চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : বিএনপি-জামায়াত জোটের চলমান আন্দোলনে সংঘটিত সহিংসতা মোকাবেলায় নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ ২০টি স্পট চিহ্নিত করেছে সিএমপি। পাশাপাশি সিএমপির ১৬ থানার মধ্যে জনসংখ্যা ও অবস্থানগত কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে তিনটি থানাকে। এছাড়া এলাকাভিত্তিক ৮৫ জন নাশকতাকারী ও ২৫ ইন্ধনদাতার নামের তালিকাও তৈরি করা হয়েছে।
গত ৬ জানুয়ারি থেকে বিরোধীজোটের লাগাতার কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর বিছিন্নভাবে নগরীতে চলছে নাশকতা। চিহ্নিত কয়েকটি স্পটেই চোরাগোপ্তা হামলা চালানো হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ককটেল হামলা থেকে শুরু করে পেট্রোল বোমা হামলা এবং গাড়ি ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ সবই ঘটছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, হরতাল-অবরোধে রাস্তায় মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় রাস্তায় তল্লাশির পাশাপাশি টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হলেও স্পটভিত্তিক নাশকতা কোনোভাবেই রোধ করা যাচ্ছে না। এসব এলাকার নাশকতা রোধ করতে সিএমপির ১৬ থানার মধ্যে প্রাথমিকভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ২০টি স্পটকে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩টি থানাকেও অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সিএমপি সূত্র জানায়, চলমান সহিংসতায় অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ স্পট হিসেবে প্রাথমিকভাবে নগরীর রাহাত্তার পুল, কালামিয়া বাজার, নতুন ব্রিজ, তুলাতলী ও বেড়া মার্কেট, দিদার মার্কেট, জঙ্গি শাহ মাজার গেট, তেলপট্টি মোড়, কে বি আমান আলী রোডের ফুলতলা, কদমতলী বাস স্ট্যান্ড, হালিশহর বড়পুল, সিটি গেইট, ইপিজেড মোড়, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা, স্টেশন রোড, তিনপুলের মাথা, অক্সিজেন মোড়, আকবর শাহ মসজিদ, আগ্রবাদ বিদ্যুৎ ভবন, কাটগড় মোড়কে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ২০টি স্পট ছাড়াও তালিকার বাইরে আরো ৬০টির মত স্পটে পুলিশ মোতায়ন অব্যাহত রেখেছে সিএমপি।
এছাড়া নগরীর ১৬ থানায় ৮৫ জন নাশকতাকারী ও ২৫ জন ইন্ধনদাতার একটি তালিকা তৈরি করেছে সিএমপি। বিশেষ গোপনীয় দাবি করে তালিকাটি প্রকাশ করছেন না সিএমপির কর্মকর্তা। ১৬ থানার মধ্যে জনসংখ্যা ও অস্থানগত কারণে চকবাজার, বাকলিয়া ও সদরঘাট থানাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব থানা এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি চকবাজার থানার সীমানা প্রাচীরের ভেতর রাতে ককটেল হামলাও হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সিএমপি কমিশনার আব্দুল জলিল মণ্ডল বলেন, ‘ইতোমধ্যে এলাকাভিত্তিক সহিংস প্রবণ ২০টি স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্পটে বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে, পাশাপাশি এসব স্পটে নাশকতাকারীদের চিহ্নিত করে তালিকা করা হয়েছে। নাশকতাকারীদের পাশাপাশি ইন্ধনদাতা ও অর্থ যোগানদাতাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।’
পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘এখন থেকে যেখানেই নাশকতা হবে সেখানে সংশ্লিষ্ট এলাকার তালিকাভূক্ত চিহ্নিত নাশকতাকারী ও ইন্ধনদাতাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন বলেন, ‘উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী বাকলিয়া থানা এলাকায় পাঁচটি ঝুকিপূর্ণ ও সহিংসপ্রবণ স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি নাশকতাকারী ও ইন্ধনদাতাদেরও তালিকা তৈরি করা হয়েছে।’
অন্য দুই থানা চকবাজারে চারটি এবং সদরঘাটে একটি ঝুঁকিপূর্ণ স্পট চিহ্নিতের পাশাপাশি নাশকতারীদের তালিকা নিয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন চকবাজার থানার ওসি আতিক আহমেদ ও সদরঘট থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ।

