নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসন ও কমিউটরদের স্বল্প সময়ে এবং নিরাপদ ভ্রমণে স্বপ্নের প্রকল্প মেট্রোরেলের নির্মাণ কাজের প্যাকেজ ৮ এর দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। গত শুক্রবার প্যাকেজ ৮ এর সম্ভাব্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে প্রাক যোগত্য যাচাইয়ের আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়।
রোববার সচিবালয়ে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সড়ক ও সেতুবিভাগের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের একথা জানান।
সেতামন্ত্রী জানান, প্যাকেজ ৮ এর আওতায় প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রোলিং স্টক এবং ডিপো ইকুইপমেন্ট ও ডিপো রোলিং স্টক সংগ্রহ করা হবে। এর আওতায় যাত্রা বিরতিতে ট্রেন রাখার স্থান, মেট্রো রেল প্ল্যান্ট, ওয়ার্কশপ, অপারেশন কন্ট্রোল সেন্টার, ইলেক্ট্রিক্যাল ভবন ওয়াশিং প্ল্যান্ট ট্রেনিং সেন্টারসহ অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। অর্থাৎ ২০১৫ সালের মধ্যে আটটি প্যাকেজের দরপত্র সম্পন্ন হবে।
২০১৯ সালের মধ্যে মেট্রো রেল চালু করা সম্ভব হবে বলেও জানান সেতুমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ২১ হাজার ৯২৫ দশমিক ০৭ কোটি টাকা। এতে বাংলাদেশ সরকার দেবে পাঁচ হাজার ৩৯০ দশমিক ৪৮ কোটি টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য পাওয়া যাবে ১৬ হাজার ৫৯৪ দশমিক ৫৯ কোটি টাকা। জাইকার সহযোগিতায় এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
মেট্রো রেল ৬ এর রুট হচ্ছে উত্তরা দ্বিতীয় ফেইস থেকে পল্লবী-রোকেয়া স্বরণীর পশ্চিম পাশ দিয়ে খামার বাড়ী হয়ে ফার্মগেট-হোটেল সোনারগাঁও-শাহবাগ-টিএসসি-দোয়েল চত্বর-প্রেস ক্লাব- বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত।
এই লাইনের স্টেশন সংখ্যা ষোলটি। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্টেশন হলো- উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার, পল্লবী মিরপুর ১০, কাজীপাড়া-শ্যাওরাপাড়া, আগারগাঁও, ফার্মগেট, শাহবাগ, টিএসসি, প্রেসক্লাব ও মতিঝিল। মেট্রো রেল-৬ এর দৈর্ঘ্য হবে ২০ দশমিক এক কিলোমিটার। ট্রেনের সংখ্যা ২৪ সেট।
মেট্রো রেলের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটিার। প্রতি ঘণ্টায় উভয় দিক থেকে ষাট হাজার যাত্রী পরিবহন করা যাবে। গত ২৬ ডিসেম্বর ২০১৪ জাতীয় সংসদে মেট্রোরেল আইন সংসদ পাস হয়।

