নাম তার শাহনাজ পারভীন। ডেসকো’র শাহ আলী ডিভিশনের একজন ল্যাব এসিস্ট্যান্ট। একই সাথে ডেসকো’র প্রি-পেইড মিটারের এজেন্ট। তার প্রতিষ্ঠানের নাম ‘মা ইঞ্জিনিয়ারিং’। বিদ্যুৎ গ্রাহকদের নাকাল করে রেখেছেন তিনি। চালিয়ে যাচ্ছেন দুর্নীতি। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির বিষয়ে মতামত জানতে চেয়ে ফোন করলে কিছুক্ষণ পরেই ফোন করান জনৈক ব্যক্তিকে দিয়ে। অজ্ঞাত ঐ ব্যক্তি নিজেকে ‘গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা’ পরিচয় দিয়ে নির্ভীক সংবাদ’র সম্পাদক এম. একরামুল হক আসাদকে হুমকি ধামকি দেন। এই কর্মকর্তা কোন গণমাধ্যমকে তোয়াক্কা করেন না।
মিরপুর ১৩ নম্বর ডেসকো অফিসের সামনে শাহনাজ পারভীনের একটা বৈদ্যুতিক মিটারের দোকান রয়েছে। নাম ‘মা ইঞ্জিনিয়ারিং’। এই দোকান থেকে ডেসকো শাহ আলী ডিভিশনের গ্রাহকদের যাবতীয় প্রি-পেইড মিটার সরবরাহ করা হয়। বিক্রি করা হয় চড়া দামে। হেক্সিম মিটারের দাম নেন ৭ হাজার ৬শ’ টাকা। আবার মিটার ল্যাব টেস্টের নামে শাহনাজ পারভীন নিয়ে থাকেন হাজার হাজার টাকা ঘুষ। তার ঘুষের টাকা আদায় এবং তার হয়ে দালালী করেন মিটার রিডার আব্দুল কাদের। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ অক্টোবর মিরপুর টোলারবাগের এক গ্রাহকের কাছ থেকে মিটার রিডার আব্দুল কাদের (শাহনাজ পারভীনের সহযোগী) মিটার টেস্টের জন্য ঘুষ আদায় করেন ৫০ হাজার টাকা। সূত্রটি জানায়, ডেসকো শাহআলী ডিভিশনের পাশে ডায়াবেটিকস হাসপাতালের ভেতরে দাঁড়িয়ে কাদেরের কাছ থেকে ওই টাকা গ্রহণ করেন শাহনাজ পারভীন।
শাহানাজ পারভীনের দুর্নীতির এখানেই শেষ নয়। তিনি ডেসকো’র কতিপয় কর্মকর্তাদের যোগসাজশে প্রি-পেইড মিটারের লোড বৃদ্ধিসহ নানান ধরনের কাজ করে দেন। বিনিময়ে লুটে নেন হাজার হাজার টাকা। নির্ভীক সংবাদ’র সম্পাদক পরিচয় দিয়ে এসব দুর্নীতির বিষয়ে তার মতামত জানতে চেয়ে তার ০১৭৭৩৮৬৭৬*৫ মোবাইলে কল করলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। বলেন, মিরপুর ১৩ নম্বরে ডেসকো অফিসের সামনে ‘মা ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামক দোকানটি তার কাজিনের। কয়েকঘণ্টা পর জনৈক ব্যক্তি তার পরিচয় না দিয়ে (০১৭২০১৯৪০*৫) থেকে নির্ভীক সংবাদ’র সম্পাদকের ০১৭১১-১৫২৬*৮ নম্বরে ফোন করে প্রথমে বলেন, ‘ভাই এটা কি ইলেকট্রিক মিটারের দোকান?’ রং নম্বর বলে কেটে দিলে পরক্ষণেই একই নম্বর দিয়ে ফোন করে বলেন, ‘এটাকি ০১৭১১-১৫২৬*৮ নম্বর?’ জি। কে আপনি?’ নির্ভীক সংবাদ’র সম্পাদক পরিচয় দিলে তিনি বলেন, ‘এটা কি … পারমিশন আছে?’ সব কাগজপত্র ঠিক আছে? দেখাতে পারবেন? আপনি মানুষকে হয়রানি করছেন কেন? সকালে কাউকে রিং দিয়েছিলেন? জি। আপনার এটা কাজের মধ্যে পড়ে?’ প্রতিউত্তরে সম্পাদক বলেন, সে কৈফিয়ৎ আপনাকে দিবো না। পরিচয়হীন ওই ব্যক্তি তখন সম্পাদককে হুমকি দিয়ে বলেন, আমাকে দিবেন কি দিবেন না, কান টানলে মাথা আসবে। আপনার কোন পত্রিকা, কোথায় অফিস খুঁজে বের করছি’। একই নম্বর দিয়ে পুনরায় রিং দিয়ে বলেন, আপনার যে লাইসেন্স আছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র … ক্লিলিয়ারেন্স আছে সেসব কাগজপত্র নিয়ে র্যাব হেডকোয়ার্টারে দেখা করতে আদেশ করেন।
মোবাইলে হুমকিদাতা অজ্ঞাত ব্যক্তিটি কে? কি তার পরিচয়?- জানতে চেয়ে পুনরায় ডেসকো’র শাহআলী ডিভিশনের ল্যাব এসিস্ট্যান্ট শাহনাজ পারভীনের মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উনি … (গোয়েন্দা সংস্থার) বড় একজন কর্মকর্তা। আমার পরিচিত।
প্রশ্ন উঠেছে, ডেসকো’র ল্যাব এসিস্ট্যান্ট শাহনাজ পারভীন কি … (গোয়েন্দা সংস্থার) পরিচয়ধারী ব্যক্তির খুঁটির জোরে দুর্নীতি করে চলেছেন? তিনি সরকারি চাকরির পাশাপাশি কিভাবে ডেসকো’র এজেন্ট নিয়ে এবং মিটারের দোকান দিয়ে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন?

