সকাল ১১টা। মৌমাছির মতো চারদিক থেকে জড়ো হতে থাকে শিক্ষার্থীরা। মূল শহরের সাতমাথা অংশে আসতেই পুলিশের এ্যাকশন শুরু। সাতমাথা অংশ থেকে সড়ে গিয়ে বগুড়ার সবগুলো রাস্তা দখলে নেয় আন্দোলনকারীরা। তখন থেকেই গুলি, টিয়ারশেল, রাবার, বুলেট, কাদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড, ছুড়ছে পুলিশ। শব্দ আর ধোয়ায় পুরো শহরে টিকে থাকা দায়। আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষে ইতোমধ্যেই শতাধিক আহতের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ৫৬ কে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ২ জন পুলিশ সদস্যও রয়েছে। পুলিশের দুজনের একজনের নাম সার্জন জিয়া।
তার মোটরসাইলকেলে আগুন ধরিয়ে দেয় আন্দোলনকারীরা। এসময় ওই পুলিশের গায়ের পোশাক খুলে লাঠির অগ্রভাবে বেঁধে ঘুরায় শিক্ষার্থীরা।
সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বেলা ১১টায় বগুড়ার বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধভাবে লাঠিসোটা হাতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে শহরের সাতমাথার দিকে অগ্রসর হয়। শিক্ষার্থীদের একাংশ বেলা সোয়া ১১টার দিকে সাতমাথায় আসলে পুুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আটক করতে দেখা যায়। এর কিছুক্ষণ পরে বিভিন্ন দিক থেকে আবারও শিক্ষার্থীরা সাতমাথায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। এ সময় পুুলিশ তাদের সরে যেতে বললে তারা উত্তেজিত হয়। পুলিশ তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল ছুড়ে। এ সময় শিক্ষার্থীরা নিরাপদ দূরত্বে গিয়ে পাল্টা ইটপাটকেল ছোড়ে। এরপর থেকে সাতমাথা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বেলা ১১টার দিকে শুরু হওয়া শহরের সাতমাথায় পুলিশের সাথে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ এখনো চলছে।
এদিকে বগুড়া সরকারি আজিজুল কলেজ, কলোনী, বনানী এলাকায় শিক্ষার্থীদের সাথে পুুলিশের সংঘর্ষ চলছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, বেলা ১১টার আগ পর্যন্ত বগুড়ায় মোটামুুটি যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক ছিলো। শহরের ভেতর দোকানপাটও খোলা ছিলো। তবে বর্তমানে সাতমাথা ও এর আশপাশের এলাকা প্রায় জনশূন্য। দোকানপাটও বন্ধ। ট্রেন এবং সড়ক পথ অবরুদ্ধ। আন্দোলকারীরা এখন ( বিকেল সাড়ে চারটা) বগুড়া সদর থানার পশ্চিম এবং উত্তর পার্শের রাস্তাগুলো দখল করে আছে। সেই সাথে শহরের জেলখানা, পৌরসভা এলাকাতেও অবস্থান করছে আন্দোলনকারীরা। দুপুরে ঘন্টাখানেক খাবার বিরতি ছিলো। তার পর আবারো রাস্তা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্নিগ্ধ আকতার বলেন, অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক টিম মাঠে রয়েছে।

