আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কর আদায় করতে হিজড়াদের কাজে লাগানো পরিকল্পনা করছে ভারতের চেন্নাই নগর কর্তৃপক্ষ । সম্প্রতি চেন্নাই সিটি করপোরেশন একটি পাঁচতারা হোটেলের বকেয়া কর আদায়ে হিজড়াদের একটি দল পাঠিয়ে সফল হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নেয়।
চেন্নাইয়ের সবচেয়ে বিলাসবহুল হোটেলগুলোর একটি হিল্টন। বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও হিল্টন কর্তৃপক্ষ সিটি করপোরেশনের প্রায় ৩৪ লাখ রুপি বকেয়া কর মেটায়নি। তাই চলতি সপ্তাহে চেন্নাই সিটি করপোরেশন একদল হিজড়াকে ভাড়া করে ওই হোটেলের সামনে হাঙ্গামা করতে পাঠায়।হিজড়ারা হোটেলের সামনে গানবাজনা আর চেঁচামেচি শুরু করার মিনিট কয়েক পরেই বিব্রত হোটেল কর্তৃপক্ষ পুরো কর মিটিয়ে দেয়।
প্রথম দফায় সফলতার পর চেন্নাই সিটি করপোরেশন বিভিন্ন সংস্থার বকয়ো কর আদায়ে হিজড়াদের কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তাতে হিজড়াদের আদৌ কোনও লাভ হবে কিনা তা নিয়ে ভারতের মানবাধিকার কর্মীরা এক মত হতে পারছেন না।
এর মাধ্যমে হিজড়াদের উপার্জনের একটা পথ খুলে যেতে পারে জানিয়ে আইনজীবী ও অধিকারকর্মি আদিত্য ব্যানার্জি বলেন, ‘আইন না ভাঙা হলেই হল। কর বা বকেয়া ঋণ আদায়ের জন্য বিভিন্ন সংস্থা মাসলম্যান কাজে লাগায় বা আরও নানা বেআইনি পদ্ধতির আশ্রয় নেয়। তাতে আপত্তি না-থাকলে এখানে কীসের আপত্তি?’
তবে নাজ ফাউন্ডেশন নামে একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা অঞ্জলি গোপালন বলেন, হিজড়াদের এখানে লজ্জায় ফেলার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যেটা সেই সমাজের জন্য খুব কাঙ্ক্ষিত নয়। তাঁর প্রশ্ন, আমাদের ভাবতে হবে ওই হোটেল কর্তৃপক্ষ আগে কেন বকেয়া মেটাননি, আর এখন হিজড়াদের দেখেই বা কেন মেটাচ্ছেন? কর না-মেটানো তত লজ্জার নয়, কিন্তু হিজড়ারা তার চেয়েও বেশি লজ্জার?’

