নিজস্ব প্রতিবেদক : ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ গ্রহণ ও তা ব্যবহারের মাধ্যমে চাকরি জীবনে সুবিধা লাভের অভিযোগ উঠেছে খোদ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও যুগ্ম কর কমিশনার ড. এস এম জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ আমলে নিয়ে ইতিমধ্যে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এজন্য উপ-পরিচালক মো. নাসির উদ্দিনকে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
এর আগে অভিযোগটি যাচাই-বাছাই শেষে সোমবার এক বৈঠকে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। দুদক সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
দুদকে আসা অভিযোগে বলা হয়, ‘স্বঘোষিত বীর মুক্তিযোদ্ধা যুগ্ম কর কমিশনার (কর আপিল অঞ্চল-৪, ঢাকা) ড.এস এম জাহাঙ্গীর আলম । তিনি জালিয়তির মাধ্যমে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ সংগ্রহ করে তা দিয়ে চাকরি জীবনে সুবিধা ভোগ করছেন। মুজিব নগর সরকারের একজন কর্মচারি হিসেবে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেন তিনি।
জাহাঙ্গীর আলম প্রথমে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের কর বিভাগে অতিরিক্ত সহকারী কর কমিশনার হিসাবে নিয়োগ পান। পরে ১৯৯১ সালের ২ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা কোটা কাজে লাগিয়ে সরাসরি সহকারী কর-কমিশনার পদে পদোন্নতি লাভ করেন।
পরে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে তার বিরুদ্ধে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ গ্রহণের অভিযোগ আসলে তা আমলে নিয়ে ২০০২ সালের ১ জুলাই কুমিল্লা জেলা প্রশাসক বরাবর অনুসন্ধানের জন্য চিঠিও পাঠানো হয়। কিন্তু সেই অনুসন্ধান আর হয়নি।
এস এম জাহাঙ্গীর আলমের এসএসসি সার্টিফিকেট অনুযায়ী তার জন্ম তারিখ ১৯৫৫ সালের ১০ জুলাই। মুজিব নগর সরকারের সময় তার বয়স ছিল ১৬ বছরেরও কম। সে সময়েও চাকরিতে যোগদানের সর্বনিম্ন বয়স ছিল ১৮ বছর। সেই হিসেবে ওই বয়সে মুজিব নগর সরকারের আমলে তার চাকরি হওয়ার প্রশ্নই আসে না। এছাড়া মুজিব নগর সরকারের যে ৫০৯ জনের কর্মচারি তালিকা আছে সেখানেও তার নাম নেই।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ড. এস এম জাহাঙ্গীর আলম নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর সুবাধে বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে প্রথমে তিনি মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া চক্রের সাধারণ সম্পাদক হন। পরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভাইস চেয়ারম্যান, বর্তমানে তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া চক্রের সাধারণ সম্পাদক থাকা অবস্থায় ৪৭ লাখ ৬৮ হাজার ১৬৮ টাকা আত্মসাৎের প্রমাণ পায় তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো। পরে এ অভিযোগে ২০০২ সালের ২০ আগষ্ট দুর্নীতি দমন ব্যুরো বাদি একটি মামলাও দায়ের করে। ২০০৩ সালে হাইকোর্ট ওই মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে। বর্তমানে এ মামলার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, যুগ্ম কর-কমিশনার ড. এস এম জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি আমলে নিয়ে যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। এজন্য উপ-পরিচালক মো. নাসির উদ্দিনকে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে।

