ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলি বর্বরতার মাত্রা বেড়েই চলেছে। আবারও তেল আবিবের ভয়াবহ বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৪১ ফিলিস্তিনি। এতে গত নয় মাসে গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি নৃশংস হামলায় নিহত হয়েছেন ৩৮ হাজার ৫৮৪ জন। যাদের বেশির ভাগ নারী এবং শিশু। হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানিয়েছে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু।
এতে বলা হয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিহতের পাশাপাশি গাজার বিশাল একটা সংখ্যা আহত হয়েছে। গত নয় মাসে আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৮ হাজার ৮৮১ জনে।
ইসরাইল গাজার যে অঞ্চলগুলোকে নিরাপদ জোন হিসেবে চিহ্নিত করেছিল সম্প্রতি ওই অঞ্চলগুলোতেই হামলা জোরালো করেছে তেল আবিব। রোববার দক্ষিণ গাজাসহ বেশ কয়েকটি মানবিক অঞ্চলে যুদ্ধবিমান থেকে বোমা নিক্ষেপ করেছে ইসরাইলি বিমান বাহিনী। এতে কমপক্ষে ১৪১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও চার শতাধিক। মন্ত্রণালয়টি জানিয়েছে এখনও বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে যাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। গত নয় মাসে গাজার যেসকল স্থাপনা গুড়িয়ে দিয়েছে ইসরাইল সব জায়গা থেকে চাপা পড়া মানুষদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, সেক্ষেত্রে হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা মন্ত্রণালয়ের। জাতিসংঘ বার বার তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একরোখা স্বভাবের ফলে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা এখনও প্রকট হয়নি।
খোদ ইসরাইলের অভ্যন্তরেও বেশ কয়েকজন মন্ত্রী নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। গাজা ইস্যুতে নেতানিয়াহু প্রশাসনের স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত না থাকায় তারা ক্ষোভ জানিয়েছেন। ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে গণহত্যার অভিযোগ তুলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। পরে আদালতের প্রধান কৌঁসুলি প্রসিকিউটর করিম খান ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং হামাস প্রধানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন। তবে তা এখনও কার্যকর হয়নি।

