প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধীনে ১৩ ক্যাটাগরীর (৩য় শ্রেনীর) মোট ৬৩৮টি পদে নিয়োগে প্রদানের জন্য বিগত ১৭ এপ্রিল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারী করে কর্তৃপক্ষ। ৬৩৮টি পদের জন্য সমগ্র দেশ হতে মোট ১ লক্ষ ২০ হাজারের মত আবেদন জমা পড়ে এবং বাছাইয়ের পর ১ লক্ষ ৬ হাজার ৬শ’ প্রার্থীর বিপরীতে প্রবেশপত্র জারি করা হয়। নোটিশানুযায়ী ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন মোট ৩৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসকল প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।সূত্র মতে, মোট ১৩ ক্যাটাগরীর পদের মধ্যে ক্যাশিয়ার, অফিস সহকারী কাম কমপিউটার মুদ্রাক্ষরিক, ল্যাবরেটরী টেকনিশিয়ান( নিম্ন স্কেল), স্টোর কিপার, সহকারী স্টোর কিপার/সহকারী গুদাম রক্ষক পদ সমূহের জন্য প্রাক-নির্রাচনী পরীক্ষা এবং ড্রাইভার, ড্রাইভার (ট্রাক্টর), মিল্ক ভ্যান ড্রাইভার, ট্রাক ড্রাইভার, ড্রাইভার (ট্রলি), ড্রাইভার লরি, পিকআপ ড্রাইভার, ড্রাইভার পাম্প/পাম্পচালক পদের জন্য লিখিত পরীক্ষা আগামী ১৯ জুলাই শুক্রবার সকাল ১০ টা হতে সকাল ১১ টা পর্যন্ত ঐ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেয়া হবে। অধিদপ্তরের নোটিশানুযায়ী ক্যাশিয়ার, অফিস সহকারী কাম কমপিউটার মুদ্রাক্ষরিক, ল্যাবরেটরী টেকনিশিয়ান (নিম্ন স্কেল), স্টোর কিপার, সহকারী স্টোর কিপার/সহকারী গুদাম রক্ষক পদ সমূহের জন্য একই প্রশ্নে এবং ড্রাইভার, ড্রাইভার (ট্রাক্টর), মিল্ক ভ্যান ড্রাইভার, ট্রাক ড্রাইভার, ড্রাইভার (ট্রলি), ড্রাইভার লরি, পিক আপ ড্রাইভার, ড্রাইভার পাম্প/পাম্পচালক পদের জন্য অপর একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়া হবে। যদিও নিয়োগ বিধি অনুযায়ী এ সকল পদের জন্য ভিন্ন শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ রয়েছে। যেমন ক্যাশিয়ার পদের জন্য শুধুমাত্র উচ্চমাধ্যমিক/সমমানের পরীক্ষায় পাশ হলেই চলবে। আবার ল্যাবরেটরী টেকনিশিয়ানের বেলায় উচ্চ মাধ্যমিক (বিজ্ঞান) ২য় বিভাগে পাশ হতে হবে আর অন্যান্য পদের জন্য ন্যুনতম ২য় বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ হতে হবে। অন্যদিকে ড্রাইভার (পাম্প) এবং পাম্প চালকদের শিক্ষাগত যোগ্য মাধ্যমিক স্কুল সাটিফিকেট (ভোকেশনাল) পাশ এবং অন্যান্য চালকদের শিক্ষাগত যোগ্য জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পাশের কথা বলা হয়েছিল কিন্তু উভয় পদেই এক ও অভিন্ন প্রশ্নে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এখানে বিজ্ঞান বিভাগ, ৩য় শ্রেণী, ২য় শ্রেণী এবং মাধ্যমিক ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকের বেলায় কোন পার্থক্য রাখা হয়নি।এ বিষয়ে অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে মোবাইল ফোনে এ ধরনের অনিয়মের বিষয়ে মতামত জানতে চাওয়া হলে তিনি পরিচালক প্রশাসনের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। পরিচালক (প্রশাসন) ডাঃ মলয় শূরের নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি সরাসরি কোন জবাব না দিয়ে জানান, এ বিষয়ে জনবল নিয়োগ কমিটি রয়েছে এবং নিয়োগ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যাবতীয় প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি জানান সকল পদই ১৬ গ্রেডের।আলোচ্য বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি শাখার একজন উর্ধ্বতন কর্মকতার সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, ৮ম শ্রেণী পাশ আর এসএসসি পাশের চাকুরীর প্রার্থীর ক্ষেত্রে একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়ার কোন সুযোগ নেই (বেতন গ্রেড একই হলেও) ।অন্য দিকে উচ্চ মাধ্যমিক বিজ্ঞান বিভাগের পদের চাকুরী (নির্দিষ্ট হলে) ও উচ্চ মাধ্যমিক মানবিক বিভাগে পাশ প্রার্থীর চাকুরীর পরীক্ষা (পদের ধরন ভিন্ন হলেও) একই প্রশ্নে হওয়া সঠিক নয়।অন্যদিকে বর্তমানে দেশে কোটা সংস্কারের আন্দোলন চলছে এবং বিষয়টি বর্তমানে উচ্চ আদালতের বিবেচনাধীন রয়েছে বিধায় নিয়োগ পরীক্ষা আপাততঃ স্থগিত রাখার জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটি বিগত ১৫ জুলাই অনুষ্ঠিত সভায় সুপারিশ করলেও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বিষয়টিকে আমলে না নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়ে অনড় রয়েছে। অধিদপ্তরের অনেক কর্মকর্তার প্রশ্নঃ মানবিক বিভাগে ৩য় শ্রেণীতে উচ্চ মাধ্যমিক পাশের ক্যাশিয়ার পদে এবং বিজ্ঞান বিভাগে ২য় শ্রেণীতে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ ল্যাবরেটরী টেকনিশিয়ান পদের পরীক্ষা একই প্রশ্ন হয় কিভাবে? এছাড়া অন্য পদে ৮ম শ্রেণী পাশ ও মাধ্যমিক পাশের বেলায়ও একই প্রশ্নে পরীক্ষা হওয়া গুরুতর অনিয়ম। অনেকের অভিমত নিয়োগ কমিটির সভাপতি পরিচালক প্রশাসন ডাঃ মলয় শূর একজন ধুরন্ধর ব্যক্তি। তিনি কোন নিয়ম কানুন জানেন না বা মানেন না। তিনি ব্যস্ত আছেন মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের কাজে। এছাড়া প্রশ্ন পত্র তৈরীর প্রক্রিয়া, খাতা দেখার প্রক্রিয়া এবং হল ভাড়ার প্রক্রিয়ার কোথাও কোন স্বচ্ছতা নেই বলেও অনেকের অভিমত। এখানে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা তচ্ছরুপ এবং শত কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের পাঁয়তারা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনা কামনা করেছেন সচেতন মহল।

