পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম, মাছ ও গোশত বিক্রয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
রোববার সকাল ১০টায় রাজধানীর ফার্মগেটে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের সামনে কার্যক্রমটি উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আব্দুর রহমান। কার্যক্রমটি চলবে প্রথম দিন থেকে ২৮ রমজান পর্যন্ত।
পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ বাজারে সুলভ মূল্যে ডিম, দুধ ও গোশত বিক্রয় কার্যক্রম অনুষ্ঠানের আয়োজন করে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর। একই অনুষ্ঠানে মৎস্য অধিদফতরের উদ্যোগে আটটি স্পটে মাছ বিক্রির কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহা-পরিচালক ডা. মোহাম্মদ রেয়াজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আব্দুর রহমান, বিশেষ অতিথি মন্ত্রণালয়টির সচিব সেলিম উদ্দিন।
এ সময় বক্তব্য রাখেন মৎস্য অধিদফতরের মহা-পরিচালক সৈয়দ মো: আলমগীর, বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইমরান হোসেন, প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক আব্দুর রহিম, গোলাম রব্বানী, পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রি সেন্ট্রাল কাউন্সিলের সভাপতি মশিউর রহমান প্রমুখ।
মন্ত্রী আব্দুর রহমান বলেন, ‘শেখ হাসিনার দেশে কেউ ভাত ও মাছে কষ্ট পাবে এটি মেনে নেয়া যায় না। রমজান উপলক্ষে ন্যায্যমূল্যে ডিম, দুধ, গরুর ও মুরগির গোশত কিনতে পারবে রাজধানীবাসী। এতে তাদের আর্থিক ব্যয় কম হবে।’
তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক অঙ্গীকার না থাকলে কোনো জাতি উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করে জাতিকে উন্নতির দিকে নিয়ে যাচ্ছেন।’
এছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে সচিব সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘এই কার্যক্রমে বাজারে মেসেজ থাকবে যে পণ্যের সরবরাহ ঠিক আছে। নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের কষ্ট লাগব হবে।’
সৈয়দ মো: আলমগীর বলেন, ‘বাজারে মাছের সরবরাহ বাড়িয়ে বাজার স্থিতিশীল রাখতে কাজ করা হচ্ছে। সেজন্য রমজানে প্রতিদিন সকাল ১০টায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে আটটি স্থানে মাছ বিক্রি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।’ মাছের মধ্যে রয়েছে রুই, তেলাপিয়া, পাঙ্গাস ও পাবদা।
ডা. মোহাম্মদ রেয়াজুল হক বলেন, ‘এসব দুধ, ডিম ও গোশত খামারিদের থেকে কেনা হয়েছে। তাই অন্যান্য খামারিরা ইচ্ছা করলে কম দামে বিক্রি করতে পারে। তাতে দামও কিছুটা কম থাকবে।’
প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের (এলডিডিপি) চিফ টেকনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর ড. মো: গোলাম রব্বানী বলেন, ‘রাজধানীর ২৫টি স্থানে ডিম, দুধ ও গোশত বিক্রি করা হবে। তা ছাড়া পাঁচটি মার্কেটে বিক্রি করা হবে। প্রতি লিটার দুধ ৮০ টাকা, গরুর গোশত ৬০০ টাকা, খাসির গোশত ৯০০ টাকা, ড্রেসড ব্রয়লার মুরগি ২৫০ টাকা কেজি ও প্রতি ডজন ১১০ টাকা। তা ছাড়া পাঁচটি দোকানে ৬৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হবে।’
ইমরান হোসেন বলেন, ‘২০২০ সালে করোনায় খামারিরা প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করে নিজ উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ ক্রয় কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে এটি রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের অংশে পরিণত হয়েছে।’
