নিজস্ব প্রতিবেদক : মানব দেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন ও প্রতিস্থাপন আইনের ২টি ধারা কেন বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
বুধবার এক সম্পূরক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেন। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও স্বাস্থ্য সচিব ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের উক্ত রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আইনের ওই ধারা দুটি হলো- মানব দেহে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সংযোজন (অ্যাক্ট) আইন ১৯৯৯ এর ২(খ) ও (গ)। আইনে বলা আছে রক্তসম্পর্কীয়: পুত্র, কন্যা, পিতা, মাতা, ভাই, বোন ও আপন চাচা, ফুফু, খালা এবং স্বামী-স্ত্রীকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপন করা যাবে।
কিন্তু অ্যাপোলো হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন কিডনি রোগের চিকিৎসাধীন মো. বাবুলকে তার (মামাত ভাই) এমএ রশিদ কিডনি দান করতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেটি গ্রহণ করতে রাজি হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রশিদকে বলেন, ‘পিতা-মাতা, স্বামী-স্ত্রী, আপন ভাই-বোন, পিতা-পুত্র, কন্যা, আপন চাচা-চাচী, দাদা-দাদী এদের ছাড়া অন্য কারো শরীরে কিডনি দান করা যাবে না। যদি আপনি বাবলুকে আপনার কিডনি দান করতে চান, তাহলে আদালতের আদেশ নিয়ে আসেন।’
তখন এমএ রশিদ হাইকোর্টে (ওই আইনটি চ্যালেঞ্জ করে) একটি রিট আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত মানব দেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপন করার আদেশ কেন দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।
জারি করা রুলের জবাব দিতে এসে বিবাদীপক্ষ আদালতে বলেন, ‘যে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপন করার আদেশ দিয়েছেন কিন্তু এ সংক্রান্ত আইন পরির্বতনের বিষয়ে কোন নির্দেশনা দেন নি। তখন রিটকারীর এমএ রশিদের আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ এই আইনের (অ্যাক্ট) আইন ১৯৯৯ এর ২(খ) ও (গ) ধারা দুটি বাতিলের সম্পূরক আবেদন করেন।’
ওই সম্পূরক আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালত আজ এ আদেশ দেন। পরে আইনজীবী ইউনুছ আলী সাংবাদিকদের বলেন, ‘সংবিধানের ৩২ এ জীবন ও ব্যাক্তি স্বাধীনতার অধিকার রক্ষণ : আইন অনুযায়ী জীবন ও ব্যাক্তি স্বাধীনতা হইতে কোন ব্যাক্তিকে বঞ্চিত করা যাবে, না বলে উল্লেখ আছে।’

