ঢাকাTuesday , 16 July 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিক্ষোভে উত্তাল দেশ: নিহত ৬ :
ঢাকা, চট্টগ্রাম, বগুড়া ও রাজশাহীতে বিজিবি মোতায়েন

Link Copied!

কোটা সংস্কার আন্দোলনে বিক্ষোভে উত্তাল সারাদেশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্নস্থানে ছাত্রলীগের হামলা ও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। শাহবাগ, মতিঝিল, নিউমার্কেট, মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে। ফলে বাসসহ গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে মূলত অচল হয়ে পড়ে রাজধানী। এছাড়াও চট্রগ্রাম, রাজশাহী, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ছাত্রলীগের হামলা ও পুলিশের গুলিতে সারাদেশে ৬ জন নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ঢাকায় দুইজন, চট্টগ্রামে তিনজন ও রংপুরে একজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুইজন শিক্ষার্থী, একজন পথচারী ও বাকি তিনজনের পরিচয় জানা যায়নি।
ঢাকা: রাজধানীর ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজ এলাকায় কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে অজ্ঞাতপরিচয় দুই যুবক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেলে আহত অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এছাড়াও চানখারপুলে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ৪জন শিক্ষার্থীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এদিকে চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা, চট্টগ্রাম, বগুড়া ও রাজশাহীতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা, চট্টগ্রাম, বগুড়া ও রাজশাহীতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
জানা গেছে মঙ্গলবার দেশব্যাপি সংঘষেয় ৬জন নিহত এবং শত শত শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ এবং রক্তাক্ত হয়ে হাসপাতালে কাতরাচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুরে রংপুরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) এক শিক্ষার্থী। তার নাম আবু সাঈদ। তিনি বেরোবির ইংরেজি
বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।
একই সময়ে চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। তিনজন মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন। তাদের মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রয়েছে। এ ঘটনায় আরও সাতজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানান পরিচালক।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার উত্তম কুমার পাল বলেন, ছাত্রলীগ ও কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষে এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। তবে তিনি কোন পক্ষের তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার সাইফুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, নিহতদের একজন চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী। আরেকজন পথচারী। কলেজ শিক্ষার্থীর শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন ছিল না। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল থেকে আমরা মৃত্যুর তথ্য পেয়েছি। তবে পুলিশ কোথাও বলপ্রয়োগ করেনি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় এক যুবককে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার কানের নিচে ও মুখের বিভিন্ন জায়গায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
রাজধানীর ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজ এলাকায় কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে অজ্ঞাতপরিচয় দুই যুবক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেলে আহত অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
টানা দুই ঘণ্টা সংঘর্ষ, রণক্ষেত্র সায়েন্সল্যাব: সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের কর্মীদের টানা দুই ঘণ্টা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব এলাকায়। এ সময় সিটি কলেজ থেকে সায়েন্সল্যাব ও টিটার্স ট্রেনিং কলেজের সামনের এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।
মঙ্গলবার দুপুর ২টা থেকে নিয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই সংঘর্ষ চলে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে ঢাকা সিটি কলেজের সামনে অবস্থান নেন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। এ সময় তারা সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেন।
শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেন ধানমন্ডি ২নং সড়কের চার রাস্তার মোড়, ধানমন্ডি ১নং সড়কের চার রাস্তার মোড়, সিটি কলেজের উত্তরের পাশের সিগন্যাল পয়েন্ট, এলিফ্যান্ট রোডের (ড. কুদরত এ খুদা সড়ক) প্রবেশমুখ ও সায়েন্সল্যাবের সামনে।
দুপুর দুইটা নাগাদ ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নিজ ক্যাম্পাসের সামনে অবস্থান নেন৷ এ সময় সংঘর্ষে জড়ায় উভয় পক্ষ৷
টিচার্স ট্রেনিং কলেজকে মাঝে রেখে কোটা আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের মধ্যে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট পাটকেল নিক্ষেপ। ধাওয়ার মাঝে ছাত্রলীগ কর্মীদের একাধিকজন আন্দোলনকারীদের হাতের নাগালে এলে তাদের বেধড়ক মারপিট করতে দেখা যায়৷ একই কাজ করতে দেখা গেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদেরও।
