
নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘বাংলাদেশে ৫৭টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রয়েছে, যাদের নিজস্ব ভাষা আছে। বাংলা ভাষার বিলুপ্তির কোনো আশঙ্কা নেই। তবে এসব ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা বিলুপ্তির আশঙ্কা থাকে। তাই তাদের ভাষা সংরক্ষণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন(বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) উদ্যোগে আয়োজিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
এমাজউদ্দিন বলেন, ‘ইউনেস্কো আন্তর্জাতিকভাবে বাংলা ভাষাকে মর্যাদা দিয়েছে। বিশ্বের ১৬৩ দেশে এখন ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করছে। বিশ্বের সব দেশে মহান ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও পটভূমি গুরুত্বের সঙ্গে সবার কাছে তুলে ধরা উচিৎ।’
ভাষা আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সদস্যদেরকেও ২১শে পদক দেয়া উচিৎ বলে মনে করেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও সাবেক রাষ্ট্রদূত আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি অনুকূলে নয়, প্রতিকূলে। দেশের বিরাজমান পরিস্থিতিতে কিছু মিডিয়া বলছে সংলাপের কোনো প্রয়োজন নেই। আগে সন্ত্রাস দমন করতে হবে। তাহলে কীভাবে হবে এর সমাধান? বলা হয় আগে সন্ত্রাস দমন তারপর সংলাপ। বিরাজমান পরিস্থিতিতে পেট্রল বোমা মারছে এটা সন্ত্রাস, হরতাল অবরোধ করা হচ্ছে এগুলো সন্ত্রাস। কিন্তু পুলিশ ও অন্যান্য আইনঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিচারবহির্ভূতভাবে যে হত্যা করছে, গুলি করছে, ক্রসফায়ার দিচ্ছে এটা কী সন্ত্রাস নয়? এটা অবশ্যই সন্ত্রাস, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস।’
তিনি বলেন, ‘৫ জানুয়ারির ভোটার বিহীন নির্বাচন তৈরি করছে সঙ্কট। তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক সঙ্কট।’
তাই রাজনৈতিকভাবেই চলমান সঙ্কটের সমাধান হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন এই শিক্ষাবিদ।
অনুষ্ঠানে ভাষা সৈনিক অধ্যাপক আব্দুল গফুর বলেন, ‘গণতন্ত্রের মূল্যবোধের ভিত্তিতে ভাষা আন্দোলন হয়েছিল। বর্তমান সরকারের কার্যক্রমে তারা যে গণতান্ত্রিক তা প্রমাণ হয় না। তিনবারের প্রধানমন্ত্রীকে (খালেদা জিয়া) খাদ্য ও পানীয় বন্ধ করে গণতন্ত্রের নমুনা প্রদর্শন করছে সরকার।’
৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচনের মধ্যদিয়ে দেশে সঙ্কট তৈরি হয়েছে মন্তব্য করে অবিলম্বে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে এ সঙ্কট দূর করার আহ্বান জানান এ ভাষা সৈনিক।
সভাপতির বক্তব্যে বিএফইউজের সভাপতি শওকত মাহমুদ বলেন, ‘২১ শের চেতনা গণতন্ত্রের চেতনা। যে ভাষার জন্য জন্য মানুষ প্রাণ দিয়েছে সে ভাষায় কথা বলার অধিকার আজ কেড়ে নেয়া হয়েছে। বর্তমানে ভাষা আন্দোলনের খণ্ডিত অংশ তুলে ধরা হয়।’
বক্তারা বলেন, একুশ মানে মাথা নত না করা। এ চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষা করতে হবে।
আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ঢাবির সাবেক প্রো-ভিসি অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, বিএফইউজের মহাসচিব এমএ আজিজ, ডিইউজের সভাপতি আবদুল হাই শিকদার প্রমুখ।
দিনব্যাপী মহান ভাষা আন্দোলন নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তৃতার পাশাপাশি চলে গান ও কবিতা আবৃত্তি। শিল্পী রিজিয়া পারভীন, পলাশসহ জাসাসের শিল্পীরা এতে দেশত্ববোধক গান পরিবেশন করেন। এছাড়া ছড়াকার আবু সালেহসহ অন্যান্য কবি ও ছড়াকার কবিতা ও ছড়া আবৃতি করেন।

