ঢাকাSaturday , 28 February 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মসুল জাদুঘর ধ্বংস: যুদ্ধাপরাধে ফাঁসবে আইএস

Link Copied!

isis-mosul-museum-destructi

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রাচীন সভ্যতার সূচনা লগ্ন যে বিশেষ স্থানগুলোর কাছে কৃতজ্ঞ হয়ে আছে তাদের একটি ইরাক। ইরাকে সমৃদ্ধ প্রাচীন সভ্যতাসমূহের উন্মেষকালে অসাধারণ সব শিল্পকর্ম আত্মপ্রকাশ করেছিল, যেগুলো প্রায় পাঁচ থেকে দুই হাজার বছর ধরে মানুষ বংশানুক্রমে বা সরকার-অনুক্রমে সংরক্ষণ করে আসছে। যখন তা আইসিসের অধিকারে এসে পড়েছে, তখন হিসেব পুরোপুরি উল্টে গেছে ।
সম্প্রতি মানুষ হত্যা ছাড়াও আরও যে কাজটির জন্যে ব্যাপক সমালোচিত হচ্ছে ইসলামিক স্টেট তার একটি হলো এসব প্রাচীন নিদর্শন ধ্বংসকরণ। এ কারণে জাতিসংঘের ইউনেস্কো তাদের যুদ্ধাপরাধে সাব্যস্ত করতে পারে। ইসলামিক স্টেট অতিসম্প্রতি নতুন একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে সবসময়কার মতোই দম্ভ সহকারে তারা তাদের বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে। অমূল্য প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থাপনার ধ্বংসযজ্ঞের প্রথম শিকার হচ্ছে তাদের অধীকৃত মসুলের জাদুঘর। মসুলকে ইসলামিক স্টেটের রাজধানী জ্ঞান করা হচ্ছে।
গুরুত্ব ও আয়তনের দিক থেকে মসুলের স্থান প্রাচীন সমৃদ্ধ নগরী বাগদাদের পরই। সেখানকার অত্যন্ত সমৃদ্ধ জাদুঘরটিতে বড়সড় হাতুড়ি নিয়ে ঢুকে পড়ে অমূল্য শিল্পকর্মগুলোকে এলোপাতাড়ি আঘাতে ভাঙতে দেখা যায় আইসিস সদস্যদের। এ বিষয়ে আইসিসের ভাষ্যও পরিষ্কার। ‘ওগুলো মিথ্যে বানোয়াট সব চরিত্র। গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে যাওয়াই ওগুলোর ভবিতব্য।’ এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বুলগেরিয়ার সাবেক সাংসদ ও ইউনেস্কোর বর্তমান মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা।
তিনি এ ধরনের ‘কালচারাল ক্নিনজিং’ দেখে বিস্মিত ও মর্মাহত বোধ করছেন। তার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক ইলিয়ানর রবসন। প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর এক সম্মেলনে ইরিনা বোকোভা জানান, এটা তার জন্যে এতোখানি আঘাতকারী ছিল যে তিনি এমনকি পুরো ভিডিওটিও দেখতে পারেননি। আরও জানান, ‘পূর্বপুরুষের অমূল্য শিল্পকর্মের স্মৃতি যা মানবতার রীতিমতো গর্বের বস্তু, সেগুলোর ওপর এমন অনাচারে তিনি আতঙ্কিত বোধ করছেন।
ইরিনা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের নীতিমালার সাপেক্ষে জানায়, ঐতিহাসিক স্থান-সাংস্কৃতিক স্থাপনা ধ্বংস যুদ্ধাপরাধের আওতাভুক্ত। তিনি অপরাধ আদালতেকে এ বিষয়ে একটি তদন্ত সেল খোলার আহ্বান জানান। তিনি আরও জানান, এ অমূল্য এ শিল্পকর্মগুলোর এখনও যেসব অবশিষ্ট আছে, সেগুলোকে বাঁচাতে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়গুলোকে একীভূত করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন।
এদিকে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে ফ্রান্সের প্যারিসে অবস্থিত বিখ্যাত ল্যুভর জাদুঘর। জাদুঘর কর্তৃপক্ষ তাদের ভাষ্যে জানায়, ‘ধ্বংসের এই নতুন ধারা পৃথক ধরনের সন্ত্রাসবাদের ইঙ্গিত বহন করে। যে শিল্পগুলোকে ধ্বংস করা হচ্ছে সেগুলো মানব সভ্যতার উত্তরণ ও সমৃদ্ধির প্রামাণ্য দলিল এবং ইতিহাস।’ ভিডিওতে দেখা যায়, আইসিস যোদ্ধারা বড় ধরনের হাতুড়ি ও ড্রিল মেশিন দিয়ে ঐতিহাসিক কাঠামোগুলো ধ্বংস করছে।