কতিপয় স্বার্থান্বেষী কুচক্রী মহল কর্তৃক শ্রী শ্রী রামঠাকুরের বংশধর তথাঠাকুরের আবির্ভাব স্থান বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার (বর্তমান শরীয়তপুর জেলা) ডিঙ্গামানিক গ্রামে স্থিত ঠাকুরধামের বর্তমান মোহন্ত শ্রীমৎ ধূর্জটি প্রসাদ চক্রবর্তী মহারাজসহ অনেকের বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্যপূর্ণ, অশালীন, মানহানিকর ও কুরুচিকর বক্তব্য চট্টগ্রামের শ্রী শ্রী কৈবল্যধামের বর্তমান কথিত মোহন্ত শ্রী কালিপদ ভট্টাচার্য কর্তৃক দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রদান করায় তার বিরুদ্ধে শ্রী শ্রী রামঠাকুরের ভক্তবৃন্দ প্রতিবাদ করায় প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে একটি হয়রানিমূলক মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও কু-উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চট্টগ্রামের আকবরশাহ থানায়, ‘ICT (Information and Communications Technology- তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি) Act’ -এ জনৈক ট্রাস্টি সদস্য এডভোকেট প্রদীপ দত্ত কর্তৃক গত ১৯ জুলাই ২০২১ ইং (মামলা নং – ১৩) মামলা দায়ের করায় তার বিরুদ্ধে শ্রী শ্রী রামঠাকুরের ভক্ত অনুরাগীদের পক্ষে তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাই।
যুগাবতার শ্রী শ্রী রামঠাকুর (১৮৬০-১৯৪৬) বাংলাদেশের ফরিদপুর, বর্তমান শরীয়তপুর জেলার ডিঙ্গামানিক গ্রামে জন্ম আবির্ভূত হয়েছিলেন। তিনি একাধারে শ্রী শ্রী কৈবল্যনাথ ও শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ। তার দীর্ঘ ৯০ বছরের নরলীলার ৪০ বছর হিমালয়ে লোকচক্ষুর অন্তরালে সাধনায় কেটেছে। বাকি প্রায় ৫০ বছর তিনি লোকালয়ে জীবদ্ধারকল্পে লোকের দ্বারে দ্বারে নিরলসভাবে শ্রীনাম বিতরণ করে গেছেন।
চট্টগ্রাম পাহাড়তলীতে শ্রী শ্রী ঠাকুরের নির্দেশে ১৯৩০ সালের ২৬ জুলাই শ্রী শ্রী কৈবল্যধাম নামক আশ্রম প্রতিষ্ঠাসহ মোহন্তপদ সৃষ্টি হয়। বর্তমানে ঐ ধামে ৭ম মোহন্তের কার্যকাল চলছে।
শ্রী শ্রী ঠাকুরের আবির্ভাব স্থান ডিঙ্গামানিকে শ্রী শ্রী ঠাকুরের নির্দেশে ১৯৪৯ সালে (বাংলা ২৯ মাঘ, ১৩৫৫) শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণের সেবা মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয় এবং শ্রী শ্রী ঠাকুর তার ভ্রাতুষ্পুত্রকে (ভাইয়ের ছেলে) মোহন্ত নিয়োগ করেন এবং শ্রীনাম প্রদানের অধিকার দেন। এই মন্দির প্রতিষ্ঠার পূর্বে শ্রী শ্রী ঠাকুর টালির ঘরে শ্রী শ্রী কৈবল্যনাথের চিত্রপট স্থাপন করে পূজার নির্দেশ দিয়ে পরিবারের লোকজনকে বলেছিলেন, ‘তোমরা নাম দিবা, তোমাদের দেয়া নামে কুলকুন্ডলনী শক্তি জাগ্রত হইবো।’
এই ধারাবাহিকতায় শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণের সেবা মন্দিরে এখন ৫ম মোহন্তের কার্যকাল চলছে। প্রায় আট দশক ধরে মোহন্ত ছাড়াও শ্রী শ্রী ঠাকুর পরিবারের অনেকেই বংশ পরম্পরায় ‘শ্রীনাম’ প্রদান করছেন।
শ্রী শ্রী কৈবল্যধামের ৫ম মোহন্ত বাংলাদেশ হাইকোর্টের আপিল বিভাগের স্বনামধন্য বিচারপতি শ্রী বিমলেন্দু বিকাশ রায় চৌধুরী মহারাজের মত আইনজ্ঞ ব্যক্তিসহ পূর্ববর্তী মোহন্তগণ ঠাকুর পরিবারের শ্রী নাম প্রদান ও মোহন্ত পদ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নাই।
