ঢাকাWednesday , 11 February 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘তেল কূপে’ তেল নেই

Link Copied!

Oil kupনিজস্ব প্রতিবেদক : ঘটা করে ঘোষণার পরও কৈলাসটিলায় তেল পেলো না পেট্রোবাংলা। তবে এখান থেকে গ্যাস পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, তৃতীয় মাত্রার জরিপে প্রাপ্ত ফলাফল থেকে যে তিনটি স্তরে তেল পাওয়ার বেশি সম্ভাবনা ছিল, তার একটিতেও তেল মিলেনি।
২০১২ সালের মে মাসে তৎকালীন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ড. হোসেন মনসুর ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে সিলেটের কৈলাসটিলায় তেল পাওয়ার ঘোষণা দেন। তার এ ঘোষণা সে সময় বিশেষজ্ঞ মহলে সমালোচিতও হয়েছিল। কারণ অনুসন্ধান কূপ খনন না করে শুধু জরিপের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে তেল ও গ্যাস পাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয় বলে জানান জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। আর হলোও তাই।
পেট্রোবাংলার বর্তমান চেয়ারম্যান ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, ‘কূপ খননের আগে তেল-গ্যাস পাওয়ার ঘোষণা দেয়া ঠিক নয়।’
এ সম্পর্কে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা জানান, নিজের সাফল্য ফলাও করে প্রচার করে সরকারে কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতেই হোসেন মনসুর তেল আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
তেল উত্তোলনের জন্য সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড (এসজিএফএল) পরিচালিত কৈলাসটিলা গ্যাসক্ষেত্রের ৭ নম্বর কূপ গত বছরের ১৬ অক্টোবর থেকে খনন শুরু করে আরেক রাষ্ট্রীয় কোম্পানি বাপেক্স। কূপটি খননে ব্যয় হচ্ছে ২১৮ কোটি ১৮ লাখ টাকা। খনন যন্ত্র (রিগ) বিজয়-১০ দিয়ে কূপটি খনন করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, তিন হাজার ৫০১ থেকে তিন হাজার ৫০৪ মিটার, তিন হাজার ২৬২ থেকে তিন হাজার ২৬৬ মিটার  ও তিন হাজার ১২১ থেকে তিন হাজার ১২৭ মিটার গভীরতার তিনটি স্তর পরীক্ষা করে তেলের সন্ধান পায়নি অনুসন্ধানকারী দল। এর মধ্যে প্রথম দু’টি স্তর বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
তবে ওপরের স্তরটিতে (৩১২১ থেকে ৩১২৭ মিটার) গ্যাসের সন্ধান পেয়েছে বাপেক্স। সঙ্গে প্রচুর কনডেন্টসেটও মিলেছে। এখন পরীক্ষা চলছে (ড্রিলিং স্টিং টেস্ট)। কতটুকু গ্যাস পাওয়া যাবে এ সম্পর্কে আগামী সপ্তাহে জানা যাবে।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ২০ মে এক সংবাদ সম্মেলনে পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে জানানো হয়, তেল-গ্যাসের মোট ১৩টি স্তর রয়েছে। ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপের মাধ্যমে এ ফলাফল সম্পর্কে জানায় বাপেক্স। এর মধ্যে ছয়টি তেলের ও ছয়টি গ্যাসের এবং একটি তেল ও গ্যাসের মিশ্র স্তর। ক্ষেত্রটির তিন হাজার ১৫০ মিটার পর্যন্ত গ্যাস আর তিন হাজার ৬০০ মিটার পর্যন্ত তেলের স্তরগুলোর অবস্থান বলে ওই সময় জানানো হয়।
বাপেক্সের সে সময়ে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ক্ষেত্রে প্রায় ১১ কোটি ব্যারেল তেল ও প্রায় এক ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) গ্যাসের মজুত রয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে, এখানে প্রায় সাড়ে চার কোটি ব্যারেল তেল ও সাড়ে ৬০০ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) গ্যাস উত্তোলনযোগ্য।
পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, দৈনিক ৫০০ ব্যারেল করে তেল উত্তোলন করা যাবে।
প্রসঙ্গত, দেশে প্রথম তেল পাওয়া যায় সিলেটের হরিপুরে। ১৯৮৬ সালে ক্ষেত্রেটিতে একটি গ্যাসকূপ খনন করার সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে তেল উঠতে শুরু করে। মোট পাঁচ লাখ ৮৬ হাজার ব্যারেল তেল উত্তোলনের পর কূপটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।