নিউজ ডেস্ক : সহজে ব্যবসা করা (ডুয়িং বিজনেস) সূচকে বাংলাদেশ আট ধাপ এগিয়েছে। ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৬৮তম। গত বছর বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৭৬তম।
বিশ্বব্যাংকের ইজি অব ডুয়িং বিজনেস-২০২০ বা সহজে ব্যবসা করার সূচক নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশে ব্যবসার পরিবেশের এই চিত্র পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন থেকে সারা বিশ্বে একযোগে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে এসব বিষয় উঠে এসেছে।
কোনো দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের নিয়ম-কানুন ও তার বাস্তবায়ন কতটুকু সহজ বা কঠিন তার ওপর বিশ্বব্যাংক এই সূচক তৈরি করে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি মিয়াঙ টেমবন বলেন, ‘বেসরকারী খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশের ব্যবসায়ের পরিবেশ উন্নত করা অপরিহার্য। যা আরো বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়িয়ে তুলতে সহায়ক হবে।’
মোট ১০টি ভিত্তির ওপরে বিশ্বব্যাংক ডুয়িং বিজনেসের ধাপ নির্ধারণ করে। এগুলো হলো ব্যবসা শুরুর অনুমোদন, ভবন নির্মাণের অনুমতি, বিদ্যুৎসংযোগ, সম্পত্তি নিবন্ধন, ঋণপ্রাপ্তি, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা, কর প্রদান, বৈদেশিক বাণিজ্য, চুক্তির বাস্তবায়ন ও দেউলিয়া ঘোষণার প্রক্রিয়া। কোনো কোনো মানদণ্ডে আগের চেয়ে বাংলাদেশের এবার অনেকটা এগিয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ১৬৮তম। ভবন নির্মাণের অনুমতি ও ব্যবসা শুরুর অনুমোদনের ক্ষেত্রে ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৫তম, গতবছর এই অবস্থান ছিল ১৩৮তম।
বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রে ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৬তম। জমির নিবন্ধনে ১৮৪তম স্থানে বাংলাদেশ, গত বছর ছিল ১৮৩তম।
ঋণপ্রাপ্তিতে ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১৯তম, গতবছর ছিল ১৬১তম। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৭২তম, গত বছর ছিল ৮৯তম। কর প্রদানে বাংলাদেশ ১৫১তম, আগের বছরও একই অবস্থানে ছিল। বৈদেশিক বাণিজ্যে গতবারের মতো এবারো ১৭৬তম অবস্থানে আছে। দেউলিয়া ঘোষণার প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ১৫৪তম অবস্থানে আছে। এছাড়া চুক্তি বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮৯তম।
সারা বিশ্বে ব্যবসা করার জন্য সবচেয়ে ভালো দেশ হলো নিউজিল্যান্ড। দেশটি এবারো শীর্ষস্থানে আছে। এরপর আছে সিঙ্গাপুর। তৃতীয় স্থানে আছে হংকং।
এ সূচকটি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে গণ্য করা হয়। সরকার ২০২১ সালের মধ্যে এ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান দুই অঙ্কে বা কমপক্ষে ৯৯তম অবস্থানে নিয়ে আসার লক্ষ্য ঠিক করেছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার জন্য কর্মপরিকল্পনা ঠিক করেছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। সে অনুযায়ী আইন, বিধি ও প্রক্রিয়ায় সংস্কার চলছে।
এদিকে, গত মাসে এ বছর ‘ডুয়িং বিজনেস’ সূচকে বেশি উন্নতি করবে এমন ২০টি দেশের তালিকা প্রকাশ করেছিল বিশ্ব ব্যাংক। ওই তালিকাতেও ছিল বাংলাদেশ। কোনো দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের নিয়মকানুন ও তার বাস্তবায়ন কতটুকু সহজ বা কঠিন তার ওপর বিশ্ব ব্যাংক এ তালিকা তৈরি করে। এতে দেখা গেছে, এবার আগের চেয়ে উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের।
বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত সংস্কারের এগিয়ে থাকা তালিকায় ২০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও রয়েছে ভারত, চীন, আজারবাইজান, বাহরাইন, জর্ডান, কেনিয়া, মিয়ানমার, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, কুয়েত, কসোভো, দিজিবুতি, টোগো, উজবেকিস্তান, তাজাকিস্তান, নাইজেরিয়া, কিরগিজ রিপাবলিক ও জিম্বাবুয়ে।
এ বিষয়ে এক সংক্ষিপ্তসারে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসা শুরু, বিদ্যুৎ সংযোগ এবং ঋণপ্রাপ্তিকে সহজ করেছে।
নতুন কোম্পানি নিবন্ধনের খরচ কমেছে। ডিজিটাল সনদ ফি বাতিল করা হয়েছে। ঢাকায় নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রে জামানত অর্ধেক করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ তথ্য ব্যুরো তার তথ্য সংরক্ষণের আওতা বাড়িয়েছে এবং যে কোনো অঙ্কের ঋণের উপাত্ত সংরক্ষণ করছে।
১০টি নির্দেশক বা মানদণ্ডের ভিত্তিতে ডুয়িং বিজনেস স্কোর গণনা করে বিশ্বব্যাংক। গত বছর ৬টি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান পিছিয়ে যায়। এগুলো হচ্ছে- ব্যবসা শুরু করা, নির্মাণ কাজের অনুমোদন, ঋণপ্রাপ্তি, ক্ষুদ্র শেয়ারধারী বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা, দেউলিয়াত্ব ঠেকানো ও সীমান্ত বাণিজ্য। অন্যদিকে বিদ্যুৎ সংযোগ, সম্পত্তি নিবন্ধন ও কর প্রদান মানদণ্ডে উন্নতি হয়। এছাড়া ব্যবসায়িক চুক্তি কার্যকর বিষয়ে একই অবস্থানে আছে।

