ঢাকাThursday , 18 January 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

২ দশকেও টনক নড়েনি বিআইডব্লিউটিএ প্রশাসন ও দুদকের
বয়স জালিয়াতি করে বিআইডব্লিউটিএ-তে চাকরি করছেন জাহাঙ্গীর আলম

রাফসান জাহান
January 18, 2024 1:43 am
Link Copied!

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত ও বিআইডব্লিউটিএ’র চাকরির শর্ত মোতাবেক আবেদনের বয়স না থাকা সত্বেও মো. জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘ ২ দশক ধরে চাকরি করছেন। শুধু তাই নয়, কূটনবীস পদে থেকে অন্যত্র কোন পদে পদ পরিবর্তনের সুযোগ না থাকলেও বর্তমানে জাহাঙ্গীর আলম শুল্ক আদায়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
২০০৪ সালের ৩১ অক্টোবর সংস্থাপন শাখার উপ-সচিব জুলফা খানম (বর্তমানে অবসরে) স্বাক্ষরিত দপ্তরাদেশ নং-৮৩৫/২০০৪ এ মো. জাহাঙ্গীর আলম, পিতা- মো. হামিদ খান-কে ১৫০০-২৪-২০০৪ জাতীয় স্কেলে (১৯৯৭) মাসিক ১৫০০ টাকা মূল বেতন এবং অন্যান্য স্বীকার্য ভাতাদিসহ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের কূটনবীস পদে নিয়োগের আদেশ প্রদান করেন। বয়স জালিয়াতির মাধ্যমে বিতর্কিত এ নিয়োগের বিষয়ে গত ২ দশকে বেশ কয়েকবার অভিযোগ আনা হলেও বিআইডব্লিউটিএ প্রশাসন কার্যকরী কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। ইতিপূর্বে দুদকের পক্ষ থেকে অভিযোগ তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস পাওয়া গেলেও তা আর আলোর মুখ দেখেনি।

অথচ একই অপরাধে গত ১৭/০৯/২০১৯ ইং তারিখে মংলা বন্দরের কর্মচারিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) স্মারক নং- ০০.০১.০১০০.৬৪২.০১.০১৬৬.১৮-৪০১৪৭/১(১৮), তারিখ: ১৭/১০/২০১৯ অনুমোদনপূর্বক মামলা দায়েরের মাধ্যমে চাকরিচ্যুতসহ চাকরিকালে বেতন-ভাতাদি বাবদ ১৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৪৬ টাকা আত্মসাতের দায়ে ফেরত অর্থাৎ দণ্ড প্রদান করা হয়। সম্প্রতি কূটনবীস জাহাঙ্গীর আলমের (বর্তমানে শুল্ক আদায়কারী) বয়স জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধভাবে চাকরি করার বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান এবং দুদক চেয়ারম্যান বরাবর আরও একটি অভিযোগ জমা পড়েছে। এরপরও নীরব ভূমিকায় সংশ্লিষ্ট শীর্ষকর্তারা।

জানা গেছে, বিআইডব্লিউটিএ’র একজন প্রভাবশালী সিবিএ নেতার নিকটাত্মীয় হওয়ায় কূটনবীস মো. জাহাঙ্গীর আলমের (বর্তমানে শুল্ক আদায়কারী) অবৈধ নিয়োগের ব্যাপারে কেউ পদক্ষেপ নিতে সাহস পান না। এই সিবিএ নেতার অন্তত ডজনখানেক আত্মীয়স্বজন বিআইডব্লিউটিএ-তে কর্মরত রয়েছেন। এদের প্রত্যেকের চাকরির ক্ষেত্রেই ওই সিবিএ নেতা প্রভাব বিস্তার করেছিলেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। উক্ত সিবিএ নেতার নির্দেশেই বিআইডব্লিউটিএ পরিচালিত হয় বলেও জোর গুঞ্জন রয়েছে।

বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত; নভেম্বর ৮, ১৯৯০ সালের ৮৩৬৮ নং পাতার ১৮ নং তালিকায় বিআইডব্লিউটিএ’র গেজেটে প্রকাশিত রয়েছে- রেকর্ড কীপার, দপ্তরী, কূটনবীস, ডুপ্লেকেটিং মেশিন চালক নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়স ২৭ হইতে ৩২ বছর হতে হবে। নিয়োগের ক্ষেত্রে হেড গার্ড এবং সমমানের পদের কর্মচারিদের মধ্য হইতে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করিতে হইবে মর্মে গেজেট প্রকাশিত হয়েছে।

২০০৪ সালের ৯ আগস্ট দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সূত্র ধরে মো. জাহাঙ্গীর আলম, পিতা- মো. হামিদ খান, মাতা- বেগম রোকেয়া, বর্তমান ঠিকানা- ১৬৪, মাদারটেক নতুন পাড়া, সবুজবাগ, ঢাকা এবং স্থায়ী ঠিকানাঃ গ্রাম- চরদুলাই, ডাকঘর- দুলাই, থানা- সূজানগর, জেলা- পাবনা; কূটনবীস পদের জন্য বিআইডব্লিউটিএ-তে আবেদন করেন। ওই আবেদনে আবেদনকারী হিসেবে মো. জাহাঙ্গীর আলম নিজের জন্ম তারিখ ০৭/১১/১৯৭১ উল্লেখ করেন এবং আবেদনের দিন তার বয়স ৩৩ বছর ৫ মাস ২৪ দিন উল্লেখ করেন।

এ ব্যাপারে মো. জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য জানতে দৈনিক পাঞ্জেরী’র পক্ষ থেকে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে বক্তব্য চেয়ে তার মুঠোফোনে ক্ষুদেবার্তা পাঠানো হলেও কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।