নিজস্ব প্রতিবেদক : ব্যাংকিং খাতে একবছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণের পরিমান বেড়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা।
সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকগুলোর মোট ঋণ স্থিতি ছিল ৫ লাখ ১৭ হাজার ৮৩৮ কোটি টাকার কিছু বেশি। যেখানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫০ হাজার ১৫৬ কোটি টাকা। এর ৯ দশমিক ৬৯ শতাংশই খেলাপি। ২০১৩ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৪০ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৯ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা।
তথ্যানুযায়ী, খেলাপি ঋণের প্রায় অর্ধেকই রাষ্ট্রমালিকানাধীন চার ব্যাংকের। সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপলীতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা। যা তাদের বিতরণকৃত ঋণের ২২ দশমিক ২২ শতাংশ।
রাষ্ট্র মালিকানাধীন বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ২৬০ কোটি টাকা। যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৮১ শতাংশ। তাছাড়া বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৪২৭ কোটি টাকা। যা তাদের মোট ঋণের ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ। আর বিদেশি ব্যাংকগুলো শ্রেণীকৃত ঋণ হচ্ছে এক হাজার ৭০৭ কোটি টাকা। যা তাদের বিতরণকৃত ঋণের ৭ দশমিক ০৩ শতাংশ।
জানা যায়, ২০১৪ সালের জানুয়ারি-মার্চ শেষে শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৪৮ হাজার ১৭২ কোটি টাকা। ওই সময় মোট বিতরণকৃত ঋণের ১০ দশমিক ৪৫ শতাংশ ছিল খেলাপি। এপ্রিল-জুন শেষে সার্বিক শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ দড়িয়েছে ৫১ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকায়।
এরপরে জুলাই-সেপ্টেম্বরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এতে করে মোট ঋণের ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ খেলাপিতে পরিণত হয়। কিন্তু বছর শেষে সেটা কমে হয়েছে ৫০ হাজার ১৫৫ কোটি টাকা।
জানা যায়, ব্যাংকগুলোতে চরম অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা এবং নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানে ঋণ দেয়ায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। অবার নতুন করে বড় ব্যবসায়ীদের বড় ঋণ প্রদানে বিশেষ সুবিধা দেওয়ায় আরো কমে যাবে এ খেলাপি ঋণ।

