নিজস্ব প্রতিবেদক : বাখরাবাদ গ্যাস কোম্পানির গ্যাসের দাম ২ দশমিক ৪৯ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গঠিত কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি।
বুধবার কারওয়ান বাজারে বিইআরসি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত গণশুনাতিতে এ সুপারিশ করে মূল্যায়ন কমিটি।
এর আগে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি গ্যাসের দাম গড়ে ৪০ শতাংশ (৫.২৪ থেকে ১২২.২২ শতাংশ) বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়।
বাখরাবাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, এতদিন গ্যাসের কোন পণ্যমূল্য ছিল না। সরকার প্রতি হাজার ঘনফুট গ্যাসের পণ্যমূল্য নির্ধারণ করেছে ২৫ টাকা। যে কারণে দাম বাড়ানো প্রয়োজন। তবে কারিগরি কমিটি প্রস্তাব বিশ্লেষণ করে বলেছে তাদের গ্যাসের দাম ২.৪৯ শতাংশ বাড়ানোই যথেষ্ট।
বাখরাবাদ কোম্পানির প্রস্তাবে জানানো হয়, তারা গত অর্থ বছরে (২০১৩-১৪) মুনাফা করেছে ১৩৮ কোটি ৯ লাখ টাকা। মুফানা থাকায় কর্মচারিরা প্রত্যেকে প্রফিট বোনাস পেয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। ব্যাংকে স্থায়ী আমানত রয়েছে ৬২৯ কোটি টাকা।
এদিকে শুনানিতে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা শামসুল আলম বলেন, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির এই প্রস্তাবের আইনগত ভিত্তি নেই। কারণ তা প্রচলিত রীতি মেনে করা হয়নি। আইনগতভাবে এই প্রস্তাব গণশুনানির উপযুক্ত নয়। আবেদনগুলো খারিজ করার প্রস্তাব করেন তিনি।
গণশুনানি পরিচালনা করেন বিইআরসি চেয়ারম্যান এ আর খানসহ কমিশনের সদস্য ড. সেলিম মাহমুদ, প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন, মাকসুদুল হক ও রহমান মুরশেদ। অংশ নেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক নুরুল ইসলাম, গণসংহতির প্রধান সম্বন্বয়ক জুনায়েদ সাকিসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা।
এদিকে ভেতরে বিইআরসি কার্যালয়ে যখন গণশুনানি চলছিল তখন ভবনের বাইরে সিপিবি ও বাসদ প্রতিবাদ সমাবেশ করছিল।
সমাবেশে সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, বেআইনিভাবে উত্থাপিত গ্যাসের সম্পদমূল্য ২৫ টাকার বিষয়ে সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত এই গণশুনানি অর্থবহ হবে না। আগে সম্পদমূল্যের বিষয়ে সুরাহা করতে হবে।
উল্লেখ্য, ২ ফেব্রুয়ারি গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের উপর গণশুনানি শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানির (জিটিসিএল) প্রস্তাবের উপর শুনানি গ্রহণ করা হয়। ৩ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানির (পিজিসিএল) প্রস্তাবের উপর শুনানি করা হয়। গ্যাসের পণ্যমূল্য (প্রস্তাবিত প্রতি হাজার ঘনফুট ২৫ টাকা) নির্ধারণ করা হলে পিজিসিএল’র ৫.৫৯ শতাংশ দাম বৃদ্ধির প্রয়োজন পড়বে।
অন্যদিকে তিতাসের দাম বৃদ্ধির প্রয়োজন নেই বলেন মত দিয়েছে বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি।
কোম্পানিগুলো সকলেই অভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে। তারা আবাসিকে (এক চুলা) ৪০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ টাকা, দুই চুলা ৪৫০ টাকার পরিবর্তে ১ হাজার টাকা, বিদ্যুৎ খাতে প্রতি হাজার ঘন মিটার গ্যাসের বর্তমান দর ৭৯.৮২ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৮৪ টাকা, সার উৎপাদনে ৭২.৯২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা, ক্যাপটিভ পাওয়ার ১১৮.২৬ টাকা থেকে ২৪০ টাকা, বাণিজ্যিকে ২৬৮.০৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫০ টাকা, চা বাগান ১৬৫.৯১ থেকে বাড়িয়ে ২০০ টাকা, সিএনজি ৮৪৯.৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ১৩২.৬৭ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

