নিজস্ব প্রতিবেদক : সাংবাদিকসহ সবার সহযোগিতায় সন্তোষ প্রকাশ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিলেন মোহাম্মদ শফিউল আলম।
সোমবার সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকের পর দুপরে সচিবালয়ে এ পদে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে শেষ দিন ব্রিফ করেন তিনি।
মন্ত্রিসভার বৈঠকেও সচিব হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের কাছ থেকে বিদায় নেন মোহাম্মদ শফিউল আলম। এসময় মন্ত্রিসভা তাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
আজই তিনি ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদমর্যাদায় তিনি ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বিকল্প নির্বাহী পরিচালক পদে যোগ দেবেন।
দুপুরে সচিবালয়ে বিদায়ী সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনাদের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করেছি, স্বাচ্ছন্দবোধ করেছি। কাজ করতে গিয়ে কখনো মনে হয়নি আপনারা প্রাইভেট সেক্টরে কাজ করেন আর আমরা সরকারি সেক্টরে কাজ করি। সবাই মিলে সবসময়ই কাজ করেছি, সবার সহযোগিতা পেয়েছি।’
বিদায়ী মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আমি আজকে আমার কেবিনেট সেক্রেটারি হিসেবে ঠিক চার বছর পূর্ণ করলাম। ২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর শুরু করেছিলাম, আজকে ২৮ অক্টোবরে চার বছর হলো। সবার দোয়ায় আমি আজকেই পরবর্তী দায়িত্ব পালনের জন্য ওয়াশিংটনে রওনা দিচ্ছি।’
শফিউল আলম বলেন, ‘এরপরেও যদি আমাদের তরফ থেকে কোনও ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে থাকে, তাহলে আপনারা নিজ গুনে ক্ষমা করবেন। আমার জন্য দোয়া করবেন, আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন।’
মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে চার বছর দায়িত্ব পালন করে সন্তুষ্টির কথাও জানান মোহাম্মদ শফিউল আলম।
তিনি বলেন, ‘আমার দায়িত্ব পালনকালে অনেকগুলো অর্জন আছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে আমাদের এই অর্জনের জন্য স্যাটিসফাইট। আমাদের একটা বড় অর্জন হলো, আমরা দিনের কাজ দিনে শেষ করেছি। যেমন ধরেন, আজকে কেবিনেট মিটিং আজকে প্রসেডিং শেষ করে দেব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সইয়ের পর সবকিছু আজকেই চূড়ান্ত শেষ হবে।’
‘আর ডকুমেন্ট যদি বেশি বড় হয়, সেক্ষেত্রে আমরা রাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়ে দিই। শুধুমাত্র ক্যাবিনেট মিটিং নয়, পার্সেস কমিটিসহ সব কমিটি এবং অন্যান্য মন্ত্রিসভা কমিটির ক্ষেত্রেও এই নিয়ম অনুসরণ করেছি। আমাদের নিজস্ব মিটিংগুলোর ক্ষেত্রে সমন্বয় সভা, বিভাগীয় কমিশনারদের সভা হয়তো আমরা সকাল ১০ টায় মিটিং করলাম, বারোটা-একটার মধ্যে রেজুলেশন সই করে শেষ করে দেই’- উল্লেখ করেন শফিউল আলম।
তিনি বলেন, ‘আমরা ভালো একটা চর্চা অব্যাহত রেখেছি এবং এই কাজের প্রতি আমরা নিজেরা সেটিসফাইড, এটা কখনো পেন্ডিং থাকে নি।’
মোহাম্মদ শফিউল আলমের জায়গায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন সেতু বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

