নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশে চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনের দায়িত্ব ১৬ কোটি মানুষকেই নিতে হবে। মানুষ সংগঠিত হলে আর কোনো সঙ্কট সৃষ্টি হবে না বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।
শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
‘বাংলাদেশের বিক্ষত রাজনীতি, সংক্ষুব্ধ জনগণ ও বিঘ্নিত রাষ্ট্রস্বার্থ: রাষ্ট্রবিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণ, ২০১৫’ শীর্ষক তত্ত্ব উপস্থাপন ও গোলটেবিল এ বৈঠকের আয়োজন করে গবেষণা ও নন্দনচর্চা কেন্দ্র ‘সত্যান্বেষণ’।
বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘দেশে যে আগুন লেগেছে তা নিভানোর দায়িত্ব দেশের ১৬ কোটি মানুষকেই নিতে হবে। সেখানে কে নাগরিক সমাজকে প্রতিনিধিত্ব করছে আর কে সাধারণ জনগণ সেটি বিবেচ্য নয়। ১৬ কোটি মানুষ সংগঠিত হলে আর কোনো সঙ্কট সৃষ্টি হবে না।’
নাশকতাকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষের ওপর আক্রমণ করে কোনোকিছু অর্জন করা যায় না। একবিংশ শতাব্দীতে এসে এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সমালোচনা করে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিত্বকারী ১৩ সদস্যের একটি দল প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি নেত্রী বরাবর পত্র পাঠিয়েছে। কিন্তু যারা সন্ত্রসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে আর যারা সন্ত্রাস দমনে কাজ করছে তাদের উভয়কে পাঠানো চিঠির ভাষা এক রকম হওয়া উচিৎ কি?’
এসময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. খুরশীদা বেগম সাঈদ সভাপতির বক্তব্যে জামায়াত-বিএনপিকে একই আদর্শের উল্লেখ করে এদের সঙ্গে আলোচনা ও ঐক্যমতের সব সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান আর বাংলাদেশ কখনো এক হতে পারে না। খালেদা জিয়া পাকিস্তানের রিফ্লেকশন।’
বৈঠকে আরো বক্তব্য দেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, গিয়াসউদ্দিন মোল্লা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক নাজিয়া আরিফা প্রমুখ।

