- মানব সেবায় নিজকে বিলিয়ে দিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ
- করোনাভাইরাসের প্রকোপে বিপর্যস্ত মানবতা
নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রাণঘাতী বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপে বিপর্যস্ত মানবতা। অধিকাংশ মানুষই অসহায় দারিদ্রপীড়িত। করোনার কারণে এ অসহায়ত্ব বেড়ে গেছে অনেকগুণ। অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের সেবায় উদার হস্তে নিঃস্বার্থভাবে অর্জিত সম্পদ বিলিয়ে যাচ্ছেন প্রমি এগ্রো ফুডস্ লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান সিআইপি এনামুল হাসান খান (শহিদ)। মানুষের মাঝে অনন্তকাল বেঁচে থাকার স্বপ্ন নিয়ে মানব সেবায় নিজকে বিলিয়ে দিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ তিনি। স্বেচ্ছাশ্রমে মানব সেবায় সর্বদা নিয়োজিত রেখেছেন নিজকে। তিনি কাজের মাধ্যমেই ব্যাপক পরিচিতি ও ভালবাসা অর্জন করেছেন মানুষের এবং তাঁর শিল্প প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা ও মসজিদ নির্মাণ করে শিক্ষার আলো ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। এ ছাড়াও ব্যাপক সামাজিক কর্মকাণ্ডে তিনি নিজকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘প্রমি এগ্রো ফুডস্ লিমিটেড’ জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় পরপর তিনবার তিনি সিআইপি পদমর্যাদায় ভূষিত হয়েছেন। এসবের পাশাপাশি হযরত শাহ কবির (রহ.) মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণের বেহাল দশা থেকে উত্তরণে নিঃস্বার্থভাবে এগিয়ে আসেন তিনি। অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিরলস প্রচেষ্টায় উত্তরখান মাজার এলাকার সকল মানুষকে সঙ্গে নিয়ে নিজ অর্থায়নে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে শাহ্ কবির মাজার মসজিদকে আধুনিকতার ছোঁয়ায় গড়ে তুলেছেন উত্তরখানের কৃতি সন্তান, বিশিষ্ট সমাজসেবক, শিল্পপতি ও সিআইপি এনামুল হাসান খান (শহিদ)।
করোনা মহামারির শুরু থেকে উত্তরখান থানার ৩টি ওয়ার্ডের সকল শ্রেণীর নাগরিকদের পাশে দাঁড়িয়ে তার অনবদ্ধ প্রচেষ্টায় প্রমি গ্রুপের একঝাক তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে নিয়ে তিনি অসহায় মানুষের ভালো-মন্দ, খোঁজ-খবর নিয়ে গরিব, দুঃস্থ ও বেকার পরিবারের মাঝে কয়েক দফা খাদ্য সহায়তা ও নগদ অর্থ প্রদানসহ স্থানীয় ভূমিহীন-গরিব পরিবারের মাঝে সম্পূর্ণ নিজ খরচে পাকা বাড়ি ঘর নির্মাণ করে তাদের মাথা গোজার ঠাইয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কারণে আপামর জনসাধারণের কাছে তিনি ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ হিসেবে উপাধি পেয়েছেন।
উত্তরখান এলাকার স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ ও সাবেক উত্তরখান ইউনিয়ন পরিষদ ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার মাহমুদুল হাসান আলাল জানান, এনামুল হাসান খান শহিদ (সিআইপি) দীর্ঘদিন যাবৎ গোপনে নীরবে নিবৃত্তে এলাকার প্রতিটি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় প্রতি মাসে শত শত বস্তা চাল, নগদ অর্থ ও স্থানীয় মসজিদে লক্ষ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়ে থাকেন তার মত এমন নিঃস্বার্থ সমাজসেবক ও দানবীর, জনদরদী বৃহত্তর উত্তরায় আছেন বলে আমার মনে হয় না। তিনি আরও জানান, ঈদ-উল-ফিতরের ১ সপ্তাহ আগে ২৫ কেজি ওজনের খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ উত্তরখানের প্রায় ১০ হাজার অসহায় পরিবারের মাঝে বিতরণ করেছেন প্রমি গ্রুপের চেয়ারম্যান। উত্তরখান এলাকা ছাড়াও বৃহত্তর উত্তরাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন তাদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে যখনই তার কাছে ছুটে এসেছেন, তিনি কাউকে খালি হাতে ফেরাননি এমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয় রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী সমাজ, মানবাধিকার কর্মী, সংবাদকর্মীসহ এলাকায় বসাবাসরত সাধারণ জনগণ।
