিট দায়ের করা আইনজীবীকে উদ্দেশ করে আদালত বলেন, ‘আপনি বলছেন এটা জনস্বার্থে, কিন্তু আপনার পার্টিগুলো অর্থনৈতিকভাবে নিজেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সুতরাং জনস্বার্থে রিট করা হয়েছে বলে তো আপনি সব শেষ করে দিলেন।’
আদালত বলেন, ‘সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সবকটি অনুচ্ছেদে শুধুমাত্র নাগরিকদের কথা বলা হয়েছে। কোনো সমিতির কথা বলা নেই। কোনো সমিতিরই মৌলিক অধিকার নেই। তবে সমিতির সদস্যদের মৌলিক অধিকার আছে। এখানে আবেদনকারী সংগঠন হলো সমিতি। তাদের মৌলিক অধিকার নেই। কোনো সমিতি স্বতন্ত্রভাবে রিট করতে পারে না, তবে অন্য কারো সঙ্গে যুক্ত হয়ে আসতে পারে।’
আদালত আরো বলেন, ‘আপনাদের ক্ষতি হচ্ছে, শুধুমাত্র ব্যালেন্স শিট দিয়ে তো আর জনস্বার্থে রিট হবে না। সুতরাং আমরা দুঃখিত। এখন আপনি আদেশ নেবেন না কি উত্থাপিত হয়নি মর্মে আরো ভালো করে প্রস্তুতি নিয়ে আসবেন?’ আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট কামরুল হক সিদ্দিকী।

