
ফাইল ফটো-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা চাই, প্রযুক্তি ব্যবহার ব্যাপকহারে বিস্তার লাভ করুক। ধনী-গরীব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত নির্বিশেষে প্রযুক্তি বিভেদমুক্ত দেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। সরকার ই-গভর্নেন্স অনেকটাই বাস্তবায়ন করে ফেলেছে। আমরা ২০১৮ সাল নাগাদ ১ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় এবং জিডিপিতে সফটওয়্যার ও সেবাখাতের অবদান ১ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি।’
প্রযুক্তিখাতে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে বলেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘২০২১ সালে বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের দেশ, ২০৪১ সালে হবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম উন্নত দেশ। আমাদের মেধার অভাব নেই। শুধু মেধা বিকাশের সুযোগ করে দেয়া প্রয়োজন। আমরা মেধা বিকাশের সুযোগ করে দিচ্ছি। এই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ডিজিটাল বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এগিয়ে যাওয়ার মূল ভিত্তি হয়ে গেছে।’
সোমবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৫ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য প্রযুক্তি বিভাগ, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিস (বেসিস) যৌথভাবে এই মেলার আয়োজন করেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের ছেলেমেয়েরা চাকরির পেছনে না ঘুরে নিজেরা উদ্যোক্তা হতে পারে। তাদের জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংক বিনা জামানতে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেবে। আমাদের ছেলে মেয়েরা আউটসোর্সিংয়ে ভালো করতে ভাষা প্রশিক্ষণে ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাব করা হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘প্রতিটি গ্রামে ডিজিটাল সেন্টার করার ইচ্ছা আমার রয়েছে। দুর্নীতি বন্ধে সব মন্ত্রণালয়ে ইলেক্ট্রনিক টেন্ডার চালু করা হবে।’
জয় বলেন, ‘আমরা পাঁচ বছরে অনেকদূর এগিয়ে এসেছি, কেউই তা কল্পনা করেনি। আগামী পাঁচ বছরে কোথায় যাব- আমিও জানি না। সরকারের লক্ষ্য নেপাল ও ভুটানের সঙ্গেও এই সংযোগ গড়ে তোলা। এলক্ষ্যে রংপুর পর্যন্ত ফাইবার অপিটিক কেবলের সংযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।’
তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন- ওই বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার। স্বাগত বক্তব্যে দেন- বেসিসের সভাপতি শামীম আহসান।
এবার প্রথমবারের মতো ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্স হচ্ছে। আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন সংস্থার (আইটিইউ) সেক্রেটারি জেনারেল হাওলিন ঝাও মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্সে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া মালদ্বীপের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ আদীম, নেপালের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী ড. মিনেন্দ্র প্রসাদ রিজা ও ভুটানের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী ডি এন ডানগাযেল মেলায় অংশ নেবেন।
ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে ২৫ দেশের ৮৫ জন বিদেশি বক্তা অংশ নেবেন। তারা ২৪টি সেমিনার, নয়টি কনফারেন্স এবং ১১টি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নেবেন। ফেসবুকের এশিয়া প্রশান্ত মহাসগরীয় অঞ্চলের পরিচালক আখি দাস এবং গুগলসহ কয়েকটি বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও মেলার বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেবেন।

