আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চলতি শতাব্দির পালা বদলের প্রাক্কালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এক যুগেরও বেশি সময় খরা পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছে। গত বছর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ক্যালিফোর্নিয়ায়। গত চারশ বছরের মধ্যে এমন শুস্ক মৌসুম কখনও ছিলো না। তবে ভবিষ্যতে যে আবহাওয়া পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে তার তুলনা হয়তো হাজার বছরেও হবে না।
চলতি শতকের শেষ দিকে আমেরিকার মধ্য ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে প্রচণ্ড ও দীর্ঘস্থায়ী খরা দেখা দিতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন। পরিস্থিতি এতোটাই ভয়াবহ হবে যে গত এক হাজারের বেশি সময়ের মধ্যেও এতো মারাত্মক খরার ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যাবে না। সায়েন্স অ্যাডভান্সেস নামে একটি জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এবং কলম্বিয়া ও কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এ তথ্য জানিয়েছেন।
‘দক্ষিণ-পশ্চিম ও মধ্য আমেরিকায় একবিংশ শতাব্দিতে অনাকাঙ্খিত খরা ঝুঁকি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই অঞ্চলে সহস্রাব্দ ধরে চলে আসা খরা ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের যে চক্র রয়েছে আগামি ৩৫ বছরের মধ্যে তার সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। এই শুস্কতা চরম আকার ধারণ করবে মানুষের মাধ্যমে আবহাওয়া পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে।
নাসার গোড্ডার্ড ইনিস্টিটিউট অব স্পেস স্টাডিজের গবেষক ও প্রতিবেদনের প্রধান লেখক বেন কুক জানান, একবিংশ শতাব্দির শেষ ভাগ পর্যণ্ত প্রায় প্রতিটি বছর শুস্ক হতে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে উত্তর আমেরিকার পশ্চিমাঞ্চলে যে আরও বেশি শুস্কতা দেখা দিবে সে ব্যাপারে আমাদের ভাবতে হবে।
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পৃথিবী ও বায়ুমণ্ডলীয় বিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক টবি অল্ট বলেন, ভবিষ্যতের সম্ভাব্য খরার এ মাত্রার আভাস দেখে তিনি সত্যিই বিস্মিত। এ ধরনের প্রবল শুষ্কতাকে অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতোই ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে।
তিনি বলেন, জলবায়ুতে দ্রুত পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলার পদক্ষেপ না নিলে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ৩৫ বছর স্থায়ী মারাত্মক খরার ঝুঁকি রয়েছে। খনিজ তেলের মতো জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যাপকভাবে ব্যবহারের ফলে জলবায়ুতে এ পরিবর্তন ঘটছে।

