আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আফগানিস্তানে তালেবানদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর যুদ্ধে বেসামারিক নাগরিক নিহতের সংখ্যা বাড়ছে। ২০১৩ সালের তুলনায় পরের বছর অর্থাৎ ২০১৪ সালে নিহতের এ হার ২৫ শতাংশ বেড়েছে। বুধবার জাতিসংঘ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
তালেবানের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা জোটের যুদ্ধে হতাহতদের নিয়ে ২০০৯ সাল থেকে প্রতিবেদন প্রকাশ করছে জাতিসংঘ। আফগানিস্তানে জাতিসংঘের সহায়তা মিশন এ প্রতিবেদন তৈরি করে থাকে। বুধবার সংস্থাটির প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৩ সালে আফগানিস্তানে ৮ হাজার ৬৩৭জন বেসামারিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন। পরের বছর অর্থাৎ ২০১৪ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৫৪৮জনে। এদের মধ্যে নিহত হয়েছে ৩ হাজার ৬৯৯জন। ২০১৩ সালের তুলনায় ওই বছর নিহতের সংখ্যা বেড়েছে ২৫ শতাংশ। অপরদিকে ২০১৪ সালে আহত হয়েছে ৬ হাজার ৮৪৯জন। এর আগের বছরের তুলনায় এ সংখ্যা বেড়েছে ২১ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সংঘর্ষে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক জাতীয় অস্ত্র ব্যবহরই এ হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রধান কারণ। এছাড়া আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলিতে স্থল অভিযান বৃদ্ধিও এর অন্যতম কারণ। এছাড়া অনেক বেসামরিক নাগরিক দুই পক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে মাঝখানে পড়ে যান। এর ফলেও হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সংঘর্ষে শিশুদের হতাহতের পরিমাণ ৪০ শতাংশ ও নারীদের ২১ শতাংশ বেড়েছে।
জাতিসংঘ বলছে, বেসামরিক নাগরিক হতাহতের এই নুতন সংখ্যা আফগান সমাজে চরম আর্থিক ও সামাজিক দুর্দশা ডেকে আনছে। পুরুষদের মৃত্যু কিংবা আহত হওয়ার কারণে নারীদেরকেই পরিবারের একমাত্র ভরণপোষণের দ্বায়িত্ব নিতে হয়। তাই বাধ্য হয়ে তাদেরকে মেয়ের বিয়ে বন্ধ করতে হচ্ছে কিংবা সন্তানদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করতে হচ্ছে।
আফগানিস্তানে জাতিসংঘের সহায়তা মিশনের মানবাধিকার বিষয়ক পরিচালক জর্জেট্টি গ্যাংনন বলেন, আফগান নারী ও শিশুদের জন্য সংঘর্ষে স্বামী ও বাবা নিহত হওয়া যন্ত্রনা ও কষ্ট্রের মাত্র শুরু।

