ঢাকাWednesday , 25 September 2019
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মশার ওষুধ কিনতে উত্তরের চেয়ে দক্ষিণে ৪০ শতাংশ খরচ বেশি

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক : ডেঙ্গু মশা নিধনে একই ওষুধ কেনার ক্ষেত্রে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশের চেয়ে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ৪০ শতাংশ বেশি টাকা খরচ করেছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
বুধবার সকাল ১১টায় রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে টিআইবির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ‌্য জানানো হয়। এ সময় ‘ঢাকা শহরে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের চ‌্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ডাকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের মাধ্যমে লিমিট অ‌্যাগ্রো প্রোডাক্টের কাছ থেকে প্রতি লিটার কীটনাশক ৩৭৮ টাকায় সরাসরি কেনার কার্যাদেশ দেয়। একই প্রতিষ্ঠান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উন্মুক্ত দরপত্রে প্রতি লিটার কীটনাশক ২১৭ টাকায় দেয়ার প্রস্তাব করে। এ হিসেবে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ক্ষতি হয়েছে লিটারপ্রতি ১৬১ টাকা। অর্থাৎ ৪০ শতাংশ বেশি আর্থিক ক্ষতি করে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কীটনাশক কিনেছে।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ডেঙ্গু একটি বৈশ্বিক সমস্যা। বাংলাদেশও এ সমস‌্যা আছে। কিন্তু এটি জরুরিভাবে মোকাবিলায় যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সরকারি ও বেসরকারিভাবে যেসব প্রতিবেদন দেয়া হয়েছিল ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এগুলো অবজ্ঞা করেছে। রাজনৈতিক স্বার্থে এডিস মশা নির্মূল কার্যক্রম জিম্মি হয়ে পড়েছিল। কারণ, নির্বাচনের সময় আইসিডিডিআরবির গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করতে দেয়া হয়নি। কলকাতা ও সিঙ্গাপুরে যেভাবে এডিস মশা নির্মূলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল সেগুলো অনুসরণ না করে অবজ্ঞা করা হয়েছে। এডিস মশা নির্মূলে তুলনামূলক বেশি কার্যকর লার্ভাসাইড ব্যবহার না করে অকার্যকর অ্যাডাল্টিসাইড ব্যবহার করা হয়েছে। ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে কীটনাশকের কার্যকারিতা প্রমাণ করে দেয়া হয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ে সিটি করপোরেশনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় জেলা পর্যায়ে এটি ছড়িয়ে পড়েছে।
টিআইবি জানায়, তারা গুণগত পদ্ধতিতে এ গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। এটি করতে তারা এক মাস সময় নিয়েছেন।
পূর্বাভাস দেয়া হয়নি : টিআইবি বলছে, প্রাক বর্ষা মৌসুমে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব ছিল ২১ শতাংশ এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ছিল ২৬ শতাংশ। অথচ ২০ শতাংশের বেশি এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি থাকলে ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়।
২০১৮ সালেও দুই সিটিতে এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব গড় ২০ শতাংশের বেশি ছিল। এটি ক্ষতিকর মাত্রার চেয়ে বেশি বলে তাদের অবহিত করেছিল আইসিডিডিআরবি। কিন্তু নির্বাচনের কারণে তাদেরকে এ গবেষণা প্রকাশে নিষেধ করা হয়।
৩১ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকার ১৯টি স্থানে জরিপ চালিয়ে ৮০ শতাংশের বেশি এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। জরিপ শুধু ঢাকা শহরকেন্দ্রিক হওয়ায় অন্য জেলাগুলোতে সতর্কবার্তা বা পূর্বাভাস জানানো হয়নি।
অকার্যকর কীটনাশক : আইসিডিডিআরবির গবেষণা অনুযায়ী, এডিস ও কিউলেক্স মশার মধ্যে অতিমাত্রার কীটনাশক প্রতিরোধ ক্ষমতা দেখা যায়। এক্ষেত্রে কার্যকর ওষুধ হিসেবে বেন্ডিওকার্ব ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়। যেহেতু এ ওষুধের নিবন্ধন বাংলাদেশে নেই, সেহেতু তারা পরে ম্যালাথিউন ব্যবহারের পরামর্শ দেন। কিন্তু দুই সিটি করপোরেশন দুর্বল পারমিথ্রিন ব্যবহার করেছে।
অসম্পূর্ণ জরিপ ও ডেঙ্গুকে গুজব আখ্যা দেয়া : ঢাকায় শুধু বেসরকারি হাসপাতালই ছয় শতাধিক। রোগ নির্ণয়কেন্দ্রের সংখ্যা ১ হাজার। কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শুধু ৪০টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের তথ্য সংগ্রহ করেছে। গুটিকয়েক হাসপাতালের খণ্ডিত পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে অন্যান্য দেশের তুলনায় দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের হারের তুলনামূলক চিত্র দিয়ে পরিস্থিতির ভয়াবহতা কম দেখানো হয়েছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত ডেঙ্গুর ভয়াবহতাকে গুরুত্ব না দিয়ে সিটি করপোরেশনসহ সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা একে গুজব বলে অবিহিত করেন।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে দুই সিটি করপোরেশনের এলাকাভিত্তিক বা আঞ্চলিক কোনো পরিকল্পনা ছিল না। দুই সিটি করপোরেশনের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব ছিল।
কীটনাশক ও উপকরণ ক্রয়ে দুর্নীতি : কীটনাশক কেনার ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। বার্ষিক পরিকল্পনাতেও অনিয়ম ছিল। কীটনাশক কেনার আগে মাঠ পর্যায়ে পরীক্ষায় অনিয়ম ও সীমাবদ্ধতা দেখা গেছে। কীটনাশক কেনার কার্যাদেশ দেয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম দেখা গেছে। মশক নিধন কার্যক্রমে অনিয়ম হয়েছে। এছাড়া কীটনাশক নিবন্ধনে অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র পেয়েছে টিআইবি।