নিজস্ব প্রতিবেদক : মানবাধিকার কর্মী খুশি কবির বলেছেন, নাশকতাকারীদের গুলি করে বা ট্রাক চাপা দিয়ে মারা হচ্ছে। এটা কখনোই কাম্য নয়। তাদের বিচারের আওতায় আনা হোক। সরকারের বিচার বিভাগের ওপর আস্থা নেই বলেই এমন হত্যাকাণ্ড ঘটানো হচ্ছে।
শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। ‘সহিংসতা প্রতিরোধে জনতা’ নামের একটি সংগঠন এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
খুশি কবির বলেন, ‘গণতন্ত্র ও রাজনীতির নামে সারাদেশে যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মানুষ হত্যা করা হচ্ছে তা আমাদের কাম্য নয়। আমরা এই সব থেকে মুক্তি চাই।’
রাজনৈতিক জনসমাবেশ এবং কর্মসূচি দেয়ার অধিকার সব দলেরই আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তবে কর্মসূচির নামে পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যার অধিকার কারো নেই। তাই সভা সমাবেশ করতে দেয়ার অধিকার যেমন দিতে হবে তেমনি কর্মসূচির নামে মানুষ হত্যাও বন্ধ করতে হবে।’
এ সময় সরকার ও প্রশাসনের কাছে এই অবস্থা দ্রুত অবসানের আহ্বান জানান তিনি।
চলমান রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে তাজরিন ও রানা প্লাজার শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের দাবি, আদিবাসীদের ওপর নিপীড়ন, নারী ধর্ষণসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান লেখক জাহানারা নূরী।
এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী এবং তার প্রশাসনের কাছে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো- অবিলম্বে হত্যা ও ধংসের অপরাজনীতি বন্ধ করে জনজীবনে নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়া; রাজনীতির নামে সহিংসতা, সন্ত্রাস, খুনসহ দেশকে অস্থিতিশীল করার কাজে যুক্তদের অবিলম্বে বিচারের মুখোমুখি করা, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা; দেশে আইনের শাসন পুনর্বহালের লক্ষ্যে জবাবদিহীতার সংস্কৃতি সৃষ্টি করা এবং খুন, লুণ্ঠন, সম্পদের ধংসের রাজনীতিসহ সকল বিচারবহির্ভূত হত্যার আইনি বিচার নিশ্চিত করা, আইনের শাসনে জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা বজায় রাখা, রাজনৈতিক সন্ত্রাস মোকাবেলার ঘোলাজলে যুদ্ধাপরাধীর বিচার হারিয়ে যেতে না দেয়া ও তাদের যুদ্ধাপরাধীর তরান্বিত করা এবং বিচারের রায় দ্রুত কার্যকরের ব্যবস্থা গ্রহণ।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- মানবাধিকারকর্মী ঢাবি অধ্যাপক মেঘনা গুহ ঠাকুরতা, ব্যারিস্টার জ্যোতিময়া বড়ুয়া, লেখক আনোয়ারা পারভেজ, মাহফুজা হক প্রমুখ।

