ঢাকাWednesday , 20 March 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

এলজিইডিতে শ্লীলতাহানির অভিযোগের পরও বহাল তবিয়তে উপসহকারী প্রকৌশলী আশরাফ

Link Copied!

* অনিশ্চয়তা আর শঙ্কায় চাকরি করছেন নারীরা
* অভিযোগের ৯ মাস পেরুলেও তদন্ত কার্যক্রম শেষ হয়নি
* অভিযোগের দায়ভার নিতে নারাজ কর্মকর্তারা

এলজিইডিতে শ্লীলতাহানীর অভিযোগের পরও বহাল তবিয়তে চাকরিতে কর্মরত রয়েছেন উপসহকারী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম। কর্মস্থলে নারী কর্মীকে যৌন হয়রানি ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে উপসহকারী প্রকৌশলী আশরাফুল আলমকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সদর দপ্তর থেকে রাঙামাটিতে স্ট্যান্ড রিলিজসহ বদলিও করা হয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতার দাপটে রাঙামাটিতে যোগদান না করে ঢাকায় অবস্থান করেন এবং বদলির আদেশ বাতিল করে পুনরায় ঢাকায় কর্মস্থলে থেকেই যান।
একই অফিসে বহাল তবিয়তে থেকেই যৌন নিপীড়নকারী উপসহকারী প্রকৌশলী আশরাফের ভয়ে অভিযোগকারিনী লায়লাসহ অনান্য নারী কর্মীরাও প্রতিনিয়ত আতংকে দিনযাপন করছে।
অভিযোগ রয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প একটি হরিলুটের প্রকল্প। কয়েকজন প্রভাবশালী পৌর মেয়র ও এই প্রকল্পের কয়েকজন দুর্নীতিবাজের নিয়ন্ত্রণে। পূর্বের প্রকল্প পরিচালক মো. মিজানুর রহমানের সীমাহীন ঘুষ দুর্নীতির দূর্গ তৈরি করে দুর্নীতির বরপুত্র হিসেবে খেতাব প্রাপ্ত হয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন দফায় দফায় তদন্ত করেও কখনও কোন প্রতিবেন দিতে পারেনি। তদন্তের দীর্ঘসুত্রতার সুযোগে উপপ্রধান প্রকৌশলীর প্রশ্নবিদ্ধ পদোন্নতি হাতিয়ে নিয়ে এই প্রকল্পের দুর্নীতি ঢেকে রাখতে মন্ত্রণালয়ে তদবির করে নিজেদের পছন্দ মতো দুর্নীতিবাজকে পিডি করে থাকেন। বর্তমান পিডিকে সাতক্ষীরা থেকে এই প্রকল্প পরিচালকের পদটি বাগিয়ে দেন। যদিও বর্তমান প্রকল্প পরিচালকের আগে এই প্রকল্পে ফরিদপুরে কর্মরত নির্বাহী প্রকৌশলীকে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। এলজিইডি’র প্রধান কার্যালয়ের একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একটি প্রকল্পে একজন পিডি নিয়োগের পরে মাত্র ১ মাসেরও কম সময়ে কাউকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া একটি বিরল ঘটনা।
অভিযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (২য় পর্যায়) প্রকল্প পরিচালকের দপ্তরে উপসহকারী প্রকৌশলী (আউটসোর্সিং) লায়লা জানান, ‘বিগত ১৫/১০/২০২১ ইং তারিখে প্রকল্প পরিচালকের নির্দেশে সাইট পরিদর্শনে যাওয়ার পর উপসহকারী প্রকৌশলী আশরাফ গল্প করার ছলে হোটেল রুমে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। মান সম্মানের ভয়ে বিষয়টি আমি গোপন রাখি। কিন্তু আশরাফ প্রতিনিয়তই আমাকে সাইটে নিয়ে যাওয়ার জন্য মানসিকভাবে চাপ সৃষ্টি করতো। আমাকে ব্ল্যাকমেইল করতে শুরু করে বাসায় অথবা রিসোর্টে নিয়ে যাওয়ার জন্য। তাছাড়া অফিসে আমার সাথে কৃতদাসের মতো আচরণ শুরু করে। পরবর্তীতে আমি উপসহকারী প্রকৌশলী আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে প্রধান প্রকৌশলী বরাবর লিখিত অভিযোগ জানাই। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে রাঙামাটি ও ফরিদপুরে বদলি করা হলেও তিনি ক্ষমতার দাপটে বদলির আদেশ দুইবারই বাতিল করে ঢাকায় থেকে যান। এ ঘটনায় পরপর দুইবার তদন্ত কর্মকর্তারা তাদের অপারগতা প্রকাশ করে তদন্তভার ছেড়ে দেয়ার পর বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শেখ মো. নুরুল ইসলাম বিষয়টি তদন্ত করছেন। বিগত ৯ মাসেও উক্ত ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। এ অভিযোগের পরও আশরাফ কর্মস্থলে বহাল তবিয়তে থাকায় আমিসহ অন্যান্য নারী কর্মীরা শঙ্কার মধ্যে কাজ করে যাচ্ছি। এভাবে যদি তদন্তে কালক্ষেপণ করা হয় তাহলে আমি ফৌজদারী আইনের সহায়তা নিতে বাধ্য হবো।’
এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক সুজায়েত হোসেন বলেন, শুনেছি গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (২য় পর্যায়) প্রকল্প পরিচালের দপ্তরে উপসহকারী প্রকৌশলী (আউটসোর্সিং) লায়লা প্রধান প্রকৌশলীর কাছে উপসহকারী প্রকৌশলী আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে বেশ জটিলতা দেখা যাচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়।
প্রকৌশলী নূরুল ইসলাম বলেন, ‘পিডি হিসেবে সুজায়েত সাহেব দায়িত্ব গ্রহণের পরই আমার সামনেই আশরাফ গং লায়লাকে মারধর করে জামা কাপড়ও ছিড়ে ফেলে। এ বিষয়টা অফিসের সবাই প্রত্যক্ষ করেছে।’
এ বিষয়ে শৃঙ্খলা ও তদন্ত শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছিল। ইতিমধ্যে তিনি সেই কারণ দর্শানোর লিখিত জবাব দিয়েছেন। এখন বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত দেবেন। ’
তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রশাসন) মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি আমি এখানে যোগদানের পূর্বের ঘটনা। তবুও যেহেতু শ্লীলতাহানির অভিযোগ রয়েছে তাই শীঘ্রই তদন্তের কাজটা সমাধান হওয়া উচিত ছিল। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে ২ জন তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত করতে অস্বীকার করায় এখন তৃতীয় দফায় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শেখ মো. নূরুল ইসলাম বিষয়টি তদন্ত করছেন। শীঘ্রই এর তদন্ত সম্পন্ন হবে বলে আশা করছেন তিনি।’
উক্ত অভিযোগের বিষয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী আশরাফুল আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরকে লিখিত জবাব দিয়েছি। এ বিষয়ে এখন কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’
এদিকে বুধবার (২০ মার্চ) রাতে প্রকল্প পরিচালক সুজায়েত হোসেন দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, এলজিইডি একটি নারীবান্ধব প্রতিষ্ঠান। এর যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। তবে এ বিষয়টি অতি স্পর্শকাতর। এ জন্য অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনার তদন্ত করছেন।