ঢাকাMonday , 11 March 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মোবাইল বিক্রির টাকার দ্বন্দ্বে ২ গ্রুপের মারামারিতে নিহত ১

Link Copied!

রাজধানীর উত্তর মুগদায় কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থী পিয়াস ইকবাল নূরকে নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত অন্যতম প্রধান তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মো. খালিদ হাসান (১৮), মো. আরিফ হোসেন (২১) এবং মো. মেহেদী হাসান মিরাজ (২০)।
এ সময় তাদের কাছ থেকে হয় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করা হয় ।
র‍্যাব বলছে, একটি পুরাতন মোবাইল ফোন বিক্রির টাকা পরিশোধের দ্বন্দ্বে কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী পিয়াস ইকবাল নূর এবং শামীম হোসেনকে নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে পিয়াস নিহত হয়।
সোমবার (১১ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
তিনি বলেন, গত ৭ মার্চ রাতে রাজধানীর উত্তর মুগদা এলাকায় একটি পুরাতন মোবাইল ফোন বিক্রির টাকা পরিশোধের দ্বন্দ্বে কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী পিয়াস ইকবাল নূর এবং শামীম হোসেনকে নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন তাদেরকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পিয়াসকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরদিন নিহত পিয়াসের বাবা বাদী হয়ে মুগদা থানায় ৬ জনকে আসামি করে এবং কয়েকজন অজ্ঞাতনামা উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
কমান্ডার মঈন আরও বলেন, গত রাতে র‌্যাব-৩ এর একটি আভিযানিক দল রাজধানীর মুগদা এবং মানিকগঞ্জের হরিরামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত তিন জনকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, এ হত্যা মামলার প্রধান আসামি আমির উদ্দিন আহমেদ অনিক চোরাই মোবাইল ফোন কেনা-বেচার ব্যবসা করতো। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি অনিকের কাছ থেকে নিহত পিয়াসের বন্ধু মাহির ৪ হাজার ৩০০ টাকা বাকিতে একটি চোরাই মোবাইল ফোন কেনে। ক্রয়কৃত মোবাইলের টাকা ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পরিশোধ করার কথা থাকলেও মাহির আর্থিক সমস্যার কারণে তা পরিশোধ করতে পারেনি।
যথাসময়ে টাকা পরিশোধ না করায় অনিক তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে। পরবর্তীতে গত ৭ মার্চ সন্ধ্যায় অনিক, খালিদ, আরিফ, মিরাজ এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আসামি অর্নব এবং রাব্বীকে নিয়ে মোবাইল বিক্রির বাকি টাকা আদায়ের জন্য মাহিরের বাসায় যায়।
র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, তারা মাহিরকে বাসায় না পেয়ে মাহিরের মায়ের কাছে মোবাইল বিক্রির পাওনা টাকা দাবি করে এবং অশোভনীয় আচরণ করে। সেখানে মাহিরের মা একদিন পর টাকা পরিশোধ করে দিবে বলে তাদের জানিয়ে দেয়। টাকা পরিশোধের আশ্বাস পেয়ে তারা মাহিরের বাসা থেকে চলে যায়। পরবর্তীতে মাহির বাড়িতে এসে তার মায়ের কাছে ঘটনা জানতে পারে। বিষয়টি মাহির তার বন্ধু নিহত পিয়াস ও আহত শামীমকে জানায়।
পিয়াস ও শামীম মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য ঘটনার দিন সন্ধ্যায় অনিকের সঙ্গে উত্তর মুগদা এলাকায় অনিকের আড্ডার পয়েন্টে দেখা করে। এসময় অনিক, পিয়াস এবং শামীমকে তুই তুকারি সম্বোধন করে। পরবর্তীতে একই দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে পিয়াস অনিককে ফোন দিয়ে লিটল এনজেল স্কুলের গলিতে পুনরায় আসতে বলে। অনিক সেখানে পোঁছালে পিয়াস এবং শামীম অনিকের কাছে তাদেরকে তুই তুকারি সম্বোধন করার ব্যাখ্যা চায়।
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন আরও বলেন, আগে থেকেই এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, গ্রুপিং এবং সিনিয়র জুনিয়র দ্বন্দ্ব থাকায় তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এসময় তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পিয়াস ও শামীমকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার জন্য অনিক গ্রেফতারদের ফোন করে সেখানে আসতে বলে। অনিকের ফোন পেয়ে অনিকের বন্ধু গ্রেফতার খালিদ, আরিফ, মিরাজসহ মামলার অপর আসামি অর্নব মোটরসাইকেলযোগে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং গ্রেফতার খালিদ পার্শ্ববর্তী একটি গ্যারেজ থেকে বেসবল খেলার স্টিক নিয়ে আসে।
এসময় তারা বেসবল খেলার স্টিক ও লাঠি দিয়ে পিয়াস ও শামীমকে নৃশংসভাবে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। একপর্যায়ে মামলার অপর আসামি রাব্বী নিকটবর্তী একটি দোকান থেকে আচমকা জোর করে একটি নতুন ধারালো ছুরি নিয়ে পিয়াসের পিঠের ডান পাশে এবং শামীমের ডান কাঁধে আঘাত করলে তারা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
এ সময় শামীম মাটিতে লুটিয়ে পড়লে গ্রেফতার খালিদ, আরিফ, মিরাজসহ অন্যান্যরা শামীমকে আবারও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাথাড়ি আঘাত করতে থাকে। পিয়াস এবং শামীমের চিৎকারে লোকজন জড়ো হলে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন আহতদের মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পিয়াসকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে গ্রেফতারকৃতরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যায়।
গ্রেফতার খালিদ স্থানীয় একটি স্কুল থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করে। পরবর্তীতে সে তার বাবার সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সের কাজে সহযোগিতা করতো। সে উত্তর মুগদা এলাকায় ‘গ্যাং স্টার রাব্বী’ গ্রপের সদস্য হিসেবে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, অলি-গলিতে মাদক ব্যবসা, মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিল। সে এর আগে রাজধানীর মুগদা থানায় সড়ক পরিবহন আইন মামলায় এক মাস কারাভোগ করে জামিনে বের হয় বলে জানায়। এছাড়াও সে রাজধানীর পল্টন মডেল থানায় মাদক সংক্রান্ত মামলায় ১৫ দিন কারাভোগ করেছে।
গ্রেফতার মিরাজ স্থানীয় একটি স্কুলে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে। সে মামলার আসামি রাব্বীর অন্যতম সহযোগী এবং ‘গ্যাং স্টার রাব্বী’ গ্রুপ এর সদস্য হিসেবে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিল বলে জানা যায়। সে উক্ত হত্যাকাণ্ডের পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেফতার এড়াতে মানিকগঞ্জ এলাকায় আত্মগোপন করে। পরবর্তীতে আত্মগোপনে থাকাবস্থায় র‌্যাব কর্তৃক গ্রেফতার হয়। গ্রেফতারকৃত আরিফ এইচএসসি পাশ করে স্থানীয় এলাকায় একটি ইন্টারনেট অফিসে কাজ করতো। সে উক্ত মামলার আসামি অনিকের অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করতো।