নিজস্ব প্রতিবেদক : গ্রামীণফোনের (জিপি) রাজস্ব আয় ১০ হাজার কোটি ছড়িয়ে গেছে। ২০১৪ সালে কোম্পানিটি এ মাইলফলক অতিক্রম করেছে। গ্রামীণফোন গত বছর মোট ১০ হাজার ২৭০ কোটি টাকা আয় করেছে যা ২০১৩ সালের চেয়ে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। গত বছর কর প্রদানের পর নিট মুনাফা করেছে এক হাজার ৯৮০ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধনের ৬৫ শতাংশ চূড়ান্ত মূনাফা ঘোষণা করেছে কোম্পানিটি।
সোমবার হোটেল সোনারগাঁয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রামীণফোন তার আর্থিক বিবরণী প্রকাশ করে। কোম্পানির চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) দীলিপ পাল সম্মলিতভাবে এ আর্থিক বিবরণী তুলে ধরেন। গ্রমীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাজিব শেঠি কোম্পানিটির সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন।
রাজিব শেঠি বলেন, ‘২০১৪ সালে গ্রামীণফোন ৫ কোটি গ্রাহক ও ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের ঐতিহাসিক মাইলফলক অতিক্রম করেছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি ২০১৫ সালে আরো ভালো করবে গ্রামীণফোন। তবে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় লক্ষ্যপূণে কিছুটা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।’
গ্রামীণ সিইও বলেন, ‘আগামীতে অনুষ্ঠিত টু-জি তরঙ্গের নিলামে তাদের অংশ নিতে না দেয়া বৈষম্যমূলক।’
উল্লেখ্য, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) তার হাতে থাকা ১৮০০ মেগাহার্জের কিছু তরঙ্গ নিলামে বিক্রি করবে। গ্রামীণের কাছে বর্তমানে ২০ মেগাহার্জ তরঙ্গ থাকায় একচেটিয়া প্রভাব বৃদ্ধি ঠেকাতে বিটিআরসি নিলামে কোম্পানিটির অংশগ্রহণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রামীণফোন ২০১৪ সালে শেয়ার প্রতি আয় ৩৪ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ১৪ দশমিক ৬৭ টাকা যা ২০১৩ সালে ছিল ১০ দশমিক ৮৯ টাকা।
কোম্পানিটি গত ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৪ সালের জন্য পরিশোধিত মূলধনের ৬৫ শতাংশ (প্রতিটি ১০ টাকার শেয়ারের জন্য ৬ দশমিক ৫ টাকা) চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর ফলে ২০১৪ সালের জন্য মোট নগদ লভ্যাংশের পরিমাণ হয়েছে পরিশোধিত মূলধনের ১৬০ শতাংশ (প্রতিটি ১০ টাকার শেয়ারের জন্য ১৬ টাকা), যার মধ্যে রয়েছে ২০১৪ সালের আগস্টে পরিশোধ করা ৯৫ শতাংশ অন্তবর্তী নগদ লভ্যাংশ (প্রতিটি ১০ টাকার শেয়ারের জন্য ৯ দশমিক ৫ টাকা)। চলতি মাসের ১৮ তারিখ পর্যন্ত যারা শেয়ারহোল্ডার থাকবেন তারা এই লভ্যাংশ পাবেন। আগামী ২১ এপ্রিল অনুষ্ঠতব্য বার্ষিক সাধারণ সভার পর এ লভ্যাংশ বিতরণ করা হবে।

