বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) এ নানা প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতি স্থায়ী রুপ নিয়েছে। অদক্ষ প্রশাসনিক কাঠামোর দায়সারা দায়িত্ব পালনের নজির সৃষ্টি হয়েছে সরকারী এই দপ্তরে। ফাইল অপারেটিং সিস্টেম ডিজিটালাইজেশন হলেও কর্মকর্তাদের সঠিক দক্ষতা না থাকায় তারা প্রশাসনিক কর্মকান্ডে তালগোল পাকিয়ে ফেলছেন। ফলে সরকার যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে এই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা ও অর্থ ব্যয় করছে সে লক্ষ্য অর্জিত হচ্ছে না। বরং সরকারী টাকার বেসুমার অপচয় হচ্ছে। কিছু অসাধু কর্মকর্তা নানা কৌশলে নিজেদের পকেট ভারি করছেন। অপরদিকে প্রশাসনিক কর্মকান্ডে কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নেই বললেই চলে। তারা শত প্রকার অপরাধ করেও পার পেয়ে যাচ্ছেন। শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে তাদেরকে বার বার সতর্ক করা হলেও তারা সেটি কর্ণপাত করছেন না। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বিকাশে এবং বেকার যুব ও নারী সমাজের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার বহুমুখি পদক্ষেপ নিলেও বিসিকের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার কারণে তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। দুই বছর পর পর এই দপ্তরে অতিরিক্ত সচিব পদ মর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হলে তিনিও দুর্নীতির স্রোতে গা ভাসিয়ে দেন। যে কারণে প্রতিষ্ঠানটি মাথা তুলে দাঁড়াতে পারছে না। বরং দিন দিন দুর্নীতির মহাসমুদ্রে তলিয়ে যাচ্ছে।
সম্প্রতি এই প্রতিষ্ঠানের ২ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে ইচ্ছাকৃত ভুল তথ্য প্রদান, স্বেচ্ছাচারিতা, দায়িত্ব ও কর্তব্যে অবহেলা এবং অদক্ষতার অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে চেয়ারম্যানের দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে। একই সাথে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিন্তু দীর্ঘ এক মাস অতিবাহিত হলেও বিসিক কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে কোন প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। বিষয়টি শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবের নজরে আনলে তারা এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট জমা দানের নির্দেশ দেন। যার শিল্প মন্ত্রণালয় পত্র স্মারক নং ৩৬.০০.০০০০.০৬৫.২৭.০০৯.১৯.২০৮ তারিখ ৪ জুন ২০২৪ ইং।
অভিযুক্ত কর্মকর্তারা হলেন: কর্মী ব্যবস্থপনা শাখার ব্যবস্থাপক মো: নাজমুল হোসেন এবং কর্মী ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো: আরিফ হোসেন। তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অসাদাচরণ, সরকারী দায়িত্ব পালনে অবহেলা, কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের স্বার্থ বিনষ্টকরণ, কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থকরণ,সরকারের প্রচলিত নিয়ম নীতির বত্যয় ঘটিয়ে সরকারী দপ্তরে অসন্তোষ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে শিল্প মন্ত্রণালয় এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে বিভ্রান্তকর মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে বিভাগীয় নিয়োগ কমিটি ও পদন্নোতি কমিটির সদস্যদের বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে ফেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। এই অপরাধ প্রমাণিত হলে তারা চাকুরীচ্যুতির মত গুরুতর বিভাগীয় শাস্তি পেতে পারেন।
এ দিকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের প্রেক্ষিতে প্রায় একমাস পর গত ৭ জুলাই ২০২৪ ইং তারিখে বিসিক কর্তৃপক্ষ পরিচালক (বিপনন) মো: আবু নাসের খানকে আহবায়ক ও লবন সেল প্রধান সরোয়ার হোসেনকে সদস্য করে ২ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। যার স্মারক নং ৩৬.০২.০০০০.০৪০.২৭.০০৮.২২/
এ ছাড়া যে দুই কর্মকর্তার সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে সেটি নিয়েও তাদের আপত্তি রয়েছে। তারা জানান, তদন্ত কমিটির সদস্য লবন সেল প্রধান মো: সরোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে কর্মকর্তাদের পক্ষাবলম্বন, সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতি , জাতির পিতার ছবি ও জাতীয় শ্লোগান জয়বাংলা অবমাননা সহ বিসিক ভবনে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বিসিক কর্মচারি ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রতিবাদ সভা , স্মারক লিপি প্রদান ও লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জাতীয় পত্র পত্রিকায় সংবাদও প্রকাশ হয়েছে। তার মত একজন আওয়ামী লীগ বিদ্বেষী কর্মকর্তাকে দিয়ে তদন্ত করা হলে সেটি গ্রহনযোগ্য ও নিরপেক্ষ হবে না বলে তারা মনে করেন। তাই সুশাসন ও আইনের শাসন বাস্তবায়নে এবং সরকারী দায়িত্ব পালনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করণে অভিযুক্ত দুইজন কর্মকর্তাকে অন্যত্র বদলী করে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তারা বিসিক চেয়ারম্যান ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