পক্ষান্তরে বর্তমান তথাকথিত ৭ম মোহন্ত শ্রী কালিপদ ভট্টাচার্য শ্রী শ্রী রামঠাকুরের অনাশ্রিত, নাম প্রদানে অনধিকারি, অন্য গুরুর শিষ্য, মোহন্ত পদে গত ২৬ জুলাই ২০২০ ইং অভিসিক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি এবং ট্রাস্টির সদস্যগণ শ্রী শ্রী ঠাকুরের বংশধর তথা ডিঙ্গামানিকের বর্তমান মোহন্ত শ্রীমৎ ধূর্জটি প্রসাদ চক্রবর্তী মহারাজসহ অনেকের বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্যপূর্ণ, অশালীন, অপমানজনক কুরুচিপূর্ণ বাক্য চৌমুহনী, ফেনী, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়ীয়া মন্দিরে এমনকি দেশের যেখানে গেছেন সেখানেই ন্যাক্কারজনক ভাবে বলে চলেছেন যা শ্রী শ্রী কৈবল্যধামের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে দৃশ্যমান।
গত এক বছরে তথাকথিত ৭ম মোহন্ত শ্রীকালীপদ ভট্টাচার্য ও ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যগণ, শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণের সেবা মন্দিরের মোহন্তসহ বহু রামাশ্রিত ভক্ত এবং মন্দিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের নোটিশ, পুলিশী-অভিযোগ, হামলা, গণ-বিজ্ঞপ্তি ও বিশেষ বিজ্ঞপ্তি ইত্যাদিসহ সকল অপকর্ম করে আসছেন যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
আমরা জানতে পারলাম, শ্রী শ্রী কৈবল্যধামের ট্রাস্টি বোর্ডের পক্ষে ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য এডভোকেট প্রদীপ দত্ত কর্তৃক ভারত এবং বাংলাদেশের কতিপয় রামাশ্রিত গুরুভাইদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের আকবরশাহ থানায় (ICT Act-এ মামলা নং – ১৩, ১৯-০৭-২০২০ ইং) মামলা করা হয়েছে।
যা নিঃসন্দেহে হিংসাত্মক, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আজকের এই অশুভ পরিস্থিতি আমরা মেনে নিতে পারি না। কেবলমাত্র ট্রাস্টি বোর্ডের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার হিংসাত্মক মনোভাবই বর্তমান পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য দায়ী।
শ্রী শ্রী ঠাকুরের প্রাণের ধাম শ্রী শ্রী কৈবল্যধামের বিগত ৯০ বছরের সুনাম, সহনশীলতা, আধ্মাতিকতাকে জলাঞ্জলি দিয়ে নিজেদের গুরুভাইদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা করে কথিত মোহন্ত ও ট্রাস্টি বোর্ড শ্রী ধামের ভাবমূর্তিকে ধ্বংস করেছে।
বর্তমানে কথিত ৭ম মোহন্ত শ্রী কালিপদ ভট্টাচার্য শ্রী শ্রী রামঠাকুরের অনুসারী কিংবা আশ্রিত নন। প্রায় শতবর্ষের এই পবিত্র ধামের বিশাল সম্পদ আত্মসাৎ করার কুমানষে এবং শ্রী শ্রী ঠাকুরের চরণাশ্রিত ভক্তবৃন্দের মধ্যে বিভেদ ও দ্বিধা-দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপকৌশল মাত্র।
এ ধরনের অবস্থা অব্যাহত থাকলে সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে। তাই শ্রী শ্রী রামঠাকুরের অনুসারী ভক্তবৃন্দ সহনশীল মনোবৃত্তি পোষণ করে দ্রুততম সময়ে বর্তমানে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান ও উত্তরণ আবশ্যক, সমীচীন এবং বাঞ্ছনীয় হয়।
এমতাবস্থায় চট্টগ্রামের আকবরশাহ থানায় দায়েরী আইসিটি এ্যাক্টে বিগত ১৯ জুলাই ২০২১ ইং দায়েরী মামলা নং-১৩ প্রত্যাহার করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি এবং এ ধরনের হীন কার্যকলাপের বিরুদ্ধে আমরা তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
প্রতিবাদকারীগণের পক্ষে-
প্রকৌশলী অজয় কুমার দাস
সাধারণ সম্পাদক
সত্যাশ্রয়ী শ্রী রামমন্ডলী
কেন্দ্রীয় কার্যালয়
১২, সিদ্ধেশ্বরী লেন, রমনা, ঢাকা ১২১৭, বাংলাদেশ।

