নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে নিজ উদ্যোগে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে কোনো প্রস্তাব নিয়ে যাবে না অরাজনৈতিক কমিটি। কেউ যদি তাদেরকে চান তা হলেই তারা যাবে না।
শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ‘ উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে কমিটির শীর্ষ নেতা শামসুল হুদা এ কথা জানান।
প্রসঙ্গত: দেশের চলমান সঙ্কট নিরসন ও জাতির কাছে তার সমাধান তুলে ধনার জন্য অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এটিএম শামসুল হুদা এর নেতৃত্বে রয়েছেন।
শামসুল হুদা বলেন, ‘শান্তি ফিরিয়ে আনতে হবে। সন্ত্রাস বন্ধ করতে হবে। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করে কিভাবে শান্তি ফিরিয়ে আনা যায় সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। আমরা চাই, অবিলম্বে ‘সন্ত্রাস বন্ধ’ এবং ‘আলোচনা’ করতে হবে।’
নবগঠিত কমিটির কোন নাম দেয়া না হলেও টিকে একটি অরাজনৈতিক নাগরিক সমাজ বলা যেতে পারে বলে তিনি জানান।
এ কমিটির মধ্যে কোন রাজনৈতিক ব্যক্তি থাকবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে যারা আছেন এবং আসবেন তারা কেউ সরাসরি রজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। অনেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কেউ দেশে এবং কেউ দেশের বাহিরে আছেন। যাছাই বাছাই করে এ কমিটি আরো বড় করা হতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘দেশে আজ এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ অবস্থা থেকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংকট উত্তরণের মাধ্যমে জনগণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যেতে আগ্রহী। জনগণ চায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ-যাতে অর্থনৈতিক অগ্রগতি লক্ষমাত্রার দিকে দেশে এগুতে পারে এবং সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা যথাযথভাবে প্রস্তুত ও বাস্তবায়ন করে ২০২১ সালের লক্ষ্যমাত্রা- বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার উদ্যোগ সফল হতে পারে। তাই বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আমরাও গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’
এসময় তিনি দুই দলকে সংঘাত ছেড়ে সংলাপের আহ্বান জানান।
এর আগে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনকে চিঠি দিয়ে সংলাপের আহ্বান জানালে সরকারীদল আওয়ামী লীগের কঠোর সমালোচনার মুখে পড়ে ‘নাগরিক সমাজ’ ও বার্তা প্রেরক শামসুল হুদা। জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে না।’
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘ তাদের প্রস্তাবের মানে নাশকতা,সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদীদের সঙ্গে গণতান্ত্রিক সরকার ও একটি গণতান্ত্রিক দলকে এক কাতারে দাঁড় করানো। তাদের প্রস্তাব অবাস্তব ও অগ্রহণযোগ্য।’
কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে হুদা বলেন, ‘পরিস্থিতি নিরসনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আহ্বান জানানো। আমরা শান্তির পক্ষে। সাধারণ নাগরিকদের পক্ষে কথা বলবো। তবে কমিটি স্ব উদ্যোগে কোন দল বা নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করবে না।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের যদি কেউ ডাকে তাহলে আমরা যাবো।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের সমস্যা আমরাই সমাধান করতে পারি। আমরা কেন আমাদের সমস্যা সমাধান করতে পারবো না? বিদেশীরা আসা কাম্য না। রাজনীতির মধ্যে শেষ বলতে কিছুই নেই। আমরা পারবো।’
অরাজনৈতিক নাগরিক সমাজের প্রাথমিক কমিটিতে ২১ জনকে সদস্য করা হয়েছে। তবে এর সংখ্যা আরো বাড়বে বলে জানান এটিএম শামসুল হুদা।
সংবাদ সম্মেলন শেষে গঠিত কমিটির একটি খসড়া পাওয়া গেছে। ওই খসড়ায় যাদের নাম রয়েছে তারা হচ্ছেন- সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এটিএম শামসুল হুদা, এম হাফিজ উদ্দিন খান, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এসএম শাহজাহান, শিক্ষাবিদ ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান, সিএম শফী সামী, সাবেক তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সাবেক সভাপতি রোকেয়া আফজাল রহমান, বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, মাহবুবুর রহমান, আইনজীবী শাহদীন মালিক, মাহফুজ আনাম, অ্যাডভোকেট মাহমুদুল ইসলাম, বিজিএমইএর সাবেক প্রেসিডেন্ট আনোয়ারুল আলম চৌধুরী পারভেজ, বেসরকারি সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান মনসুর ও সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।
মূলত গত শনিবার ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সেমিনার কক্ষে ‘জাতীয় সংকট নিরসনে জাতীয় সংলাপ’ শীর্ষক আলোচনা সভার মধ্যদিয়ে আলোচনায় আসে ‘নাগরিক সমাজ’। সভাটির আলাদা দুই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান ও এটিএম শামসুল হুদা।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- আইনজীবী শাহদীন মালিক সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, পিআরআইএর নির্বাহী পরিচালক সিএম শফী সামী, সুজন সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান প্রমুখ।

