আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বাংলাদেশ থেকে তো বটেই, সারা বিশ্ব থেকেই ইতালির দিকে ছুটে যায় অভিবাসী মানব-স্রোত। দেশের বাইরে কাজের জন্যে দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকার একটি বৃহৎ অংশের প্রথম পছন্দ ইতালি। এর ‘চূড়ান্ত খেসারত দিতে হচ্ছে এখন দেশটিকে’ এমন অভিযোগ করেছেন দেশটির ডানপন্থী বিরোধী দল নর্দার্ন লিগ। তাদের ভাষ্য, ভুল অভিবাসননীতির কারণে দেশটির আর্থসামাজিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে তো বটেই, সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকিও বেড়েছে দেশে।
নর্দার্ন লিগের নেতা মাত্তেও সালভিনি শনিবার তার সমর্থকদের নিয়ে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ সফল করে তোলেন। রাজধানী রোমের সবচেয়ে বড় চত্বর পিয়াজা দেল পোপোলো-এ জড়ো হয় তার সমর্থকেরা। সেখানে সরকারবিরোধী বক্তব্য রাখেন মাত্তেও সালভিনি। তবে তার সমাবেশ থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরেই তার বিরুদ্ধে পাল্টা আরও একটি বিক্ষোভ সমাবেশ পালিত হয়। ঐ সমাবেশ বর্তমান বামপন্থী প্রধানমন্ত্রী মাত্তেও রেনজির সমর্থনে অনুষ্ঠিত হয়। তাতে প্রণোদনা যোগায় বামপন্থী দলগুলোসহ জাতিবিদ্বেষবিরোধী সংগঠন ও সমকামী-অধিকার সংরক্ষক সংগঠনগুলো।
মাত্তেও রেনজির প্রশাসনের প্রতি মাত্তেও সালভিনির অভিযোগগুলো জানা যাক। সালভিনি বর্তমান রেনজি প্রশাসনকে ভুল অভিবাসন নীতি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বার্থরক্ষা এবং ব্রাসেলসের চাটুকারিতায় দায়ে অভিযুক্ত করেন। অভিবাসন বিষয়ে তিনি সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে ইতালি আসতে গিয়ে ভূমধ্যসাগরে জলডুবিতে সহস্রাধিক মানুষের সলিল সমাধি ঘটেছে। তারপরও থামানো যাচ্ছে না অভিবাসনমুখী স্রোত। সালভিনি বলেন, ‘এর জন্যে দায়ী ত্রুটিপূর্ণ অভিবাসননীতি।’
এছাড়া তিনি লিবীয় চোরাচালানকারীদের কর্মকাণ্ডের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। অনেক দেশ থেকে দরিদ্র মানুষ এসে লিবীয় উপকূলে জমা হয় এবং সেখানকার দালালদের হাতে বিপুল অর্থ প্রদান করে ইতালির পথে পাড়ি জমায়। ঐ ভিড়েই ফাঁক বুঝে ঢুকে পড়ছে সাম্প্রতিক ত্রাস ইসলামি বিপ্লবী দলগুলোর সদস্যেরা, যারা পরবর্তীতে দেশের অভ্যন্তরে নানামুখী নাশকতায় তৎপর হচ্ছে। সালভিনি ভবিষ্যত ইতালির রাজনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তিনি ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বার্থ রক্ষার জন্যে লালায়িত’ বলে রোম সরকারকে আখ্যা দেন। তার ভাষ্য- রোমানিয়ার ট্রাক, শুল্ক, ব্যাংক এবং বড় ধরনের বাণিজ্যিক খাতগুলোয় ইতালির স্বার্থ বিনষ্ট করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্তাব্যক্তিদের ও সংশ্লিষ্ট দেশের কল্যাণের পথে দালালের মতো কাজ করছে রেনজি প্রশাসন। এ বিষয়ে তার রয়েছে বিশেষায়িত একটি মত। তিনি বলেন, ‘মূলত রেনজি কোনো সমস্যা নন। তিনি তো সামান্য গুটিমাত্র, একজন ক্রীড়ানক। ওনাকে পুতুলের মতো নাড়ানো হচ্ছে ব্রাসেলস থেকে (বেলজিয়ামের রাজধানী; ইইউ-র কেন্দ্র)। ব্রাসেলসের সামান্য চাকর ছাড়া আর কিছুর মতো আচরণ করছেন না রেনজি।’
সালভিনি একটি পরিবর্তিত ইতালির স্বপ্ন দেখান উপস্থিত জনতাকে। যেখানে ব্যাংক কোনো বাড়তি মুনাফা লোটার সুযোগ পাবে না। লাভবান হবে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ীরা। বড় কোনো বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ব্রাসেলসের লবিং-এ অন্য ইউরোপীয় দেশের দিকে ঘুরে যাবে না, এবং অভিবাসন নীতি হবে সংশোধিত। বাইরের মানুষ এসে এখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারবে না। মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে সালভিনি-বিরোধী বিক্ষোভের স্লোগান ছিল, ‘সালভিনির সঙ্গে? কখনও নয়!’

