প্রকাশ্যে কিবরিয়া ফিল্মস আর অন্তরালে অন্তর শোবিজ নামের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের টাকায় মুক্তিযুদ্ধের সাড়া জাগানো নৌকমান্ডো “অপারেশন জ্যাকপট” চলচ্চিত্র বানাচ্ছিল। কিন্তু কিছুতেই যেন এর শনির দশা কাটছে না। আগের বাঁধাগুলো বিপুল বিক্রমে এড়িয়ে গেলেও এবার শক্ত বাঁধায় পড়েছেন এর সাথে সংশ্লিষ্টরা।
সেই বাঁধা এমন যে, অনেক ঢাকঢোল পিটিয়ে, বিভিন্ন মুখরোচক হুংকার শুনিয়ে এতোদিন যে চিত্রধারণ করা হয়েছিল তা ফেলে দেয়া ছাড়া উপায় থাকছে না। কারণ, যেই সব গালগল্পের অবতারণায় চিত্রধারণ করা হয়েছে তা দারুণভাবে ক্ষুব্ধ করেছে সেই ইতিহাসের নায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নৌকমান্ডোদের।
একই সাথে আপত্তি তুলেছেন সংসদীয় কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: রফিকুল ইসলাম বীর বিক্রম এমপি এবং সংসদ সদস্যগণ।
এই অবস্থায় ছবির কাজ আপাতত বন্ধ রেখে চিত্রনাট্য ভালোভাবে মূল্যায়ন, সংশোধনসহ পুরো বিষয় মনিটরিং করতে চারটি পৃথক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কীত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
জানা যায়, গত ২৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদ ভবনে এ সম্পর্কিত এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংসদীর কমিটিসহ সভায় উপস্থিত ছিলেন একাত্তরের ১৫ আগষ্ট মধ্যরাতে মুক্তিবাহিনীর সেই বিধ্বংসী অপারেশনে অংশগ্রহণকারী নৌকমান্ডোরা।
সভার প্রথমেই চলচ্চিত্রের জন্য ধারণকৃত রাশ ফুটেজ দেখানো হয়। আর এটা দেখেই ক্ষেপে যান উপস্থিত নৌকমান্ডোরা।
এতে প্রকৃত ঘটনা এড়িয়ে ইচ্ছামত কাহিনী আমদানীর মাধ্যমে ইতিহাস বিকৃত করার প্রতিবাদ করেন নৌকমান্ডোরা।
সংসদীয় কমিটির উপস্থিত সদস্যরাও এতে ভয়ানক ইতিহাস বিকৃতি এবং কাজের অত্যন্ত নিম্নমান নিয়ে কড়া আপত্তি তোলেন। কেউ কেউ ছবি নির্মাণের সাথে জড়িত ব্যক্তিগণ এবং এর পরিচালকের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বলে জানা যায়।
অতঃপর এটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এবং মনিটরিং করতে ৪টি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করে সংসদীয় কমিটি।
সেই পর্যন্ত চলচ্চিত্রের সকল কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