মশিউর রহমান পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রি সেন্ট্রাল কাউন্সিল বলেন, ‘মানুষ যেন স্বল্পমূল্যে ডিম ও মুরগির গোশত খেতে পারে এজন্য এ উদ্যোগটি নেয়া হয়েছে।’
প্রতিটি গাড়িতে গরুর গোশত ১০০ কেজি, খাসি ১০ কেজি, দুধ ২০০ লিটার ও ডিম চার হাজার পিস খামারবাড়িতে বিক্রয় কেন্দ্র থেকে এক কেজি গরুর গোশত, এক কেজি মুরগির গোশত, এক ডজন ডিম ও এক লিটার দুধ এক হাজার ৪০ টাকায় কিনেছেন আরিফুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘আমাদের মতো স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য অনেক অর্থ বেঁচে গেল।
অপর ক্রেতা মো: মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘গোশতের পরিমাণটা একটু বাড়িয়ে দিলে প্রতিদিন আসতে হতো না। বাজারে ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকায় প্রতি কেজি গরুর গোশত বিক্রি হচ্ছে সেখানে ৬০০ টাকায় গোশত পাওয়ায় দেড় শ’ টাকা কম পেয়েছি।
এক ডজন ডিম কিনেছেন নিলিমা রায়। তিনি জানান, তিন ছেলে-মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছে। খুব হিসেব করেই সংসার চালাতে হয়। বাজারে যেখানে ১৩০ টাকা ডজন সেখানে ১১০ টাকাতে পাওয়া যাওয়ায় ২০ টাকা কমে কিনতে পেরেছি।’
বিক্রির স্থানগুলো হলো বাড্ডার নতুনবাজার, বনানীর কড়াইল বস্তি, ফার্মগেটের খামারবাড়ি, আজিমপুর মাতৃসদন, গাবতলী, উত্তরার দিয়াবাড়ী, মোহাম্মদপুরের জাপান গার্ডেন সিটি, মিরপুরের ৬০ফুট রোড, খিলগাঁও রেল ক্রসিংয়ের দক্ষিণে, সচিবালয়ের আব্দুল গনি রোড, সেগুন বাগিচা, মতিঝিলের আরামবাগ, রামপুরা, মিরপুরের কালসী, যাত্রাবাড়ীর মানিকনগর, মোহাম্মদপুরের বসিলা, হাজারীবাগের শিকশন, নাখালপাড়ার লোকাস মোড়, কামরাঙ্গিচর, মিরপুর-১০, কল্যাণপুর ঝিলপাড়া, তেজগাঁও, পুরান ঢাকার বঙ্গবাজার, কাকরাইল।
তাছাড়া স্থায়ী বাজারের মধ্যে রয়েছে মিরপুর শাহ আলি বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, নতুন বাজার (১০০ ফুট), কমলাপুর ও কাজী আলাউদ্দিন রোডের আনন্দবাজার।
মাছ বিক্রির জায়গা :
মৎস্য অধিদফতরের তত্ত্ববধানে প্রথমবারের মতো আসন্ন রমজান মাসে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের চারটি ও ঢাকা দক্ষিণ করপোরেশনের চারটি নির্ধারিত স্থানে মাছ বিক্রয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন, মৎস্য অধিদফতরের মহা-পরিচালক সৈয়দ মো: আলমগীর।
নির্ধারিত জায়গাগুলো হলো ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন : ১. বঙ্গবন্ধু চত্বর, খামারবাড়ি, ফার্মগেট, ২. মিরপুর-১ (ঈদগাহ মাঠ), ৩. সেগুন বাগিচা বাজার, ও ৪. মেরুল বাড্ডা বাজার।
অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন : ১. মুগদাপাড়া (মদিনাবাগ বাজার), ২. যাত্রাবাড়ী (দয়াল ভরসা মার্কেট), ৩. মতিঝিল (বাংলাদেশ ব্যাংকের দক্ষিণ-পূর্ব কর্ণার) ও ৪. পলাশী মোড়-এ এই কর্মসূচি পরিচালিত হবে।
উল্লেখ্য, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত মাছ বিক্রয় কার্যক্রম চলমান থাকবে। সোমবার হতে শুরু হয়ে রমজান মাস জুড়ে এ কার্যক্রম প্রতিদিন প্রতিটি স্পটে আপাতত ৩০০ কেজি মাছ, যথা রুই-১০০ কেজি, তেলাপিয়া-১০০ কেজি, পাঙ্গাস-জি, পাবদা-২৫ কেজি মাছ বিক্রয় করা হবে। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ২ কেজি মাছ কিনতে পারবেন। তবে এ নিরিখে মাছ বিক্রির পরিমাণ পরবর্তীতে বাড়ানো হবে। বিক্রয়তব্য রুই ও পাঙ্গাসের ওজন হবে ১-১.৫ কেজি, তেলাপিয়া প্রায় ৩০০ গ্রাম ও পাবদা ২০টিতে কেজি। প্রতি কেজি মাছের বিক্রয়মূল্য হবে নিম্নরূপ : রুই-২৪০ টাকা, পাঙ্গাস-১৩০ টাকা, তেলাপিয়া-১৩০, পাবদা-৩৩০ টাকা।