উত্তরখান হযরত শাহ্ কবির (রহ.) মাজার ওয়াকফ্ এস্টেট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও মাজারে উন্নয়নের ছোঁয়া দেখে মাজার প্রাঙ্গণে আশেকান ভক্তবৃন্দের উপচেপড়া ভিড় জমে উঠেছে। হযরত শাহ্ কবির (রহ.) দরগাহে প্রাচীনকালে একটি ছোট মাটির মসজিদ ছিল। কালক্রমে এটাকে কয়েক দফা সংস্কার করে নামাজের জায়গা বাড়িয়ে সম্প্রসার করে পাকা মসজিদে রূপান্তর করা হয়। প্রমি এগ্রো ফুড্স লি. এর চেয়ারম্যান এনামুল হাসান খান শহিদ (সিআইপি) এর নিজস্ব অর্থায়নে বর্তমানে মসজিদটিকে আধুনিক, সুদৃশ্য, দৃষ্টিনন্দনসহ বহুতল করা হয়েছে। যার বর্তমান নাম- হযরত শাহ্ কবির (রহ.) মাজার ওয়াক্ফ এস্টেট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ। অত্র এলাকায় এই মসজিদটি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ হিসেবে বিবেচিত।
হযরত শাহ্ কবির (রহ.) ও হযরত পাগল শাহ্ (রহ.) আশেকান ফাউন্ডেশনের সভাপতি নূরুল আমিন অরুন বলেন প্রমি গ্রুপের চেয়ারম্যান শহিদ ভাই নিজস্ব তহবিল থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে মাজার ও মসজিদের উন্নয়ন কাজ শুরু করেন। আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি শত ব্যস্ততার মাঝেও হযরত শাহ্ কবির (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণ পুকুরের চারপাশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, অজুখানা ও মাজারের মূলফটকে অত্যাধুনিক গেইটের কাজ শুরু করেছেন। আমরা এলাকার আপামর জনগণ তার নিকট কৃতজ্ঞ। আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মোমেন বলেন, হযরত শাহ্ কবির (রহ.) মাজার ওয়াকফ্ এস্টেট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের নির্মাণ কাজ শেষ হলে এটি হবে ঢাকা জেলার মধ্যে আকর্ষণীয় সুন্দর একটি মসজিদ। আওয়ামী লীগ নেতা মাহি ভূইয়া বলেন, এ ধরনের নান্দনিক মসজিদ ও মাজার উত্তরখান এলাকাকে সৌন্দর্য বৃদ্ধিসহ নান্দনিক করে তুলেছে, অবহেলিত সুলতানুল আওলিয়া হযরত শাহ্ কবির (রহ.) ও হযরত পাগল শাহ্ (রহ.) মাজার ও কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের উন্নয়ন কাজে এগিয়ে আসায় আমরা স্থানীয় এলাকাবাসী প্রমি গ্রুপের চেয়ারম্যানের নিকট কৃতজ্ঞ। এ ছাড়াও উত্তরখান ৪৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীন বলেন, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রমি গ্রুপের চেয়ারম্যান এনামুল হাসান খান তার নিজস্ব অর্থায়নে হযরত শাহ্ কবির (রহ.) মাজার ও কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ব্যতিক্রমধর্মী এ উন্নয়ন অত্র এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও নতুন প্রজন্মসহ সারা দেশের আশেকান ভক্তবৃন্দের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। হযরত শাহ্ কবির (রহ.) মাজার এস্টেটের এই দৃষ্টিনন্দন উন্নয়ন দেখে বর্তমান ও আগামী প্রজন্ম এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে।
সুলতানুল আউলিয়া হযরত শাহ্ কবির (রহ.) এই মাজারটি ঢাকা মহানগর উত্তর সিটি কর্পোরেশন উত্তরার উত্তরখান থানা অবস্থিত। এলাকার প্রবীণ লোকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, প্রায় ৪৫০ বছর পূর্বে আধ্যাত্মিক সাধক হযরত শাহ্ কবির (রহ.) ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে উত্তরখানে আসেন।
হযরত শাহ্ কবির (রহ.) মাজারে আগত আশেকান ভক্তবৃন্দ নিজেদের মনোবাসনা পূরণের লক্ষ্যে এবং বিভিন্ন বিষয়ে মানত করে প্রতিদিন দানবাক্সে নগদ টাকা-পয়সা, হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল দান করলেও দীর্ঘদিন যাবৎ হযরত শাহ্ কবির (রহ.) ও হযরত শাহ্ পাগল (রহ.) মাজার এবং ওয়াক্ফ এস্টেট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে উন্নয়নের তেমন কোন ছোঁয়া লাগেনি।
