আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পেরুর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যেই পদত্যাগ করলেন ম্যানুয়েল মেরিনো। সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া দুই বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর পর রোববার পদত্যাগ করেন তিনি।
মেরিনোর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের এক সপ্তাহও পার হয়নি। মাত্র পাঁচদিন দায়িত্ব পালনের পরই পদত্যাগ করলেন এই অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট। সরকারবিরোধী বিক্ষোভে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ হস্তক্ষেপ করেছিল। এতে দু’জন নিহত এবং আরও ডজনখানেক আহত হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে করোনা মহামারিতে পেরুর অর্থনীতিতে ধস নেমে এসেছে। এর মধ্যেই সরকারবিরোধী বিক্ষোভের কারণে দেশজুড়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ আকার ধারণ করেছে।
এদিকে, মেরিনোর পদত্যাগের খবরে রোববার আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠে বিক্ষোভকারীরা। তারা পতাকা উড়িয়ে, স্লোগান দিয়ে মিছিল করেছে।
তবে দেশের সাম্প্রতিক এই রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বেশ উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হচ্ছেন সেই অপেক্ষায় আছেন দেশের জনগণ।
ক্লারিসা গোমেজ নামের এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘মেরিনো পদত্যাগ করেছেন কারণ তার হাত আমাদের সন্তানদের রক্তে রঞ্জিত হয়ে আছে।’ তিনি আরও বলেন, মেরিনোকে যারা ক্ষমতায় বসিয়েছেন তাদেরও পরিণতি ভোগ করতে হবে।
টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে সাবেক কংগ্রেস প্রধান মেরিনো তার মন্ত্রিসভাকে দায়িত্ব পালন করে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি পুরো দেশকে জানাতে চাই যে, আমি পদত্যাগ করছি।’ সে সময় তিনি শান্তি ও ঐক্যের ডাক দিয়েছেন।
গত মঙ্গলবার পেরুর অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মেরিনো। এর আগে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মার্টিন ভিজকারার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠলে তাকে অপসারণের পক্ষে রায় দেয় দেশটির বিরোধী দল নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস। তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভিজকারা।

