ঢাকাThursday , 8 August 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তৃতীয় দিনের মতো রাস্তার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে শিক্ষার্থীরা

Link Copied!

ছাত্র-গণআন্দোলনে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর পুলিশের প্রতি জনরোষ তীব্র আকার ধারণ করে। এ অবস্থায় পুলিশের চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে। সরকারের পদত্যাগের পর উর্ধ্বতন সব পুলিশ অফিসার আত্মগোপনে চলে যায় এবং কর্মবিরতি ঘোষণা করে। রাজধানীর সব থানা এখন পুলিশ শূন্য। এছাড়া রাজধানীর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণেও নেই কোন পুলিশ। এমন অবস্থায় রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও যানজট নিরসনে কাজ করছেন তারা। গত তিনদিন ধরে পুলিশের অনুপস্থিতিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে শিক্ষার্থীদের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করায় সড়কে যানবাহন চলাচল অনেকটাই গতি ও স্বস্তি ফেরে সাধারণ মানুষের মধ্যে। তাদের এই সেবামূলক কাজ সব মানুষের কাছেই প্রশংসিত হচ্ছে।
ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীরা সড়ক ও আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত জায়গাগুলো পরিষ্কার করছেন। শিক্ষার্থীদের এই ভূমিকায় সাধারণ মানুষ প্রশংসা করছেন। পথচারীরা তাদের বাহবা দিচ্ছেন। দেশব্যাপী ট্রাফিক পুলিশের অনুপস্থিতিতে তরুণ শিক্ষার্থীরা সারাদেশে ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় অন্যন্য নজির সৃষ্টি করেছে বলে যাত্রী কল্যাণ সমিতি জানিয়েছে।
টানা তৃতীয় দিন অর্থাৎ গতকালও রাজধানীর সড়কে ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকায় রয়েছেন শিক্ষার্থী ও অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল সড়কে দেখা গেছে, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবীরা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছেন। রাজধানীর মগবাজার, ওয়্যারলেস, মৌচাক, শান্তিনগর, আবুল হোটেল, পল্টন মোড়, গুলিস্তান-জিরোপয়েন্ট সড়কে এমন চিত্রই দেখা গেছে।সরেজমিনে দেখা যায়, সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, স্কাউটসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। রাস্তায় সিগন্যালের পাশাপাশি তারা ফুটপাতে হাঁটা, নির্দিষ্ট স্থান থেকে গাড়িতে ওঠানামা ও গণপরিবহনগুলো নির্দিষ্ট স্থান থামার নির্দেশনা দিচ্ছেন। নিয়ম মেনে চলতে মানুষ ও গাড়িচালকদের বাধ্য করছেন। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি তারা মানুষকে নিয়মশৃঙ্খলা শেখাচ্ছেন।
রাজধানীর মগবাজার মোড়ে রয়েছেন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও শিক্ষার্থীসহ ১০ জন। সেখানে সমন্বয়ক রাকিবুল আলম জয় বলেন, আমরা আনন্দ সহকারে কাজ করছি। রেড ক্রিসেন্ট থেকে আগেও ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করেছি। সেই অভিজ্ঞতা এখন কাজে লাগছে। মানুষ কিছুটা বিরক্তবোধ করছে। কিন্তু আমরা চাই সর্বোচ্চ শৃঙ্খলা আসুক। মানুষ কিছুটা শিখে গেলে পরে এই ধারা বজায় থাকবে।
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী শাহিন বলেন, যতদিন না ট্রাফিক পুলিশ আসে আমরা রাস্তায় থাকবো। সিগন্যালের পাশাপাশি গাড়িগুলো যেন লাইন ধরে চলে সেটা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। আমাদের কষ্ট হচ্ছে তারপরও ভালো লাগছে মানুষকে সচেতন করা যাচ্ছে এটা ভেবে। অভিজ্ঞতাও হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের এই ভূমিকায় খুশি পথচারী ও গণপরিবহনের চালকরা। তারা জানান, পুলিশ নেই কিন্ত সড়কে বিশৃঙ্খলা নেই। শিক্ষার্থীরা কাজ করে যাচ্ছে। খুব বেশি যানজট তৈরি হচ্ছে না।অনেক স্থানে শিক্ষার্থীদেরকে সাধারণ মানুষ পানি ও খাবার দিতেও দেখা গেছে।
ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি গত বুধবার থেকে শিক্ষার্থীরা সড়কের আবর্জনা পরিষ্কার ও দেয়াললিখন মুছে পরিচ্ছন্ন করার কাজ করছে। গতকালও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে শত শত শিক্ষার্থীকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে দেখা গেছে। তাঁরা গ্লাভস হাতে দিয়ে কোথাও সড়ক ঝাড়ু দিয়েছেন। কোথাও আবর্জনা কুড়িয়ে বস্তায় ভরেছেন। আবার শিক্ষার্থীদের অনেকে দলে দলে ভাগ হয়ে বিভিন্ন এলাকার দেয়াল ও সড়কদ্বীপে লেখা স্লোগান মুছে ফেলে আগের চেহারায় নিয়ে আসতে কাজ করছে। এ ছাড়া অনেক স্থানে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয়ও পাহারা দিতে দেখা গেছে।