কোটা সংস্কার দাবিতে আন্দোলন চলাকালে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে জড়িত দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। একই সঙ্গে তারা দেশের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে সেনাবাহিনী মোতায়েনসহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদক্ষেপের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। শনিবার (২৭ জুলাই ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘সাংবাদিকদের প্রতিবাদ সমাবেশে’ এ সমর্থন জানানো হয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাংবাদিক ফোরাম এ সমাবেশ আয়োজন করে। সাংবাদিক নেতারা ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের নিন্দা জানান। সভাপতির বক্তব্যে ফোরামের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, আন্দোলন চলাকালে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। জানমাল রক্ষায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান তিনি। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে অর্জিত স্বাধীনতাকে যারা মেনে নিতে পারেনি, তারাই এ নারকীয় হামলা করেছে।’
সাংবাদিক নেতা মনজুরুল আহসান বুলবুল আন্দোলন চলাকালে হত্যাকাণ্ড, সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতন এবং সারাদেশে ভাঙচুরের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনে গুরুত্ব আরোপ করেন।
বিএফইউজে (একাংশ) সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, ‘কোটা আন্দোলন চলাকালে বিএনপি-জামায়াতের চালানো ধ্বংসযজ্ঞ পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ। আন্দোলনকারীরা নিজেদের রাজাকার উল্লেখ করাই আমরা স্তম্ভিত হয়েছি। মূলত ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর জেনারেল জিয়াউর রহমান রাজাকারদের জেল থেকে মুক্তি দেওয়ায়, আজ আন্দোলনকারীদের পক্ষে এমন স্পর্ধা দেখানো সম্ভব হয়েছে।’
সমাবেশে আরও বক্তৃতা করেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন এমপি, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব আব্দুল জলিল ভূঁইয়া, সাংবাদিক নেতা আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া, ডিইউজে সভাপতি সোহেল হায়দার চৌধুরী, সম্পাদক ফোরামের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রতন, ডিআরইউ সভাপতি সৈয়দ শুকুর আলী শুভ, ডিইউজের সিনিয়র সহসভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু, বঙ্গবন্ধু সাংবাদিক পরিষদের সদস্য সচিব মোহাম্মদ আবু সাঈদ প্রমুখ।