মাজার এলাকার আশপাশে বসবাসরত জনগণ, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ ও সুশীল সমাজের লোকজনের অনুরোধে ৬ মাস যাবৎ এলাকাবাসীর সমন্বয়ে নিজস্ব তহবিল থেকে আর্থিক অনুদানের মাধ্যমে প্রমি গ্রুপের চেয়ারম্যান এনামুল হাসান খান শহিদ (সিআইপি) সাবেক মোতাওয়াল্লীর চাচাতো ভাই ও হযরত শাহ্ কবির (রহ.) এর দশম বংশধর এলাকাবাসীসহ উক্ত ওয়াক্ফ এস্টেটের সার্বিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড শুরু করেন যা এখনো চলমান রয়েছে। প্লান অনুযায়ী প্রথমেই তিনি হযরত শাহ্ কবির (রহ.) মাজারে আগত পুরুষ আশেকান ভক্তবৃন্দ ও জিয়ারতকারীদের বিশ্রাম ও রাত্রী যাপনের জন্য দু’টি বিল্ডিং ঘর নির্মাণ করেন মাজারের দক্ষিণ পূর্ব পাশের খালি জায়গায়। এ ছাড়াও দক্ষিণ পশ্চিম পাশে মহিলা জিয়ারতকারী ও পাগল ফকির আশেকান ভক্তবৃন্দের জন্য রাত্রী যাপন ও বিশ্রামের জন্য বড় একটি বিল্ডিং ঘর নির্মাণ করেন এবং জিয়ারতকারীদের রাত্রী যাপন ও বিশ্রামের ঘরের দুই পাশে ৩টি করে সুসজ্জিত বাথরুম তৈরি করেছেন। অত্র এলাকায় মহিলাদের জুম্মার নামাজ পড়ার কোন মসজিদ না থাকায় কয়েক যুগ পর হযরত শাহ্ কবির (রহ.) মাজার এস্টেটে এনামুল হাসান খান (শহিদ) মাজার কেন্দ্র্রীয় জামে মসজিদের দক্ষিণ পাশে শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য একটি সুসজ্জিত পাঞ্জেগানা মসজিদ নির্মাণ করেন।
এ ছাড়াও হযরত শাহ্ কবির (রহ.) মাজারের পাশে এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসলমান, মাজারে আগত পাগল-ফকির, সুশীল সমাজ, যুব সমাজ ও ছাত্র সমাজ ইসলামী শিক্ষায় জ্ঞান অর্জন করার এবং লাইব্রেরিতে কোরআন, হাদিস রিসার্চসহ বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণামূলক কর্মকাণ্ড চলমান রাখার লক্ষ্যে বিভিন্ন ইসলামিক বই, কোরআন শরীফ, বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফসহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ, হাদিস শরীফসহ বিভিন্ন ওলি আওলিয়াদের জীবনী লেখা বই-এ সমৃদ্ধ হয়েছে মাজার কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি। এ মাজার এস্টেটে অবস্থিত হযরত শাহ্ কবির (রহ.), হযরত হাবিব শাহ্ (রহ.), শাহ্ পাগল (রহ.) ও বিবি সাহেবার মাজারকে নতুন রূপে অত্যাধুনিকভাবে সাজিয়ে অত্র এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও আশেকান ভক্তবৃন্দের হৃদয়ে দাগ কেটেছেন সিআইপি এনামুল হাসান খান (শহিদ। ) একাধিক সূত্রে আরও জানা যায়, হযরত শাহ্ কবির (রহ.) মাজার ওয়াক্ফ এস্টেট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে কোটি টাকা ব্যয় করে নতুনভাবে নান্দনিক রূপে সাজিয়ে তোলার কারণে মাজার মসজিদটি বর্তমানে অত্র এলাকার মানুষের মাঝে দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠেছে। মাজার প্রাঙ্গণে জিয়ারতকারীদের অবাধ চলাফেরার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিট পুলিশিং অফিসসহ ব্যক্তিগতভাবে নিরাপত্তা প্রহরী রেখেছেন তিনি। পাগল ফকির, আশেকান ভক্তবৃন্দ ও মাজার জিয়ারতকারীদের জন্য বিনামূল্যে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাসহ তাদের চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা রয়েছে হযরত শাহ্ কবির (রহ.) মাজারে। এনামুল হাসান খান (শহিদ) নিজস্ব অর্থায়নে হযরত শাহ্ কবির (রহ.) মাজার ও হযরত শাহ্ পাগল (রহ.) মাজারকে নান্দনিক রূপে নতুন করে দামি ও দৃষ্টিনন্দন টাইলস্ এর মাধ্যমে সুসজ্জিত করার কারণে এর সৌন্দর্য দেখার জন্য প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ মাজার এস্টেটে ভিড় জমান। সবকিছু মিলিয়ে বর্তমানে মাজার ও মসজিদ প্রাঙ্গণে রাতের আঁধারে আলোকজ্জল রঙিন বাতির আলোর ঝলকানির দৃশ্য দেখার জন্য এবং মনোরম পরিবেশে মাজার জিয়ারত করার উদ্দেশ্যে সারাদেশ থেকে হাজার হাজার আশেকান ভক্তবৃন্দ বর্তমানে হযরত শাহ্ কবির (রহ.) মাজারে এসে ভিড় জমায়।
বহু বছর পর মাজারের মনোরোম এই দৃশ্য দেখে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে আগত ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, স্থানীয় নারী-পুরুষ, আপামর জনগণ ও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাজার জিয়ারতে আগত পাগল-ফকির ও আশেকান ভক্তবৃন্দরা দানবীর এনামুল হাসান খান (শহিদ) ও তার পরিবারের সকল সদস্যের জন্য প্রাণভরে দোয়া করেন বলে জানা যায়।

