ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছে দেশটির সাধারণ নাগরিকরা, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা। মস্কোর ধারাবাহিক হামলায় এখনো ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছে ইউক্রেনবাসী। তাদের প্রধান গন্তব্য ইউরোপের দেশ পোল্যান্ডে। জানা গেছে, এরই মধ্যে ৪০ লাখের বেশি ইউক্রেনীয় বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছে। বুধবার ( ৩০ মার্চ) ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
জানা গেছে, দেশটি থেকে পালিয়ে যাওয়া মোট শরণার্থীর অর্ধেকের বেশি গেছে পোল্যান্ডে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা জানিয়েছে পোল্যান্ড ২৩ লাখ ইউক্রেনীয়কে আশ্রয় দিয়েছে। অধিকাংশ শরণার্থীরাই ইউরোপীয় ইউনিয়নে বিশেষ করে পোল্যান্ড, রোমানিয়া, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ায় আশ্রয় নিয়েছে।
অন্যদিকে ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী পুরুষ ইউক্রেনীয়রা শুরু থেকেই দেশ ত্যাগে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। কারণ তাদের রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হচ্ছে। এমন অবস্থায় নারী ও শিশুরাই মূলত ইউরোপের দেশগুলোতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিচ্ছে।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা চালায় রাশিয়া। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত সংঘাত চলছেই। এদিকে মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) শান্তি আলোচনার জন্য তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সরাসরি বৈঠকে বসেন ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে শুরু হওয়া বৈঠকে বক্তব্য দেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান।
এ সময় তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে তার গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন। এরদোয়ান বলেন, এই আলোচনার অগ্রগতি দুই নেতার সাক্ষাতের সুযোগ তৈরি করবে। আর সেই আলোচনা আয়োজনের জন্যও তুরস্ক প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ পঞ্চম সপ্তাহে গড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গভীর দুঃখপ্রকাশ করেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। তিনি বলেন, এই সংঘাত বন্ধ করা উভয়পক্ষেরই দরকার।

