
ডিজিএম মো. মহিউদ্দিন মোশাহেদুল্লাহ
নিজস্ব প্রতিবেদক : নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা ভোগ করছেন নরসিংদী জেলার মাধবদীবাসী। গ্রাহকদের সন্তুষ্টি অর্জনে শতভাগ সফলতা অর্জন করতে যাচ্ছে নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১। যার সদর দপ্তর নরসিংদীর মাধবদীতে অবস্থিত। নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা মাধবদী জোনাল অফিস। বাংলাদেশের কাপড় ব্যবসায়ীদের কাছে সুপরিচিত একটি এলাকা বাবুরহাট। এই প্রসিদ্ধ বাবুরহাট এলাকাটি মাধবদীতে অবস্থিত। এখানে আমানত শাহ লুঙ্গী, পাকিজা প্রিন্ট শাড়ি, মোশাররফ স্পিনিং মিলসহ বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এছাড়া মাঝারি এবং অসংখ্য ছোট বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানও গড়ে উঠেছে। যা সম্ভব হয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কল্যাণে।
মাধবদী জোনাল অফিসের আওতায় সর্বমোট গ্রাহক সংখ্যা ৬১ হাজার ৭শ’ ৪৫ জন। এর মধ্যে শিল্প গ্রাহক ২ হাজার ৯শ’ ৮১, বাণিজ্যিক গ্রাহক ৭ হাজার ৮শ’, আবাসিক গ্রাহক ৫০ হাজার ৫শ’, সেচ গ্রাহক ৩শ’ ৩, লাইনের পরিমাণ ৫৩১.৬৫ কিলোমিটার, সাব স্টেশন ৪টি। এছাড়াও ১টি সাব স্টেশন নির্মাণাধীন অবস্থায় রয়েছে। যা অতি শীঘ্রই চালু হওয়ার অপেক্ষায় আছে। অপরদিকে দাতব্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয় মিলে রয়েছে ১৬১টি সংযোগ। মাধবদী জোনাল অফিসে ঢুকেই প্রথমে গ্রাহকদের নজরে আসবে হয়রানিমুক্ত বিদ্যুতের অঙ্গীকার । এরপর যা নজরে আসবে তা হলো আমি ও আমার অফিস দুর্নীতিমুক্ত। বলতে গেলে শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত একটি জোনাল অফিসে পরিণত করা সম্ভব হয়েছে মাধবদী পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসকে। গতকাল মাধবদী পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিস পরিদর্শনে গিয়ে এমন চিত্র নজরে আসে। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মঈন উদ্দিন (অব.) এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মাধবদী জোনাল অফিসসহ সমগ্র দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সদর দপ্তর, জোনাল অফিস, এরিয়া অফিস, অভিযোগ কেন্দ্র অনেকটাই এখন দুর্নীতিমুক্ত। ইতোমধ্যে দুর্নীতির অভিযোগে কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারি চাকরিচ্যুত হওয়ার কারণে দুর্নীতি শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। মাঠ পর্যায়ে এক শ্রেণীর দালাল/মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের কারণে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড তথা এর আওতাধীন ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভাবমূর্তি এখনও কিছুটা সংকটে রয়েছে। তবে এ জাতীয় দুর্নীতি অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। তবে মাধবদী জোনাল অফিস পুরোপুরি দালালমুক্ত সম্ভব হয়েছে আরইবি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মঈন উদ্দিন (অব.) এর দিকনির্দেশনামূলক কঠোর পদক্ষেপের কারণে। এখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. মহিউদ্দিন মোশাহেদুল্লাহর বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতায় সকল কর্মকর্তা-কর্মচারি মিলে মাধবদী পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসকে সেবাবান্ধব/গ্রাহকবান্ধব/জনবান্ধব অফিসে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছেন। শতভাগ বিদ্যুতায়নের ফলে গ্রাহকরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা ভোগ করছেন। আবাসিক গ্রাহকদের পাশাপাশি শিল্প, বাণিজ্যিক এবং সেচ গ্রাহকদের মাঝে ব্যাপ স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে। সকল গ্রাহকদের দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার ফলে দালালরা আতংকে সটকে পড়েছে। এদিকে শিল্প গ্রাহকদের ডিমান্ড নোট ইস্যু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মোবাইলে জানিয়ে দেওয়া হয়। যাতে পথিমধ্যে আবার ঐ গ্রাহক দালালদের খপ্পরে না পড়েন। এছাড়া গ্রাহকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের জন্য সম্প্রতি উঠান বৈঠকের মত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোপূর্বে গ্রাহকদের সচেতনতার লক্ষ্যে দুর্নীতিবিরোধী পোস্টার, হ্যান্ডবিল, মাইকিং, সভা, সেমিনারসহ নানামুখি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। বর্তমানে ১৬৫ টাকায় নতুন সংযোগ পাচ্ছেন একজন গ্রাহক। সদস্য ফি ৫০ টাকা, আবেদন ১০০ টাকা এবং ভ্যাট ১৫ শতাংশ। প্রি-পেমেন্ট মিটার জামানত ছাড়াই সর্বোচ্চ ৩ দিনের মধ্যে সংযোগ পেয়ে যান একজন গ্রাহক। আরইবি’র নতুন সার্কুলারে ৫০ কিলোওয়াট পর্যন্ত ট্রান্সফরমার ফ্রি। মাধবদী জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. মহিউদ্দিন মোশাহেদুল্লাহ দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, যত বাধাই আসুক দালালমুক্ত করেই আমরা গ্রাহকদের সেবা প্রদানে অঙ্গীকারাবদ্ধ। আমি ও আমার অফিস দুর্নীতিমুক্ত। তিনি ১৯৯৯ সালে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম (সদস্য সেবা) হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। বাগেরহাট পবিস, ময়মনসিংহ পবিস-৩, কুমিল্লা পবিস-২ এ এজিএম হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। এরপর কুমিল্লা পবিস-১, ফেনী পবিস এবং নরসিংদী পবিস-১ এ ডিজিএম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মহিউদ্দিন মোশাহেদুল্লা ফেনী পবিস-৩ এ থাকাকালীন জাতীয় বিদ্যুৎ সপ্তাহে সেরা কর্মকর্তা নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে কুমিল্লা পবিস-১ এ চাকরিকালীন সময়ও সেরা কর্মকর্তা নির্বাচিত হন।

