শনিবার এই ঘটনাটি ঘটেছে মিয়ানমারের সাগায়িং স্বর্ণখনি এলাকার হোমালিন টাউনশিপের শ্বে পাই আয়ে শহরটিতে। বিদ্রোহীরা বলেছেন, ১০ দিন টানা যুদ্ধে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর তারা পালিয়ে গেছে। বেসামরিক জাতীয় ঐক্য সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ) গত বছরের ২২ নভেম্বর থেকে চিন্দউইন নদীর পূর্ব তীরে ছোট শহরটির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে। সূত্র: ইরাবতি
জান্তা বাহিনী গত ২৬ জানুয়ারি থেকে শহরটি পুনরায় দখলের চেষ্টা করতে থাকে। জান্তা বাহিনীতে ছিল লাইট ইনফেন্ট্রি ব্যাটেলিয়ন, শান্নি ন্যাশানালিটিজ আর্মি এবং জান্তাপন্থী পাইউ শ হতি মিলিশিয়া বাহিনী। পিডিএফ বলেছে, সাগায়িং অঞ্চলের সমতল ভূমিতে পিডিএফের সঙ্গে যুদ্ধ অভিজ্ঞ কিছু ইউনিটও এই পুনরুদ্ধার যুদ্ধে যোগ দিয়েছিল।
যুদ্ধে জান্তা বাহিনী যুদ্ধ বিমান এবং এমআই-২ হেলিকপ্টারও ব্যবহার করেছে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে। কিন্তু পদাতিক বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির মধ্যে পড়ে এবং পালিয়ে যায়। বিদ্রোহীরা জান্তা সেনাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেছিল। তাদের খাদ্য ও অস্ত্র সরবরাহের সব রাস্তাও বন্ধ করে দিয়েছিল। এজন্য তাদেরকে খাদ্য ও অস্ত্র সরবরাহের জন্য হেলিকপ্টারের উপর নির্ভর করতে হয়েছে।
হোমালিনের পিডিএফ যোদ্ধা কো মং হাতু বলেছেন, পিডিএফের হাতে ছিল অনেক অত্যাধুনিক হাতিয়ার এবং যুদ্ধে ইতোমধ্যেই জান্তাদের প্রত্যাশার চাইতেও বেশি পারদর্শী হয়ে উঠেছেন তারা। তিনি বলেন, ‘জান্তা বাহিনী শহরটি পুনরায় দখলে নেওয়ার জন্য হামলা চালায়। কারণ তাদের ধারণা ছিল আমাদের হাতে তেমন কোনো অস্ত্র-শস্ত্র নেই। অথচ আমাদের কাছে যে ধরনের হাতিয়ার ছিল তার ধারেকাছেও ছিল না জান্তাদের হাতিয়ার। আরেকটা সুবিধা হলো এলাকাটি ছিল পাহাড় ও জঙ্গলে ঘেরাও করা।’
শনিবার রাতে জান্তা সেনারা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পিডিএফ বাহিনী অকুস্থলে ১৫টি মৃতদেহ পায় এবং ৪০ জন আহত সেনাকে আটক করে।

