নিজস্ব প্রতিবেদক : সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশই বেশি লাভবান হয়েছে বলে জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘যদি ন্যায্য অধিকার আদায় করে থাকি আমি শেখ হাসিনাই করেছি। লাভ লোকসান হিসাব করলে বাংলাদেশেরই লাভ বেশি।’
শনিবার রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে মহিলা শ্রমিক লীগের সম্মেলন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ফেনী নদীর পানি বন্টন সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্ডার এলাকার নদী মানে নদীতে ভারত এবং বাংলাদেশের সমান অংশীদার। সেখান থেকে তারা একটু খাবার পানি নেবে। সেইটা নিয়েই না কী নদী বেঁচে দিলাম। খুব আন্দোলন, স্লোগান, বক্তৃতা। একটা মানুষ যদি পান করার জন্য পানি চায়, দুশমন হলেও তো মানুষ তাকে পানি দেয়।’
‘সেটার জন্য এত কান্নাকাটি করার কী আছে? যারা এত কাঁদছেন তাদের জিজ্ঞেস করি, গঙ্গার পানি আনবার কথা, খালেদা জিয়া দিল্লি যেয়ে সেটা ভুলে গেল। কেউ তো আনলো না। তিস্তায় ব্যারেজ দিল ইন্ডিয়ারে শিক্ষা দিবে। এখন শিক্ষা দেওয়ার পরিবর্তে পানি ভিক্ষা চাইতে হচ্ছে। এই ছিল এরশাদের নীতি’, বলেন তিনি।
ভারতে এলপিজি রপ্তানির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের আমদানি করে আনা এবং দেশে উৎপাদিত কিছু এলপিজি বোতলজাত করে রপ্তানি করবো। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রপ্তানির একটা পণ্য বাড়ছে। আর দেশের চাহিদা মেটানোর জন্য অনেকগুলো কোম্পানি কাজ করছে।’
বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিছু হলেই বলে এই সরকার ভোটের মাধ্যমে আসেনি। ভোটেই যদি নির্বাচিত না হতাম, বিরোধী দল এতদিন টেনে নামিয়ে দিতো। খালেদা জিয়া ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটার বিহীন ভোট করেছিল। জনগণ ভোট দেয় নাই। সারা দেশে আর্মি নামিয়ে এবং সমস্ত এজেন্সি দিয়ে ফলাফল ঘোষণা করলো যে সে তৃতীয়বারের প্রধানমন্ত্রী। সেই তৃতীয়বারের প্রধানমন্ত্রী কত দিন ক্ষমতায় ছিল? দেড় মাস, দুই মাসও ক্ষমতায় থাকতে পারে নাই।’
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবির প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘তারা তো নির্বাচনে একটা বাণিজ্য করেছিল। এক সিট বিক্রি করেছে তিনজনের কাছে। তিনজন টাকা খাইছে। কেউ লন্ডনে টাকা নিছে, কেউ নিছে গুলশান অফিস থেকে। কেউ নিছে পল্টন অফিস থেকে।’
বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অন্যায়কারীকে অন্যায়কারী হিসেবে দেখি, অত্যাচারীকে অত্যাচারী হিসেবেই দেখি। কোনও অন্যায় অবিচার সহ্য করিনি, ভবিষ্যতেও করবো না। বুয়েটের ঘটনা শোনার পরপরই আমি পুলিশকে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। তবে তারা বুয়েটে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করার সময় বাধার মুখে পড়ে। এটা কেন জানি না।’
প্রধানমন্ত্রী পরে মহিলা শ্রমিক লীগের সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এ সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সংগঠনের সভাপতি রওশন জাহান সাথী, সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শামসুন্নাহার বেগমসহ আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

