ময়মনসিংহের ত্রিশালের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমামকে বরখাস্ত করাকে কেন্দ্র করে কমিটি ও মুসল্লিদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। ত্রিশালের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মুফতি মুফাজ্জল হককে বরখাস্ত করার জন্য গতকাল মসজিদ প্রাঙ্গণে মিটিংয়ের আহ্বান করলে উত্তেজিত মুসল্লিরা সেখানে অবস্থান নেয়। কমিটি ও মুসল্লিরা সরাসরি দ্বন্দ্ব জড়িয়ে পড়লে মারমুখী পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তৎক্ষনাৎ ত্রিশাল থানা পুলিশ এসে পরিবেশ শান্ত করার চেষ্টা করে। উত্তেজিত মুসল্লিরা কমিটি বয়কট ও কমিটি বাতিলের দাবিতে শ্লোগান দিতে থাকে।
ঘটনাস্থল থেকে জানা যায়, ত্রিশালের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মুফতি মুফাজ্জল হক দীর্ঘ দিন ধরে অত্র মসজিদের ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কমিটির কিছু সদস্য অন্যায়ভাবে তাকে মসজিদ থেকে বিতাড়িত করার চেষ্টা করতে থাকেন। মসজিদের সহ-সভাপতি ও বিএনপি নেতা আতাউর রহমান শামীম ও কমিটির গুটিকয়েক সদস্য পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৪ জুলাই রাতে মিটিং করার চেষ্টা করে।
বিএনপি নেতা শামীম স্থানীয় এমপি এবিএম আনিছুজ্জামানের মদদ ও প্ররোচনায় সাধারণ মুসল্লিদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে ইমামকে বরখাস্ত করার জন্য উঠে পড়ে লাগেন।
একাধিক মুসল্লিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ইমাম সাহেব যোগ্য ও ভালো মানুষ । আমরা তাকে চাই। কমিটির কিছু বাজে সদস্য তাকে অন্যায়ভাবে বরখাস্ত করার নীল নকশা করছে। আমরা এর প্রতিবাদে এখানে এসেছি। সাধারণ মুসুল্লিদের দাবি কি জানতে চাওয়া হলে তারা বলেন, ইমাম সাহেব থাকবে এবং কমিটি বাতিল করে দ্বীনদার ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি করতে হবে। প্রয়োজনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কমিটি হবে। এর অন্যথায় হলে আমরা আরও কঠোর আন্দোলন করবো। আতাউর রহমান শামীম উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ (দ:) জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডাঃ মাহবুবুর রহমান লিটনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শামীম বিএনপি নেতা কিন্তু তিনি যে কাজ করেছেন আমরাও এর নিন্দা জানাই। তার এ কাজের জন্য বিএনপির প্রতি সাধারণ মানুষের বিরূপ মনোভাব তৈরী হবে। তার এহেন ঘৃণ্য কাজের সাথে উপজেলা বিএনপির কোন সম্পৃক্ততা নেই।

