নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের সঞ্চালন মাশুল ১৩ পয়সা হলেই কোম্পানি লাভজনক হয় সেখানে নেয়া হচ্ছে ৩২ পয়সা। কোম্পানির লাভ বাড়ছে, এফডিআর বাড়ছে, কর্মকর্তরা বেশি বেশি বোনাস পাচ্ছেন। তারপরও মাশুল আরো ১৫ পয়সা বাড়ানোর আবদার করছে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল)।
এমন আবদার নিয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) এসেছে কোম্পানিটি। সোমাবার এ আবেদনের ওপর গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এমন অযৌক্তিক আবদার নিয়ে আসায় স্বয়ং বিইআরসির চেয়ারম্যানও তাদের কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন। দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়ে শুনানিতে প্রশ্ন তুলেছেন উপস্থিত ভোক্তা প্রতিরিধিরা।
গণশুনানিতে জানা যায়, জিটিসিএল বর্তমানে লাভজনক। গত অর্থবছরে ৪২৫ কোটি টাকা লাভ করেছে। এসময় কোম্পানিটির নানা অনিয়ম ও অপব্যয়ের কথাও উঠেছে। লাভের টাকায় কোম্পানিটির ব্যাংকের স্থায়ী আমানত (এফডিআর) প্রতি বছর বাড়ছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এফডিআরের পরিমাণ ৯৪৪ কোটি টাকা। ২০১২-১৩ তে এর পরিমাণ ছিল ৮১৮ কোটি টাকা।
কোম্পানিটির কর্মকর্তা কর্মচারীরা সবাই (ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছাড়া) প্রতি বছর বোনাস হিসেবে প্রায় চার লাখ টাকা নিচ্ছেন। এছাড়া বার্ষিক সাধরণ সভার (এজিএম) নামে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে শুনানির সময় বিইআরসির চেয়ারম্যান এ আর খান জিটিসিএলের কর্মকর্তাদের সমালোচনা করেন।
তিনি তাদের লক্ষ্য করে বলেন, ‘নিজের পকেটের টাকায় কখনও শেরাটন হোটেলে খেয়েছেন? খাননি। তাহলে কোম্পানির এজিএম শেরাটনে করলেন কেন? ভোক্তার টাকায় উল্লাস করার অধিকার কে দিয়েছে আপনাকে!’
এছাড়া প্রত্যেক বোর্ড মিটিংয়ে উপস্থিতির জন্য বোর্ড সদস্যদের ৬ হাজার টাকা করে দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন জিটিসিএল পরিচালক (অর্থ) শরিফুর রহমান।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শুরু হওয়া শুনানিতে জিটিসিএলের পক্ষ থেকে প্রতি ঘনমিটারে হুইলিং চার্জ ৩২ পয়সা থেকে ১৫ পয়সা বাড়িয়ে ৪৭ পয়সা করার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। তবে বিইআরসি গঠিত কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি প্রস্তাব বিশ্লেষণ করে বলেছে, এই হুইলিং চার্জ প্রতি ঘনমিটারে ১৩ পয়সা হলেই জিটিসিএল লাভজনক থাকবে।
শুনানিতে আরো উঠে আসে, কোম্পানিটি বিইআরসির নির্দেশনা মানছে না। ২০০৯ সালে কমিশন হুইলিং চার্জ ২৯ পয়সা নির্ধারণ করে দিলেও জিটিসিএল ২০১০ সাল থেকে ৩২ পয়সা করে পাচ্ছে। এ বিষয়ে কমিশন অবহিত নয়। জিটিসিএলকে এ বিষয়ে জবাবদিহি করতে বলেছে কমিশন।
শুনানিতে ক্যাবের জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা শামসুল আলম বলেন, ‘ধারাবাহিকভাবে মুনাফা বাড়ছে। তাহলে কেন দাম বাড়াতে হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে জিটিসিএলের পক্ষ থেকে বলা হয়। আগামীতে অনেক বিনিয়োগ দরকার হবে তাই এই অর্থের প্রয়োজন।’
গণশুনানিতে আরো অংশ নেন বিইআরসির সদস্য ড. সেলিম মাহমুদ, প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন, মাকসুদুল হক ও রহমান মুরশেদ এবং জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক নুরুল ইসলাম, গণসংহতির প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকিসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা।

