আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সম্প্রতি ভারতের আভ্যন্তরীণ বিমান কোম্পানি ইন্ডিগোর এক ফ্লাইটে ভ্রমণ করার সময় পাশে বসা এক যুবতীর শ্লীলতাহানি করার চেষ্টা করেন ষাটোর্ধ বয়সী এক পৌঢ়। ওই নারী যাত্রী এ ঘটনার ভিডিও করেন। ফলে ধরা পড়েছেন ওই ভদ্রলোক। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন।
গত ৩১ জানুয়ারি ওই ভিডিওটি ইউটিউবে শেয়ার করার পর মঙ্গলবার পর্যন্ত ১৭ লাখ ইউজার এটি দেখেছেন। এতে দেখা যায়, হাত দিয়ে মুখ আড়াল করে বসে আছেন অভিযুক্ত এনআরআই রবীন্দ্র ঝুনঝুনওয়ালা। আর তার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করে যাচ্ছেন এক যুবতী ।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, গত ২৭ জানুয়ারি মুম্বই থেকে ভুবনেশ্বর ফেরার পথে পাশের সিটে বসে থাকা ওই ব্যক্তির (রবীন্দ্র ঝুনঝুনওয়ালা) বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনেন এক নারী সহযাত্রী। বারবার লাঞ্ছিত হওয়ার পর মেয়েটি রেগে গিয়ে তার ভিডিও তুলতে শুরু করে দেন। মেয়েটিকে ভিডিও তুলতে দেখার সঙ্গে সঙ্গে হাত দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলার চেষ্টা করেন রবীন্দ্র ঝুনঝুনওয়ালা।
ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে মেয়েটি অভিযুক্তকে বলছেন ‘এখন আপনি লজ্জা পাচ্ছেন? আমি এবার পুলিস ডাকব।’ হাতেনাতে ধরা পড়ে যাওয়ার পর আমতা আমতা করে ‘সরি’ বললে উল্টে ওই যুবতী ব্যঙ্গাত্মক ঢঙে জবাব দেন ‘না, আমি দুঃখিত। আমি তো একটা মেয়ে, একা একা প্লেনে চড়ার জন্য দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন।’ ভুবনেশ্বরে প্লেন নামার পর ব্যবসায়ী ঝুনঝুনওয়ালাকে গ্রেফতার করে পুলিস। পরে তিনি জামিন পান।
এদিকে টাইমস অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে আলাপকালে নিজের বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঝুনঝুনওয়ালা। তিনি বলেন,‘আমার ওই মেয়ের সঙ্গে অশালীন আচরণ করার কোনো ইচ্ছা ছিল না। বিমানটি ল্যান্ড করার সময় দুর্ঘটনাবশত: তার হাতের সঙ্গে আমার হাত লেগে যায়। এ নিয়ে সে হৈচৈ শুরু করে দেয়।’
তিনি ওই নারীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করবেন বলেও জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য ওই অভিযোগকারী নারী ঝাড়খন্ডের বাসিন্দা। বয়স ৩২। ঘটনার দিন তিনি নিজের ফোন ব্যবহার করে দুই বার অভিযুক্তের ভিডিও তুলেছিলেন-একবার প্লেন থেকে নামার আগে, আর একবার এয়ারপোর্টে। দুটি ভিডিও পরে ইউটিউবে পোস্ট করা হয়। দ্বিতীয় ভিডিওটিতে দেখা যায়, অভিযুক্ত ঝুনঝুনওয়ালা হাসিমুখে বলছেন ‘সবাই ভুল করে। আমিও একটা বড় ভুল করে ফেলেছি। আমার একটা মেয়েও আছে।’