আন্দোলনকারীদের মাঝ থেকে সায়েন্সল্যাব পুলিশ বক্স, টিচার্স ট্রেনিং কলেজের ভবনের গ্লাস ও আশপাশের দোকানের সাটারে আঘাত করতে দেখা যায়৷ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা টিচার্স ট্রেনিং কলেজের ফুটপাতে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা বেশ কিছু চৌকি নিজেদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন। এতে চৌকিগুলো ভেঙে যায়৷
সংঘর্ষ চলাকালে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে অন্তত ১৫টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। তবে টানা দুই ঘণ্টার সংঘর্ষে প্রাথমিকভাবে বড় ধরনের কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি৷
এদিকে শিক্ষার্থীরা সড়ক বিভাজকের লোহার রেলিং ভেঙে তা লাঠি হিসেবে ব্যবহার করতে দেখা গেছে।
বিকেল সোয়া চারটা নাগাদ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নিউ মার্কেট এলাকা ত্যাগ করলে সংঘর্ষ থেমে যায়৷
রায়সাহেব বাজারে জবির ৪ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ
কোটা সংস্কারের দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর গুলির ঘটনায় আহত হয়েছেন ৪ শিক্ষার্থী।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে জবি থেকে কয়েক হাজার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা লাঠিসোটা হাতে নিয়ে রায়সাহেব বাজার অতিক্রম করার সময় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পুরান ঢাকার আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা এ গুলি বর্ষণ করেছে। এতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী ফেরদৌস, ১৭ ব্যাচের অন্ত, ১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী অনিকসহ ৪ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তাদের ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি জোনের এএসপি নজরুল বলেন, গুলির খবর শুনেছি। তবে আমরা এক গ্রুপই মিছিল করতে দেখেছি। অন্য গ্রুপ দেখিনি।
এর আগে, এদিন বিকেল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে স্ট্যাম্প, লাঠি নিয়ে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীরা ‘আন্দোলনে হামলা কেন? প্রশাসন জবাব চাই’; ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা; ‘দালালী না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকে।
এদিকে, জবি শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির উদ্দেশ্যে দুপর ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে বাসে করে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যায়। তবে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেওয়ায় পুরান ঢাকার স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের সামনে শোডাউন দিতে দেখা যায়।অন্যদিকে রাজধানীর কুড়িল, বসুন্ধরা, রামপুরা, আগারগাঁও, উত্তরাসহ বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।
বরিশাল বিএম কলেজে রণক্ষেত্র, ছাত্রলীগের হামলায় আহত ২৫ শিক্ষার্থী: সারাদেশে কোটা সংস্কারের কর্মসূচিতে সারাদেশে হামলার প্রতিবাদে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আগমুহূর্তে ছাত্রলীগের হামলায় বরিশাল বিএম কলেজের ২৫ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ক্যাম্পাসের মধ্যে এ হামলার ঘটনা ঘটায়। এসময় অর্ধশতাধিক ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ধারালো অস্ত্রসহ লাঠিসোটা, ব্যাট ও স্টাম্প দিয়ে হামলায় অংশ নেয়। এর আগে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাংশ ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল অবরোধ করে বিক্ষোভ করছিলো। সেখানে যোগ দিতে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে জড়ো হয়।
এরপর ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টসহ মাঠের মধ্যে দাঁড়ানো অবস্থায়, চলতি পথে, ক্লাস ও হোস্টেলে ঢুকে ছাত্রছাত্রীদের উপর হামলা চালানো হয়।
আহত শিক্ষার্থীদের কয়েকজন দৌঁড়ে নথুল্লাবাদে গিয়ে খবর দিলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা একযোগে ক্যাম্পাসে ঢুকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ধাওয়া দেয়। এসময় দুই বার দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টাধাওয়া হয়।
এ ঘটনায় ছাত্রলীগের এক কর্মীকে বেদম মারধর করলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ছাত্রলীগের ১০-১২ জন আহত হয়। এরপর থেকে কলেজের সামনের সড়কসহ লাঠিসোটা নিয়ে দিনের বিভিন্ন সময়ে দফায় দফায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিএম কলেজ শিক্ষার্থীরা।
এরপর বিকেলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে উঠে অবরোধ করে বিএম কলেজ শিক্ষার্থীরা। এসময় বিক্ষুব্ধরা একটি পুলিশ বক্স ভাংচুর করে। এতে এক পুলিশ কনস্টেবল আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে বরিশাল শের ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে গতকাল বিকেল ৪টা থেকে ঢাকা বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীরা। এতে বরিশালের সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে যায়।